About Me

header ads

রিয়াং পুনর্বাসনের প্রতিবাদে কাঞ্চনপুরে ১২ ঘণ্টার বনধ সর্বাত্মক!

ডেস্কও ওয়েব ডেস্কঃ রিয়াং বা ব্রু পুনর্বাসন ইস্যুতে মঙ্গলবার সকাল থেকে পুরো কাঞ্চনপুর মহকুমায় জোরদারভাবে ১২ ঘণ্টার বন্ধ। যৌথ আন্দোলন কমিটি (জেএমসি) বন্ধ বা ধর্মঘট ডেকেছিল।

২২ সেপ্টেম্বর সকাল থেকেই ত্রিপুরার কাঞ্চনপুরে কোন যানবাহন চলাচল নেই। দোকানপাট বন্ধ, বাঁশ দিয়ে জাম্পুই পাহাড়ের দিকে যাওয়ার রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অফিসও বন্ধ রয়েছে। বন্ধের পক্ষে বাইক র‌্যালি করছে পিকেটাররা। সর্বাত্মক বন্ধ দেখা যায় এদিন।

উল্লেখযোগ্য যে, দীর্ঘ দিনের জটিলতা, বিস্তর শান্তি আলোচনা, চুক্তি, চুক্তিভঙ্গের মতো বহু পথ অতিক্রম করে ত্রিপুরা এবং মিজোরাম সরকার ব্রু শরণার্থী সমস্যা সমাধানে একমত হয়েছিল।

উল্লেখ্য যে, উত্তর ত্রিপুরা জেলার কাঞ্চনপুরে ব্রু বা রিয়াং শরণার্থীদের জন্য সাতটি অস্থায়ী শিবির রয়েছে। ১৯৯৭ সালে, প্রায় ৩৫,০০০ ব্রু নাগরিক মিজোরাম থেকে ত্রিপুরার কাঞ্চনপুরে পালিয়ে চলে আসেন। তাদের প্রত্যাবাসন সম্পর্কে বেশ কয়েকটি চুক্তি এবং গতির কথা হয়েছিল। তবে তা পূরণ হয়নি। এদিকে, এর মধ্যেও যারা মিজোরামে প্রত্যাবাসন করেছেন তাদের অনেকেই একপর্যায়ে আবার ত্রিপুরায় ফিরে এসেছেন। শেষমেশ জানুয়ারি মাসে ত্রিপুরায় তাদের পুনর্বাসনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে কাঞ্চনপুরের স্থানীয় বাসিন্দারা মহকুমায় পুনর্বাসন নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন।এদিকে ব্রু শরণার্থীরাও ত্রিপুরা সরকারের নির্বাচিত জায়গায় পুনর্বাসিত হতে রাজি নয়।

কাঞ্চনপুরে ব্রুর পুনর্বাসনের প্রতিবাদেই মঙ্গলবার সকাল ছটা থেকে সন্ধ্যা ছটা পর্যন্ত বন্‌ধ ডেকেছে জয়েন্ট মুভমেন্ট ফোরাম এবং নাগরিক সুরক্ষা মঞ্চ(The Joint Movement Forum and the Citizen Protection Forum) যৌথ আন্দোলন কমিটির (জেএমসি) আহ্বায়ক সুশান্ত বিকাশ বড়ুয়া সোমবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে ক্ষুব্ধস্বরে বলেন, তাঁরা কাঞ্চনপুর মহকুমায় সর্বোচ্চ ৫০০ পরিবারের পুনর্বাসনের বিষয় মেনে নিতে পারেন। এ বিষয়ে ত্রিপুরা সরকারকে জানানো হয়েছিল। কিন্তু রাজ্য সরকার এই মহকুমায় প্রায় পাঁচ হাজার পরিবারকে পুনর্বাসিত করতে চায়। তা গ্রহণ করা হবে না কোনভাবেই।

উল্লেখযোগ্য যে, জানুয়ারি মাসে চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছিল। যার অধীনে ত্রিপুরা সরকার রাজ্যের অভ্যন্তরে সকল রেয়াং শরণার্থীদের পুনর্বাসিত করবে এবং কেন্দ্রীয় সরকার আর্থিক সহায়তা দেবে। বলা হয়, ত্রিপুরায় প্রায় ৩৪ হাজার ব্রু শরণার্থীকে পুনর্বাসিত করা হবে। এবং সরকার রিয়াংদের পুনর্বাসন ও চূড়ান্ত উন্নয়নের জন্যে প্রায় আর্থিক সাহায্য হিসেবে ৬০০ কোটি টাকা সাহায্য দেবে। শুধু প্রতিবাদ এবারই নয়। এর আগেও সেপ্টেম্বরে বাঙালি ও মিজো সংগঠন সমন্বিত যৌথ আন্দোলন কমিটি (জেএমসি) কাঞ্চনপুর এবং পানিসাগর মহকুমায় ৪,৯০০ ব্রু/ রিয়াং পরিবার পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছিল। মঙ্গলবারের প্রতিবাদও সেই রিয়াং পুনর্বাসন নিয়েই।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য