About Me

header ads

রাজ্যে সংবাদ মাধ্যমের উপর ক্রমবর্ধমান আক্রমণের প্রতিবাদে গণঅবস্থান!

ডেস্কও ওয়েব ডেস্কঃ তেঁতে উঠেছে এবার খুব ভালো রকম ভাবে Assembly of Journalists। কারণ এত প্রতিবাদের পরও ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব তাঁর হুমকি মন্তব্য ফিরিয়ে নেননি। এবং সম্প্রতী রাজ্যে সাংবাদিকরা তাঁদের সাংবিধানিক স্বাধীনতা হারাচ্ছেন। আক্রমণের শিকার হয়েছেন বহু সাংবাদিক! ফলে পূর্বেই ঘোষণা করা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার আগরতলার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকরা মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের বক্তব্য এবং সাংবাদিকের উপর ক্রমবর্ধমান হামলার প্রতিবাদে গণ অবস্থান করেন। রবীন্দ্র ভবনের সামনে এই গণ অবস্থান অনুষ্ঠিত হয় দুপুর থেকে দুপুর দুটো পর্যন্ত। এর আগেই Assembly of Journalists (এওজে) রবীন্দ্র ভবনের সামনে গণ অবস্থান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

উল্লেখ্য, গত ১১ সেপ্টেম্বর সাবরুমে একটি অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব বলেন, কিছু কিছু সংবাদমাধ্যম রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে ভুল খবর পরিবেশন করছে। সরকার তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেবে। মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পরেই ত্রিপুরার সাংবাদিকরা এই হুমকির তীব্র সমালোচনা করেন। বিপ্লব কুমার দেবকে তাঁর এই বক্তব্য ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য সময়ও দেয়।

কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী নিজের জায়গায় অনঢ় থেকে পাল্টা মন্তব্য করেছিলেন, সাংবাদিকরা আত্মসমালোচনা করতে শিখুক। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য গণমাধ্যমের জন্য প্রত্যক্ষ হুমকি। রাজ্যের সংবাদমাধ্যমগুলির দ্বারা সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপিত হওয়া সত্ত্বেও মুখ্যমন্ত্রী তার হুমকির আপত্তিজনক বক্তব্য প্রত্যাহার করেননি। এরপরই ত্রিপুরার Assembly of Journalist (AOJ) রাজ্যপাল আর কে বাইসের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেয়।

এর আগে এওজে-র প্রতিনিধি গভর্নরের সাথে সাক্ষাৎকালে তিনি তাদের আশ্বাস দিয়ে বলেছিলেন, গুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সাথে কথা বলবেন। কিন্তু তাঁর কাজের শিথিলতা সাংবাদিকদের মনে আরো ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। রাজ্যপালের পক্ষ থেকে কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি।

এমন একটি পরিস্থিতিতে এওজে আবারও রাজ্যপালকে একটি চিঠি পাঠান, কিন্তু রাজ্যপালের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এমনকি মুখ্যমন্ত্রী এ নিয়ে কোনও দুঃখও প্রকাশ করেননি। ঘটনায় ভয়ানক ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছে সংবাদকর্মীরা।

মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের সাংবাদিকদের এমন হুমকি দেওয়া মন্তব্য নিয়ে প্রেস কাউন্সিল, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এবং প্রধানমন্ত্রীর দফতরে লিখিত অভিযোগও জানিয়েছে ত্রিপুরা অ্যাসেমব্লি অফ জার্নালিস্ট বা এওজে। চিঠিতে এওজে-র চেয়ারম্যান তথা প্রাক্তন সম্পাদক সুবল কুমার দে লেখেন, গত ১১ সেপ্টেম্বর একটি বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেবকে রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করা কীভাবে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন এবং হুমকি দেন। পাশাপাশি ২০১৮ সালে ত্রিপুরায় বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে কিভাবে শাসকদল আশ্রিত দুষ্কৃতিরা অনবরত সাংবাদিকদের সঙ্গে অসভ্য আচরণ করে যাচ্ছে, সেকথাও উল্লেখ করা হয় চিঠিতে। কিন্তু কিছু হয়নি।

এদিকে, অ্যাসেম্বলি অব জারনালিস্ট দাবী করেছে, মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পর রাজ্যে সাংবাদিকদের উপর আক্রমণ আরো বেড়েছে এবং এই সময় ছয়জনকে আক্রমণ করা হয়েছে। যারা আক্রমণ করেছে তারা সবাই ক্ষমতাসীন দলের সমর্থিত লোক। আজকের গণ অবস্থানের আগে ২ অক্টোবর মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে কালো ব্যাজও পরেছিলেন। আজ এওজে চেয়ারম্যান সুবল দে বলেন, ত্রিপুরায় রাজ্য সরকার সংবাদমাধ্যমকে চাপে রাখার চেষ্টা করছে। তিনি গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করেছেন এদিন। বলেন, সংবাদমাধ্যমকে কোনও ধরনের তথ্য না দেওয়ার জন্য সব সরকারি দফতরে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রেরণ করা হয়েছে। তিনি দুঃখের সহিত বলেন, গত ৫১ বছর ধরে তিনি সাংবাদিকতার সাথে যুক্ত, কিন্তু কখনও কোন রাজ্যে এমন অগণতান্ত্রিক বিষয় দেখেননি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য