About Me

header ads

রাজ্যের উওর জেলায় মুক্তিযোদ্ধাদের তিনটি কবর চিহ্নিত!

 

ডেস্কও ওয়েব ডেস্কঃ মুক্তিযোদ্ধা! নামে মিশে আছে রক্ত, নামে মিশে আছে তেজ-স্বাধীনতা! বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসের শ্রেষ্ঠতম অধ্যায় হলো একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ। এই মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে জন্মলাভ করে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ।

৭১এর মহান মুক্তিসংগ্রামে যে যোদ্ধারা ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন, সেই শহিদদের কবর ভারত-বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। যোদ্ধা শহিদদের অধিকাংশই সন্ধান করা হচ্ছে না। শুধু তাই নয় ভারত-বাংলাদেশ দুই সরকারের কোন সরকারের পক্ষ থেকেই শহিদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়নি। এ অবস্থায় তিন মুক্তিযোদ্ধার কবর খুঁজে পাওয়া গিয়েছে একজন স্থানীয় শিক্ষকের উদ্যোগে। তিনি উত্তর ত্রিপুরার ২ নম্বর ওয়ার্ডের আওতাধীন চল্লিশড্রোন গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা। এই শিক্ষকের মহৎ উদ্যোগে তিন বীর শহীদের কবর পাওয়া গেছে।

তিন শহীদদের মধ্যে একজন হচ্ছেন, মোকমেদ আলি। রেজিস্ট্রেশন নম্বর ৩৯৪০০৮৮। তিনি ১২-১০-১৯৭১ সালে শহীদ হয়েছিলেন। তিনি বাংলাদেশ চতুর্থ রেজিমেন্ট মিলিটারিতে কর্মরত ছিলেন। শহীদ মোকমেদ ডাকঘর গোয়ালপাড়ার আওতাধীন কুমিল্লা জেলার কিসমত নোয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। দ্বিতীয় শহীদ ছিলেন মোঃ জামাল উদ্দিন। তাঁর রেজিঃ নম্বর ৩৯৫০০১৭। তিনি কুমিল্লা জেলার পারারবন গ্রামের বাসিন্দা। তিনি চতুর্থ বেঙ্গল রেজিমেন্ট বাংলাদেশ সামরিক বাহিনীরও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। শহীদ জামাল ১৭-১০-৭১ এ শহীদ হন। তৃতীয় শহীদ হলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৪ র্থ বেঙ্গল রেজিমেন্টের লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইমাদুল হক। তিনিও ১৭-১০-৭১ শহীদ হন। ওই এলাকায় আরও দু'জন শহীদের কবর রয়েছে।

এই তথ্য সরবরাহকারী শিক্ষক আবদুল ছাবুর বলেন, ৫০ বছর পেরিয়ে গেলেও দু'দেশের প্রশাসন বা তাদের আত্মীয়স্বজন কর্তৃক শহীদ জওয়ানদের সম্মান দেওয়া হয়নি। ১৯৭১ সালে উত্তর পূর্ব ভারতের পাঁচটি সেক্টরে যুদ্ধ চলেছিল আর মুক্তিবাহিনীর সদস্যরা ছয়-সাতটি শিবিরে থাকতেন বলে জানা যায়। ভারত বাংলাদেশ সীমান্ত জুড়ে যেখানেই মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল, সেখানেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে মুক্তিযোদ্ধাদের কবর। কিছু কিছু কবর খুঁজে পাওয়া গেলেও এখনও পর্যন্ত বেশিরভাগ কবরেরই কোনও খোঁজ নেই।

সরকারি প্রচেষ্টা ছাড়াও মুক্তিযোদ্ধাদের কয়েকজন ব্যক্তিগত উদ্যোগেও মৃত সহযোদ্ধাদের কবর খুঁজে বার করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এর মধ্যে শিক্ষক আব্দুলের মতোও মানুষরাও আছেন। অতএব, এই সংবাদের উদ্দেশ্য হলো, বাংলাদেশ সরকার অথবা শহীদদের স্বজনরা যদি কেউ বেঁচে থাকেন, তবে তাঁরা যেন ভারত সরকারের সহযোগিতায় বীর শহীদদের আত্মত্যাগের সঠিক মর্যাদা দিতে সক্ষম হতে পারেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য