About Me

header ads

উন্নত চিকিৎসার জন্য ডাক্তার প্রদীপ ভৌমিক কলকাতায় স্থানান্তরিত!


ডেস্কও ওয়েব ডেস্কঃ ত্রিপুরার জিবি হাসপাতাল মেডিসিন বিভাগের করোনা যোদ্ধা ডাঃ প্রদীপ ভৌমিককে উন্নত চিকিৎসার জন্য আজ রাজধানী আগরতলা থেকে কলকাতায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ডাঃ ভৌমিককে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে কলকাতায় নেয়া হয়েছে এদিন। ডঃ প্রদীপ ভৌমিক ত্রিপুরার একজন নামকরা ওষুধ বিশেষজ্ঞ। তিনি মারণ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। সোমবার রাত থেকেই তিনি আইসিইউতে ভর্তি ছিলেন।
গতকালই, ৮ সেপ্টেম্বর বিপ্লব দেব সরকার ডাঃ ভৌমিকের উন্নত চিকিৎসার জন্য কলকাতায় পাঠানোর চেষ্টা করেছিল। কিন্তু তা আর হয়ে ওঠেনি। কারণ মঙ্গলবার কোনও এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ছিল না। সর্বশেষ বুধবার দুপুরে তাঁকে কলকাতায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। রাজ্যের অন্যতম খ্যাতিমান চিকিৎসক ডাঃ ভৌমিককে কলকাতার Apollo Gleneagles Hospital স্থানান্তরিত করা হয়েছে। চিকিৎসকের শরীরে অক্সিজেনের মারাত্মক ঘাটতি দেখা দিয়েছিল। ফলত তাঁকে অক্সিজেন সরবরাহ করা হয়েছে।
ডাঃ ভৌমিক একজন একনিষ্ঠ চিকিৎসক! তিনি একইসাথে আগরতলা সরকারি মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক এবং কোভিড ইউনিটের দায়িত্বও পালন করেছিলেন। রাজধানীর জিবিপি হাসপাতালে কর্তব্যরত অবস্থায় এই চিকিৎসক এমন একজন রোগীর সংস্পর্শে এসেছিলেন, যার সকালে পরীক্ষার পর কোভিড রেজাল্ট নেগেটিভ এসেছিল কিন্তু সন্ধ্যায় সেই রোগীরই শরীরে করোনার উপস্থিতি পাওয়া যায়।
এই ঘটনার পরই গত শুক্রবার ডাঃ প্রদীপ ভৌমিকের দেহেও মারণ করোনার অস্তিত্ব মেলে। করোনা পজিটিভ হওয়ার জন্যে প্রাথমিকভাবে তিনি নিজেকে হোম আইসোলেশনে রেখেছিলেন। তবে তাঁর শ্বাসকষ্টের সমস্যা সোমবার থেকে শুরু হয়। এরপরই তাঁকে ভর্তি করানো হয় জিবিপি হাসপাতালের আইসিইউতে। সেখানেও তাঁকে অক্সিজেন দিয়েই রাখা হয়েছিল। অল ত্রিপুরা গভর্নমেন্ট ডক্টর্স অ্যাসোসিয়েশনের (এটিজিডিএ) সেক্রেটারি ডাঃ রাজেশ চৌধুরী জানিয়েছেন, এখনো পর্যন্ত ত্রিপুরার ৮০ জনেরও বেশি চিকিৎসক মারণ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ডঃ ভৌমিকের অবস্থা সবচেয়ে গুরুতর।
উল্লেখ্য যে, ত্রিপুরার স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় খুবই খারাপ অবস্থার দিকে চলে গেছে। গৌরবের জিবিপি হাসপাতাল নিয়ে রোগী-পরিবার সকলের মনেই একটা আতংক ঢুকে গেছে। এছাড়াও, সোমবার আম্বাসার লোকজন এক বিরল ঘটনার সাক্ষী হয়ে থেকেছে। ধলাই জেলা হাসপাতাল থেকে প্যাডেল রিক্সায় করে এক ব্যক্তির লাশ নিয়ে যাওয়া হয়েছে আমবাসা থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে ম্যাগাজিন পাড়াতে। পরিবারের আর্থিক ক্ষমতা ছিল না কোন গাড়িতে করে মৃতদেহ বহন করার! তাই পরিবারের সদস্যরা বাধ্য হয়েছেন প্যাডেল রিকশায় পরিবারের সদস্যের মরদেহ নিয়ে যেতে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি অ্যাম্বুলেন্সেরও ব্যবস্থা করা হয়নি। এমন মর্মান্তিক দৃশ্য সঙ্গে সঙ্গে ভাইরাল হয়ে গেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়! আসলে রাজ্যের মানুষের প্রতি প্রশাসন কতটুকু সতর্ক বা সজাগ, তাঁদের ভূমিকা কী এ বিষয়ে প্রশ্ন উঠছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য