About Me

header ads

অভিযোগ খতিয়ে দেখতে কোভিড কেয়ার ইউনিটে প্রতিমা ভৌমিক!

 ডেস্কও ওয়েব ডেস্কঃ ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলার জিবিপি হাসপাতাল নিয়ে বেশ কয়েকদিন ধরেই টানা অভি্যোগ উঠছে, করোনা রোগীদের চিকিৎসাসেবা ভালো করে দেয়া হচ্ছে না, যেখানে সেখানে করোনায় মৃত ব্যক্তির লাশ পড়ে আছে, সুপরিপক্ক কোন ব্যবস্থাই নেই! এদিকে, ১৭ সেপ্টেম্বর স্বয়ং পশ্চিম ত্রিপুরার সাংসদ প্রতিমা ভৌমিক ইউনিটের অবস্থা পরীক্ষা করার জন্যে জিবিপি হাসপাতালের কোভিড কেয়ার ইউনিটে প্রবেশ করেছেন।

তিনি পিপিই কিট পরে কোভিড ইউনিটে গিয়েছেন এদিন। সম্ভবত তিনিই হচ্ছেন উত্তর-পূর্বাঞ্চলের তৃতীয় রাজনীতিবিদ যিনি হাসপাতালের অবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্যে কোভিড ইউনিটে গিয়েছেন।

এদিকে, অসমের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড০ হিমন্ত বিশ্ব শর্মা রাজ্যে কোভিড কেয়ার ইউনিট বেশ কয়েকবার পরিদর্শন করেছেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে ভূয়সী প্রশংসাও তিনি লাভ করেন। এর আগে ত্রিপুরার প্রাক্তন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সুদীপ রায় বর্মন ভগৎ সিং যুব আবাস কোভিড কেয়ার সেন্টারে গিয়েছিলেন পরিদর্শনের জন্যে! উক্ত কোভিড কেয়ার সেন্টারে চিকিৎসার সুযোগ-সুবিধা ভালো পাওয়া যাচ্ছে না, এমনই অভিযোগ ছিল রোগীর। এরপরই সুদীপ রায় বর্মন উক্ত কোভিড কেয়ার সেন্টারে সমস্ত ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্যে গিয়েছিলেন।

কিন্ত এরপরই প্রাক্তন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সুদীপ রায় বর্মনকে সরকার নোটিশ দিয়ে জানায় ১৪ দিনের আইসোলেশনে তাঁকে যেতে হবে। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়, তিনি অনুমোদন ছাড়াই কোভিড কেন্দ্রে গিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর সাংসদ প্রতিমা ভৌমিক পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার ডিএম শৈলেশ যাদবসহ অন্যান্য চিকিৎসকের সঙ্গে আগরতলা জিবিপি হাসপাতালের কোভিড কেয়ার সেন্টারে করোনা রোগীদের সঙ্গে কথাবার্তা বলার জন্যে গিয়েছেন। প্রতিমা ভৌমিকসহ অন্যান্যরা বিভিন্ন ব্লকের প্রায় ১০০ রোগীর সাথে মতবিনিময় করেছেন। এবং পাশাপাশি হাসপাতালের চিকিৎসা সম্পর্কে রোগীদের অভিজ্ঞতা কেমন, সে বিষয় জানার চেষ্টা করেন।

উল্লেখ্য যে, একের পর এক অভিযোগ আসতে থাকায় ক্রমে জিবিপি ভয়ের কারণ হয়ে উঠেছে রোগীর কাছে! সম্প্রতী জিবি হাসপাতালের গাফিলতিতে থ্যালাসেমিয়ার এক রোগী মারা গেছেন। রোগীর পরিবার পক্ষের অভিযোগ, রক্ত না পেয়েই রোগী মারা গিয়েছে মর্মান্তিকভাবে। মৃতের নাম নান্টু মণ্ডল। তিনি থ্যালাসেমিয়ার রোগী ছিলেন। রুটিন হিসেবেই তাঁর রক্তের প্রয়োজন ছিল।

উল্লেখযোগ্য যে, নান্টু মণ্ডলের পরিবারের সদস্যরা তাঁকে রক্ত দেয়ার জন্যে সোমবার সকালে হাপানিয়ার ত্রিপুরা মেডিকেল কলেজে (টিএমসি) নিয়ে যান। হাসপাতালে তাঁকে রক্ত দেয়ার আগে করোনা টেস্ট করা হয়। এবং ফলাফল পজিটিভ আসে। এদিনই নান্টু বাবুকে করোনা চিকিৎসা এবং রক্ত দেয়ার জন্যে আগরতলা জিবিপি হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। নান্টু মণ্ডলের স্ত্রী শোভা মন্ডল অভিযোগ জানিয়েছেন জিবিপির বিরুদ্ধে। জানাচ্ছেন, হাসপাতালে ভর্তি করার পর করোনা একইসঙ্গে থ্যালাসেমিয়ার রোগী স্বামী নান্টু মণ্ডলকে কোন চিকিৎসক দেখাশোনা করেন নি। ক্রমশ নান্টু মণ্ডলের স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটতে থাকলে পরিবার বারবার তাঁকে রক্ত দেওয়ার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছিলেন। কিন্তু অনুরোধেও কাজ হয়নি। দেয়া হয়নি নান্টু বাবুকে রক্ত। তিনি গত ৬-৭ মাস ধরে থ্যালাসেমিয়ায় ভুগছিলেন। তাঁকে আর বাঁচানো যায়নি!

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য