About Me

header ads

বিপ্লব-বিরোধীদের বৈঠকে উপমুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতি ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে!

ডেস্কও ওয়েব ডেস্কঃ নেতৃত্ব বদলের দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে ত্রিপুরা বিজেপিতে। দিল্লিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের অপসারণের দাবি জানিয়ে আসা বিজেপি বিধায়কদের বৈঠকে উপমুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতি তারই বার্তা দিল এ বার।
বিধায়ক রামপ্রসাদের বাড়িতে গত কাল বিজয়া সম্মিলনীর আয়োজন করা হয়েছিল। উপমুখ্যমন্ত্রী জিষ্ণুকুমার দেববর্মণ-সহ দলের ১৮ জন বিধায়ক মিলিত হন সেখানে। সামাজিক অনুষ্ঠান হলেও রাজ্যের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সেখানে আলোচনা হয়েছে। এক বিধায়ক আজ বলেছেন, নেতৃত্বে বদল এনে কী ভাবে দল ও সরকারকে মজবুত করা যাবে এটাই ছিল মূল আলোচ্য। এই দাবি জানাতে আমরা যে সমস্ত বিধায়ক ও নেতা দিল্লিতে গিয়েছিলাম, গত কালের বৈঠকে সকলেই উপস্থিত ছিলাম। দলের আর এক প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি নীলমণি দেব এবং আরও কয়েক জন বিধায়ক ভার্চুয়াল মাধ্যমে বৈঠকে যোগ দেন।
কটাক্ষের সুরে বিজেপির ওই বিধায়ক বলেন, আমাদের দিল্লি অভিযানের সময় রাজ্যের কিছু চুনোপুঁটি নেতা হুমকি দিয়েছিলেন, দল থেকে বহিষ্কার করা হবে। আমাদের পাল্লা ভারী হচ্ছে দেখে তাঁরা এখন হতাশায় ভুগছেন। তাঁর দাবি, অনেক মন্ত্রীও এখন বুঝতে পারছেন, রাজ্যবাসীর কাছে দলের ভাবমূর্তি ঠিক রাখতে হলে দলের পরিবর্তনকামী অংশের সঙ্গেই থাকতে হবে। তাই তাঁরাও সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে শুরু করেছেন।
কালকের বৈঠকটিকে বিশেষতাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে জিষ্ণুকুমারের উপস্থিতি ও বক্তব্য। সম্প্রতি জনজাতি নেতাদের নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লবের বিজয়া সম্মিলনী অনুষ্ঠানে তিনি যাননি। জানিয়েছিলেন, শরীর খারাপ। এতে গত কদিন ধরে রাজনীতির জগতে জল্পনা চলছিল। গত কালের বৈঠকটি স্পষ্ট করে দিল, উপমুখ্যমন্ত্রী রয়েছেন বিপ্লব-বিরোধী শিবিরেই। সূত্রের খবর, পরোক্ষে মুখ্যমন্ত্রীকে হুঁশিয়ারি দেওয়ার সুরে জিষ্ণুকুমার বলেছেন, তাঁকে মনে রাখতে হবে, কারও তাবিদারিতে বিজেপি চলে না। নাম জানাতে অনিচ্ছুক বিধায়কেরা জানিয়েছেন, জিষ্ণুকুমার বলেছেন, বিজেপি গণতান্ত্রিক দল। এখানে ব্যক্তিকেন্দ্রিক কিছুই নয়, সংগঠনই বড় কথা। সংগঠন নিয়ে গঠনমূলক চিন্তাভাবনা জানালে, দল থেকে বহিষ্কারের চিন্তাভাবনা করা ভুল।
প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি রণজয়কুমার দেবের নেতৃত্বে রাজ্য বিজেপির নেতারা দিল্লিতে সভাপতি জয়প্রকাশ নড্ডা ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ, দলের সাধারণ সম্পাদক অরুণ সিংহের সঙ্গে দেখা করেছেন কিছু দিন আগে। ফিরে তাঁরা জানান, দলের শীর্ষ নেতারা রাজ্যের পরিস্থিতি অনুধাবন করতে পেরেছেন। তাঁরা উপযুক্ত পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য