About Me

header ads

কোভিডে মারা গেলে আর কোন সুবিধা দেবে না রাজ্য সরকার!

ডেস্কও ওয়েব ডেস্কঃ মুখ্যমন্ত্রী এর আগে ঘোষণা করেছিলেন যে রাজ্যে কোভিড-১৯ এ যারা মারা গিয়েছেন, তাঁদের পরিবারের হাতে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দশ লক্ষ টাকা সরকার দেবে। মুখ্যমন্ত্রী নিজেই এ বছর ৭মে এটি ঘোষণা করেছিলেন।
এখন এই নিয়ম পাল্টে নতুন গাইডলাইন আনা হয়েছে। অর্থাৎ দশ লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণ কে পাবেন সে সম্পর্কে রাজ্য সরকার নির্দেশিকা ঘোষণা করেছে। গাইডলাইন অনুসারে, চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে যারা মারা যান, তাঁদের পরিবার কেবল এই ক্ষতিপূরণ পাওয়ার যোগ্য।
গাইডলাইনে উল্লেখ করা হয়েছে যে এ বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে কোভিডে যারা মারা যান, তাঁরাই শুধু এই সুবিধা পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। ফলস্বরূপ, ৩১ ডিসেম্বরের পরে যদি কেউ কোভিডে মারা যান, তবে সরকারের কথা অনুযায়ী, তাঁর পরিবার কোন সুবিধা পাবে না। গাইডলাইন অনুযায়ী, কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারের কর্মীদেরও এই সুবিধা দেয়া হবে না। বলা বাহুল্য, স্বাস্থ্য কর্মীরাও এই সুবিধা থেকে বাদ পড়েছেন।
যদি কেউ ত্রিপুরায় করোনায় মারা যান, কিন্তু দেখা গেল তিনি ত্রিপুরার বাইরের স্থায়ী বাসিন্দা, অন্যদিকে, করোনা আক্রান্ত হয়ে ত্রিপুরার ব্যক্তি যদি ত্রিপুরার বাইরে মারা যান তবে এই দুই ক্ষেত্রেই তাঁদের আর্থিক সহায়তা দেয়া হবে না। ত্রিপুরার স্বাস্থ্য বিভাগের একজন কর্মী শিলচর মেডিকেল কলেজে মারা গিয়েছেন। এই পরিবারটিও মনে করা হচ্ছে, সরকারের গাইডলাইন অনুযায়ী কোন সাহায্য পাবেন না। যেহেতু তিনি রাজ্যের বাইরে মারা গেছেন।
সরকারের নির্দেশিকা অনুসারে, মৃত্যুর মূল কারণ যদি কোভিড হয় তবে সেই পরিবারকে কেবলমাত্র দশ লক্ষ টাকা দেওয়া যেতে পারে। তবে এক্ষেত্রে বিষয়টি এত সহজ নয়।অনেকেই বলছেন যে, যারা মারা গেছেন, তাঁদের পরিবারের সদস্যদের ডেথ সার্টিফিকেটে মৃত্যুর কারণ উল্লেখ নেই। সেক্ষেত্রে এই লোকেরা সরকারী সাহায্য পেলে কী হবে, সে বিষয়ে কোনও উল্লেখ নেই।
অগ্রাধিকারের হোমস, এএআই কার্ডধারীরা এক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন। অন্যদিকে, ত্রিপুরা সরকার প্রধানমন্ত্রীর দরিদ্র কল্যাণ প্যাকেজের আওতায় থাকা জনগণকে সরকারি সাহায্য দেবেন না। এই প্যাকেজটি মূলত সেই স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্যে যারা করোনা নিয়ে কাজ করছেন। এই দশ লক্ষ টাকার মধ্যে ৬ লক্ষ টাকা মুখ্যমন্ত্রী ত্রাণ তহবিল থেকে দেওয়া হবে। ডিএমরা এই টাকা দুটি কিস্তিতে দেবেন। বাকি চার লক্ষ টাকা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার জন্যে রাজ্য তহবিল থেকে দেয়া হবে।
প্রসঙ্গত বলা বাহুল্য, গত ছয় মাস আগে, মুখ্যমন্ত্রী যখন সরকারি সাহায্যের কথা ঘোষণা করেছিলেন, তখন তিনি জানান যে, রাজ্যের কেউ করোনায় মারা গেলে পরিবারের হাতে দেয়া হবে টাকা। কিন্তু এখন আর সেসব নেই। এখনও পর্যন্ত ত্রিপুরায় কোভিডে মারা গেছেন ৩২৯ জন। অনেকের ধারণা, সরকার ঘোষিত এই নির্দেশিকা অনুযায়ী বহু পরিবার সরকারী সহায়তা পাবে না। ১০ লক্ষ টাকা মৃত সদস্যের পরিবারের হাতে দেয়াও হয়নি, এ নিয়ে সিপিআইএম দলগুলি কয়েকদিন আগে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। কিন্তু কোন প্রতিবাদে সরকারের হেলদোল নেই। বরং গাইডলাইনই পাল্টে ফেলা হয়েছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য