About Me

header ads

মারাত্মক করোনার থাবায় রাজ্যে আক্রান্তের সংখ্যা ২৫,০০০ অতিক্রম!

ডেস্কও ওয়েব ডেস্কঃ ত্রিপুরায় হু হু করে করোনা আক্রান্ত এবং মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমান রাজ্যে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২৫ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। প্রায় ৪ মিলিয়ন জনসংখ্যার রাজ্যে করোনা পজিটিভের সংখ্যা ২৫ হাজার। ভীষণ উদ্বিগ্ন হওয়ার মতোই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

এক্সপার্টদের মতে, এই সংখ্যা ভারতের অন্যান্য রাজ্যগুলোর তুলনায় অনেক বেশি। এখনও পর্যন্ত রাজ্যে সংক্রমণে নিহতের সংখ্যা ২৭৩। এর মধ্যে আবার শুধুমাত্র ২৮ দিনে মারা গেছেন ১৭০ জন।

এখনো পর্যন্ত হিসেব অনুযায়ী, ত্রিপুরায় মোট করোনাক্রান্তের সংখ্যা ২৫,৩৫০। সোমবার আরো নতুন করে ৪২৯ জনের দেহে ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। বিপ্লব দেবের রাজ্যে সামগ্রিক ইতিবাচক হার বর্তমান ৬.৫১ %। তবে হাইকোর্টে রাজ্য সরকার যে সাতদিনের ডাটা সরবরাহ করেছে সেখানে ইতিবাচক হার দেখা গেছে ১০% এর বেশি। কেন্দ্রীয় বিশেষজ্ঞ টিমের দেয়া পরামর্শ অনুযায়ী রাজ্য সরকারের গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানোর নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতী রাজ্যে কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞ দল এসে পুরো ব্যবস্থা এবং কেন এত মৃত্যুহার বাড়ছে এ বিষয়ে পর্যবেক্ষণের জন্যে এসেছিল।

উল্লেখযোগ্য যে, এক মামলায় ত্রিপুরা হাইকোর্ট রাজ্য সরকারের কাছ থেকে কয়েকটি বিষয় জানতে চেয়েছে। করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে সুয়োমোটো মামলায় আবারও শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে আগামি সোমবার।

এদিকে, গতকাল সোমবার এই মামলার এক শুনানি হয়েছে। হাইকোর্টে দায়ের করা হলফনামায় রাজ্য সরকার ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডাটা সরবরাহ করে। ডাটা অনুসারে, ২১ সেপ্টেম্বর পজিটিভিটি হার ছিল ১৫.৬৯%, ২২ সেপ্টেম্বর হার ১১.০২%, , ২৩ সেপ্টেম্বর পজিটিভিটি রেট দেখানো হয় ৮.৭৮%, ২৪ সেপ্টেম্বর ১০.৪৫%, ২৫ সেপ্টেম্বর পজিটিভিটি হার ৮.৯৭%, ২৫ তারিখ ১২.০৬%, এবং ২৬ সেপ্টেম্বর হয় ১০.৬৪%।

মোদ্দা কথা, রাজ্যে কোভিড সংক্রমণের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন (ডব্লুএইচও) বলছে, করোনার পজিটিভিটি রেট ১০% বা তারও বেশি বেড়ে যাওয়ার সাথে সাথে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন শুরু হয়ে যায়।

ত্রিপুরা সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অভিযোগ উঠছে। এবার অভিযোগ করা হয়েছে যে রাজ্য সরকার পরীক্ষার সংখ্যা কমিয়ে কোভিডের সংখ্যা হ্রাস করার চেষ্টা করছে। এর কারণও স্পষ্ট। ত্রিপুরার সব প্রবেশ পয়েন্টে সরকার ইতিমধ্যে বাধ্যতামূলক করোনা পরীক্ষা বন্ধ করে দিয়েছে। পরিবর্তে, স্ক্রিনিং করা হবে। এভাবে যাঁদের লক্ষণ আছে, তাঁদেরই শুধু টেস্ট করার বিষয়টি মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। যখন রাজ্য জড়সড় করোনায়, ঠিক সে সময় প্রবেশের স্থানে বাধ্যতামূলক পরীক্ষা বন্ধ করা কিন্তু মারাত্মক হতে পারে।

সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ত্রিপুরায় সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ছিল ৫৩৩৯। এঁদের মধ্যে পঁচাশি % লোক বাড়িতেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। অবস্থা খুব মারাত্মক না হলে কেউ হাসপাতালে যান না। তবে সুস্থতার হার বেড়েছে। ৭৭ % বৃদ্ধি পেয়েছে। ইতিমধ্যে ১৯,১৭০ জন করোনা সারিয়ে উঠেছেন। মৃত্যুহার ১.১০%।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য