About Me

header ads

নদীপথে সরাসরি বাংলাদেশের সিমেন্ট পৌছালো রাজ্যে!


ডেস্কও ওয়েব ডেস্কঃ গোমতী নদী দিয়ে বাংলাদেশ থেকে নদীপথে সরাসরি সিমেন্ট পৌছালো ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সোনামুড়া নৌবন্দরের। বাংলাদেশের সিমেন্ট প্রস্তুতকারি অন্যতম প্রতিষ্ঠান প্রিমিয়ার সিমেন্ট এর একটি বার্জে করে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে এই প্রথমবার নৌপথে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ত্রিপুরাতে সিমেন্ট রপ্তানি হলো।
গোমতী নদীতে সোনামুড়া এলাকায় একটি ভাসমান জেটিতে গতকাল বাংলাদেশী সিমেন্টবাহী বার্জটি ৫০ মেট্রিকটন সিমেন্ট-সহ নোঙর করে। ত্রিপুরা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব ও ভারতীয় কর্মকর্তাগন, বানিজ্যিক প্রতিনিধিগন এই পণ্যের চালান আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহন করেন। পরীক্ষামুলকভাবে নদীপথে এই পন্য পরিবহন শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে ভারতের সোনামুড়া নৌবন্দরে বাংলাদেশ থেকে পণ্য পরিবহনের মাধ্যমে এক নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব। সেখানে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার রীভা গাঙ্গুলি দাশ উপস্থিত ছিলেন।
এই ৫০ মেট্রিকটন সিমেন্ট পৌছার পর সেখান থেকে সড়কপথে ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলায় পণ্যের চালান যাবে বলে জানা গেছে। নদীপথে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে সড়ক বা অন্যপথে যে খরচ হয় এক্ষেত্রে তার চেয়ে অনেক কম খরচ হবে বলে এই রুটটিকে চালু রাখার জন্য উভয় দেশের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা দুই দেশের সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রিমিয়ার সিমেন্ট-এর ব্যাবস্থাপনা পরিচালক আমিরুল হক শনিবার প্রতিবেদককে বলেন, এটি সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলতে পরীক্ষামুলক যাত্রা। এই পরীক্ষামুলক যাত্রাটি আমরা সফলভাবে সম্পন্ন করতে পেরেছি। স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশের জন্য একটি সুখবর যে বাংলাদেশের পন্য সরাসরি নদীপথে ভারতে রপ্তানি করতে পারছি আমরা। বাংলাদেশী পণ্যেরও একটি ব্র্যন্ডিং হচ্ছে এর ফলে। 
তিনি বলেন, তবে এর জন্য অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। তাঁর মতে, নৌ পথে এভাবে আমদানি-রপ্তানি করতে পারলে উভয় দেশের জন্যই তা লাভজনক হবে, কারন নৌপথে পণ্য পরিবহনের খরচ সড়ক বা রেলপথের চেয়ে অনেক কম। তাই আমলাতান্ত্রিক যেসব জটিলতা আছে সেগুলো দূর করা দরকার।
বাংলাদেশ আভ্যন্তরীন নৌ পরিবহন সংস্থার সূত্রমতে, দাউদকান্দি থেকে গোমতী নদী দিয়ে মুরাদনগর, দেবীদ্বার, ব্রাহ্মণপাড়া, বুড়িচং, কুমিল্লা সদর ও বিবিরবাজার হয়ে সোনামুড়ায় পণ্য নেয়া হয়েছে। এটি কোনো ট্রানজিট বা ট্রান্সশিপমেন্ট পরিষেবা নয়।
মূলত দুই দেশের মধ্যে সরাসরি পণ্য আমদানি-রপ্তানির রুট হিসেবে ব্যবহার করা হবে। দাউদকান্দি থেকে সোনামুডার দুরত্ব ৯০ কিলোমিটার। গত বৃহস্পতিবার সিমেন্ট ভর্তি এই বার্জটি বাংলাদেশ থেকে যাত্রা শুরু করে শনিবার সকালে পৌছায় সোনামুড়ায়।
এ উপলক্ষে সোনামুড়ায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব বলেন, এই নৌপথে আপাতত: ৫০ মেট্রিকটন বা তার চেয়ে কিছু বেশি পন্য আনা-নেওয়া করা যাবে। কারন যতদুর জেনেছি এই নদীপথে বিভিন্ন উচ্চতার ৮ টি সেতু রয়েছে। তাই খুব বেশি বড় নৌযান হয়তো আসতে পারবে না শীঘ্রই, তবে নদী ড্রেজিং এবং সেতুগুলো একটু উঁচু করতে পারলে আরো অনেক বেশি পরিমাণ পন্য পরিবহন করা যাবে। তবে দুই দেশের সরকারের মধ্যে এসব সমস্যা সমাধানের জন্য আলাপ আলোচনা চলছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এ ব্যাপারে যথেষ্ট আন্তরিক।
প্রসঙ্গত: এবছর জুলাই মাসে ট্রানজিটের আওতায় ভারতের কলকাতা বন্দর থেকে জাহাজে করে কন্টেইনারবাহী পণ্য বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দরে নামে। এরপর তা সড়কপথে ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলা স্থলবন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য