About Me

header ads

শিক্ষক মৃত্যুর দায় মুখ্যমন্ত্রী এবং শিক্ষামন্ত্রীরঃ ১০৩২৩ শিক্ষক!


ডেস্কও ওয়েব ডেস্কঃ ১০৩২৩ জন শিক্ষক সম্প্রদায়ের মধ্যে আরো একজন শিক্ষক আগরতলায় মানসিক চাপে গতকাল মারা গেছেন। চাকুরি থেকে বরখাস্ত হওয়ার পর কয়েকমাসের মধ্যে ত্রিপুরায় ৬৫ জন শিক্ষক প্রাণ হারিয়েছেন।
মৃত শিক্ষকের নাম পার্থ মজুমদার। তাঁর স্ত্রী এবং বড় বোন জানিয়েছেন, চাকুরি থেকে বরখাস্ত হওয়ার পরই তিনি হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন। গত রাতে তিনি বুকে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করছিলেন। এরপরই পরিবারের সদস্যরা তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে পৌঁছানোর পর পার্থবাবু মারা যান। তাঁর বয়স হয়েছিল মাত্র ৪২ বছর। সংসারে তিনি রেখে গেছেন স্ত্রী, একটি চার বছরের ছেলে এবং অন্যান্য আত্মীয়স্বজনদের। পার্থবাবু আগরতলার মাতৃ পল্লী এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।
উল্লেখযোগ্য যে, আগের বামফ্রন্ট সরকার ২০১০ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে ১০৩২৩ জন শিক্ষককে নিয়োগ করেছিল। ৩১ মার্চ সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর ত্রিপুরার ১০,৩২৩ জন শিক্ষককে তাঁদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। বহিষ্কৃত শিক্ষকরা সরকারের কাছে বিকল্প আয়ের ব্যবস্থার দাবি জানাচ্ছেন। এদিকে, বিজেপি রাজ্য ক্ষমতায় আসার আগে এই শিক্ষকদের আশ্বাস দিয়েছিল যে, মানবিক ভিত্তিতে তাঁদের সব সমস্যার সমাধান করবে। প্রয়োজনে সংসদে একটি বিল পাস করাও হতে পারে। ঘটনা গড়িয়ে গড়িয়ে চলেছে। শক্তভাবে কোন আশ্বাস পাওয়া যাচ্ছিল না।
শেষ পর্যন্ত রাজ্য বিজেপি-আইপিএফটি সরকার ঘোষণা করেছিল যে সর্বোচ্চ আদালত যদি তাদের অনুমতি দেন তবে সেই গ্রুপগুলোকে সি এবং গ্রুপ ডি পদে নিয়োগ করে দেবে। আনন্দের বিষয়, গত মাসে শীর্ষ আদালত শিক্ষকদের বিষয়ে রায় দিয়েছেন। সেখানে বলা হয়েছে, রাজ্য সরকার সঠিক নিয়ম বজায় রেখে ভিন্ন পদে এই শিক্ষকদের নিয়োগ করতে চাইলে আদালতের কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, ত্রিপুরা সরকারের সব প্রতিশ্রুতি ভেস্তে গেছে। সরকার এখন এ বিষয়ে পুরো নীরব!
আজ, সোমবার, মৃত শিক্ষক পার্থ মজুমদারের বাড়িতে অনেক শিক্ষক গেছেন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার জন্যে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকবিহ্বল শিক্ষক সমাজ। বিজয় কৃষ্ণ সাহা অভিযোগ করে বলেন যে মুখ্যমন্ত্রী এবং শিক্ষামন্ত্রী দুজনেই খুনি। তাঁদের নীরবতা প্রাণ নিচ্ছে শিক্ষকদের। তিনি বলেন, চাকুরি হারানোর পরই পার্থ হতাশায় ভুগছিলেন এবং একমাত্র সে কারণেই তিনি মারা গেছেন। তিনি বলেন, তাঁরা মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব এবং শিক্ষামন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন তাঁদের চাকুরি সম্বন্ধে কিছু বলার জন্যে। কিন্তু তাঁরা কোন উত্তর দেননি। বর্তমান সময় প্রায় প্রতিদিন শিক্ষক মারা যাচ্ছেন। শিক্ষকদের এই মৃত্যুর জন্য মুখ্যমন্ত্রী এবং শিক্ষামন্ত্রী রতন লাল নাথ দায়ী। মন্ত্রীরা শিক্ষক খুন করছেন নীরব থেকে। প্রাক্তন শিক্ষক বলেন, শিক্ষামন্ত্রী রতন লাল নাথ এবং মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের বাড়ির সামনে শিক্ষকরা প্রতিবাদে বসবেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য