About Me

header ads

রাহুলকে গলাধাক্কা যোগীর পুলিশের, হাথরস ঘিরে দিনভর তপ্ত রাজনীতি!

ডেস্কও ওয়েব ডেস্কঃ হাথরস গণধর্ষণ ও খুনের প্রতিবাদ-প্রতিরোধ অন্য মাত্রায় পৌঁছে গেল বৃহস্পতিবার। হাথরসে যাওয়ার পথে প্রথমে যমুনা এক্সপ্রেসওয়ের উপর রাহুল গাঁধী-প্রিয়ঙ্কা গাঁধীর কনভয় আটকায়। তার পর রাহুলকে গলাধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয় যোগীর পুলিশ। রাহুল-প্রিয়ঙ্কা-সহ কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা-নেত্রীকে গ্রেফতার করা হয়। সংবাদমাধ্যম থেকে রাজনৈতিক প্রতিনিধি কাউকেই ঢুকতে না দিয়ে কার্যত দুর্গ বানিয়ে হাথরসকে পাহারা দিল উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। যোগীর বিরুদ্ধে জঙ্গলরাজ আর মোদী সরকারের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন নীতির অভিযোগ তুলে আক্রমণের ঝাঁঝ তীব্র করল কংগ্রেস। পদ্ম শিবির থেকেও ধেয়ে এল রাজনৈতিক পর্যটন, ফোটোশ্যুট-এর মতো পাল্টা খোঁচা। রাতে যদিও ইলাহাবাদ হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে হাথরস-কাণ্ডে হস্তক্ষেপ করেছে।

মঙ্গলবার দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে হাথরসের দলিত তরুণীর মৃত্যুর পর থেকেই কাঠগড়ায় যোগী আদিত্যনাথের পুলিশ-প্রশাসন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তো বটেই, ছোটখাটো প্রতিবাদ-প্রতিরোধে নির্যাতিতার পক্ষে আর যোগী সরকারের বিরুদ্ধে জনমত বাড়ছিল। তার মধ্যেই মঙ্গলবার মধ্যরাতে পরিবারকে না দিয়ে পুলিশ-প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে কার্যত চুপিসারে ওই তরুণীর দেহ দাহ করে দেওয়ায় জনরোষ বাড়ছিল যোগী সরকারের উপরে।

বৃহস্পতিবার সেই আগুনে ঘি পড়ল রাহুল-প্রিয়ঙ্কা গাঁধী-সহ কংগ্রেসের একঝাঁক শীর্ষ নেতৃত্বের হাথরস অভিযান ঘিরে। বুধবারই ঘোষিত হয়েছিল কর্মসূচি। বৃহস্পতিবার সকালে ১৪৪ ধারা জারি করে দিয়েছিল যোগীর প্রশাসন। ফলে রাহুলদের হাথরস যাত্রা ঘিরে যে ধুন্ধুমার ঘটতে পারে, তেমন আশঙ্কা ছিলই। নয়ডার পরি চকে তাঁরা পৌঁছতেই সেই আঁচ পাওয়া যায়। আটকে দেওয়া হল রাহুল-প্রিয়ঙ্কা, অধীর চৌধুরী, রণদীপ সিংহ সুরজেওয়ালা, কে সি বেণুগোপালদের কনভয়। কংগ্রেস নেতৃত্বও নাছোড়। শুরু হয় যমুনা এক্সপ্রেসওয়ে ধরে পায়ে হেঁটে হাথরস অভিমুখে যাত্রা। কিন্তু কিছু দূর এগোতেই থামতে হয় রাহুলদের। পথ আটকায় পুলিশ। পুলিশের লাঠি, ধস্তাধস্তির মধ্যে রাহুলকে কার্যত গলাধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয় পুলিশ। বেড়ে যায় রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ।

গ্রেফতার করে রাহুল-প্রিয়ঙ্কা-অধীরদের নিয়ে যাওয়া হয় ঘটনাস্থল থেকে। বিকেল পর্যন্ত ধোঁয়াশা ছিল, রাহুলদের গ্রেফতার করা হয়েছে, না কি আটক? বিকেলের দিকে নয়ডার অতিরিক্ত ডেপুটি পুলিশ কমিশনার রণবিজয় সিংহ জানান, মহামারি আইনে রাহুল ও প্রিয়ঙ্কা-সহ কংগ্রেস নেতাদের আটকে দেওয়া হয়। তাঁদের হাথরস যেতে দেওয়া হয়নি। গ্রেফতার করা হয়েছে। জানা যায়, কংগ্রেস নেতা-নেত্রীদের নিয়ে যাওয়া হয়েছে গৌতম বুদ্ধ নগরে। রাখা হয়েছে বুদ্ধ ইন্টারন্যাশনাল সার্কিট-এর গেস্ট হাউসে। এ দিন রাত পর্যন্ত তাঁদের ছেড়ে দেওয়ার কোনও খবর পাওয়া যায়নি।

কেন আটকানো হল কংগ্রেস নেতৃত্বকে? ধস্তাধস্তি, বাগ্‌বিতণ্ডার সময় পুলিশকে প্রশ্ন করেছিলেন রাহুল। পুলিশের দাবি, ১৪৪ ধারা জারি রয়েছে। সরকারি নির্দেশ অমান্য করায় ১৮৮ ধারায় তাঁদের আটকানো হচ্ছে। যোগীর পুলিশকর্তাদের দাবি, করোনা সংক্রমণ রুখতে গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে রাজ্যে ঢোকার উপর জারি হয়েছিল নিয়ন্ত্রণ। তার মেয়াদ ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ১৪৪ ধারা জারি থাকলে একসঙ্গে বা একটি দলে ৪ জনের বেশি যাওয়া যায় না। সেই প্রশ্ন তুলে রাহুল বলেন, ‘‘আমি একা যাচ্ছি হাথরসে। তা হলে ১৪৪ ধারা ভঙ্গের প্রশ্ন আসছে কোথা থেকে?’’ যুক্তি ধোপে টেকেনি পুলিশের কাছে। রাতের দিকের খবর, ইলাহাবাদ হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে হস্তক্ষেপ করেছে হাথরস-কাণ্ডে। আগামী ১২ অক্টোবর উত্তপ্রদেশ পুলিশ-প্রশাসনের কর্তাদের আদালতে ডেকে পাঠানো হয়েছে।

রাহুলের সঙ্গেই এ দিন ছিলেন সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিরাও। কংগ্রেস সাংসদ তাঁদের বলেন, ‘‘পুলিশ আমাকে ধাক্কা মেরে মাটিতে ফেলে দিয়েছে।’’ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উদ্দেশে তাঁর প্রশ্ন, ‘‘এ দেশে কি শুধু মোদীজিই রাস্তায় হাঁটতে পারবেন? আর কোনও সাধারণ মানুষ পথে নামতে পারবেন না?’’ রাহুলের সঙ্গে এই ব্যবহার মেনে নিতে পারেনি কংগ্রেস। যমুনা এক্সপ্রেসওয়ের পাঁচটি লেন দীর্ঘ ক্ষণ অবরোধ করে যোগী সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়েছেন কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকেরা। বিকেলের দিকে অবশ্য ধীরে ধীরে ফাঁকা হয় এক্সপ্রেসওয়ে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য