About Me

header ads

জীবিত ব্যক্তিকে মৃত ঘোষণা করল রাজ্য এক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ!

ডেস্কও ওয়েব ডেস্কঃ আশ্চর্জনক ঘটনায় ভরপুর ত্রিপুরা। রাজ্যে হাসপাতালের ঘোষণা করা একজন মৃত স্কুল শিক্ষককে দেখা গেল তিনি জীবিত আছেন। তাঁর পালস রেট দেখে এটি ধরেছেন তাঁরই ডাক্তার ছেলে। খোয়াই জেলা হাসপাতালে ব্যক্তিকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছিল।

বৃহস্পতিবার খোয়াই জেলায় আশ্চর্যজনক ঘটনাটি ঘটে।বর্তমান উক্ত স্কুল শিক্ষক আগরতলার জিবিপি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। কারণ এমনিতেই বেশ কয়েকদিন ধরেই ত্রিপুরার স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়ে লাগাতার প্রশ্ন উথাপিত হচ্ছে। সে জায়গায় এমন একটি ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই হাসপাতালে বিদ্যমান স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন হচ্ছে।

৫২ বছর বয়স্ক তরুণ কুমার নাগ, তিনি পেশায় স্কুল শিক্ষক। গতকাল হঠাৎই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তাঁর কিছু স্বাস্থ্য জটিলতা দেখা দেয়। পরিবারের সদস্যরা তরুণবাবুকে খোয়াই জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান আর দেরি না করে। সেখানে পৌঁছানোর পরে চিকিত্সক কোভিড পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন যথারীতি। শিক্ষকের করোনা রেজাল্ট পজিটিভ আসে। তারপর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তরুণ নাগকে হাসপাতালের একটি পৃথক অংশে প্রেরণ করে। এক ঘন্টা পর কর্তব্যরত চিকিৎসকরা আচমকা তাঁকে 'মৃত' ঘোষণা করেন। এমনকি তাঁর আত্মীয়ের কাছে 'মৃত্যুর শংসাপত্রও হস্তান্তর' করেছেন।

এদিকে তরুণ কুমার নাগের ছেলে ত্রিদীপ নাগ রাজধানী আগরতলার জিবিপি হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক। বাবার অসুস্থতার খবর পেয়েই তিনি আগরতলা থেকে খোয়াইয়ের উদ্দেশে রওয়ানা দেন। খুব আশ্চর্যজনক খবরটি হলো, পুত্র ত্রিদীপ নাগ আবিষ্কার করেন তাঁর বাবা মারা যাননি, তিনি বেঁচে আছেন।

উল্লেখযোগ্য যে, ডাঃ নাগ বাবার মৃত্যু সংবাদ শুনেই নিজের শহরে ছুটে যান এবং পিপিই কিট পরে হাসপাতালে প্রবেশ করেন। এবং তিনি শীঘ্রই ধরে ফেলেন হাই পালস রেটের কথা।

ডাঃ নাগ বলেন, "সাধারণত পালস মুভমেন্ট ৭২ থাকে, তবে আমার বাবার ক্ষেত্রে তা ছিল ১২৩ থেকে ১২৫। কোনও পূর্ণবয়স্ক মানুষের হৃদপিণ্ড প্রতি মিনিটে যতবার স্পন্দিত হয় তাকে হৃদস্পন্দনের হার বা পালস বলে। স্বাভাবিক হৃদস্পন্দনের হার মানুষ থেকে মানুষে আলাদা হতে পারে। তবে একজন সুস্থ পূর্ণবয়স্ক মানুষের এই হার ৬০ থেকে ১০০ হলে তাকে স্বাভাবিক বলে ধরা হয়। এরপরই হাসপাতালের বাকি কাজগুলো দ্রুত সেরে ফেলে তৎক্ষণাত তরুণ বাবুকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ডাঃ নাগ বলেন। এরপর রোগীকে জিবিপি হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। বর্তমান তিনি এখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন।

তরুণ নাগ খোয়াই হাসপাতালে কোন চিকিৎসা পাননি। পরিবারের অভিযোগ, খোয়াই হাসপাতালে কোনও চিকিৎসক তরুণ নাগের দেহ স্পর্শ করেননি, তাঁরা দূর থেকে কেবল পর্যবেক্ষণ করেছেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য