About Me

header ads

১০,৩২৩ শিক্ষকদের সচিবালয় অভিযানে পুলিশের লাঠিচার্জে আহত অনেক!

ডেস্কও ওয়েব ডেস্কঃ ১০৩২৩ শিক্ষক "ডু অর ডাই" মন নিয়েই আজ সচিবালয় রোডে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। পুলিশের সাথে তুমুল লড়াই শুরু হয়। এবং লাঠি-চার্জের ফলে মহিলা সহ অনেক শিক্ষক আহত হয়েছেন। তবে আজ ক্ষুব্ধ সকল শিক্ষক পুলিশ ব্যারিকেড ভেঙে সচিবালয় অবরুদ্ধ করেছেন।

ত্রিপুরার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো শিক্ষকরা কোনও আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সময় পুলিশ তাদের লাঠিপেটা করেছে। রাজধানী আগরতলায় বুধবার নিরাপত্তা কর্মীরা শিক্ষকের ওপর নির্মমভাবে লাঠিপেটা করে।

বুধবার সকালে শুরু হওয়া এই বর্বরতা অব্যাহত ছিল দুপুর পর্যন্ত। লড়বো অথবা মরবো এমনটাই রণংদেহী সজ্জাতেই ছিলেন শিক্ষকরা! তাঁরা সিভিল সচিবালয়ের গেটে বসে প্রতিরোধ দেখিয়েছেন। প্রতিবাদকারী সব শিক্ষক ১০৩২৩ গ্রুপের।

উল্লেখ্য যে, মঙ্গলবার শিক্ষামন্ত্রী বলেছিলেন, এই শিক্ষকদের ফের নিয়োগ করা হবে। কিন্তু রাজ্য সরকারের এই বার্তায় শিক্ষকরা সন্তুষ্ট হতে পারেননি। আজ হাজার হাজার শিক্ষক ‘March to Secretariat' এ অংশ নিয়েছেন। শিক্ষকরা যেই না বুদ্ধ মন্দির এলাকায় পৌঁছেছেন, অমনি সাথে সাথে সুরক্ষা বাহিনী শিক্ষকদের থামানোর চেষ্টা করে। এরপরই পুলিশ তাঁদের বেধড়ক পেটানো শুরু করে। কিন্তু শিক্ষকরা পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে এগিয়ে যান। ভোলাগিরি, শ্রীকৃষ্ণ মিশন স্কুল ও গোয়ালা বস্তি এলাকার সামনে শিক্ষকদের থামানোর চেষ্টা করা হয়। তাঁরা সমস্ত বাধা পেরিয়ে সচিবালয়ের সামনে পৌঁছে যান। শেষ পর্যন্ত শিক্ষকদের রাজ্য সচিবালয়ের ফটকের সামনে আবারও মারধর করা হয়। শিক্ষকদের উপর জল কামান নিক্ষেপ করা হয়।

পুলিশের লাঠিচার্জের ফলে অনেক শিক্ষক রাস্তায় পড়ে যান। এমনকি তাঁদের হাসপাতালে নেওয়ার জন্য কোনও অ্যাম্বুলেন্স ছিল না। পুলিশ শিক্ষকদের গ্রেপ্তারের চেষ্টাও করে। কিন্তু শিক্ষকরা রাস্তায় বসে পড়েন। রাজ্য সচিবালয়ের সামনেই। বুধবার রাজ্য ইতিহাসে একটি অভূতপূর্ব ঘটনা সংঘটিত করেছে।

রতন লাল নাথ জানিয়েছিলেন, পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন বিভাগে গ্রুপ সি ও গ্রুপ ডি পদে এই শিক্ষকদের নিয়োগ দেওয়া হবে। তবে ছাঁটাই হওয়া শিক্ষকদের অন্যদের প্রার্থীদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে চাকরি পেতে হবে। শিক্ষামন্ত্রীর বার্তা কোনও চাকরির সুরক্ষা বিষয়ে শিক্ষকদের আশ্বাস দিতে ব্যর্থ হয়েছে।

বুধবার চাকরিচ্যুত শিক্ষকরা ব্যাপক প্রতিবাদে ফেটে পড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ তাদের উপর "লাঠিচার্জ" করে। কিন্তু শিক্ষকের সংখ্যা এত বেশি ছিল যে পুলিশ তাঁদের থামাতে পারেনি। শিক্ষকরা "ডু অর ডাই" মোডে থাকায় পুলিশ আজ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে অক্ষম ছিল।

উল্লেখযোগ্য ত্রিপুরায়, শীর্ষ আদালতের রায়ে এ বছর ৩১ মার্চ ১০,৩২৩ জন শিক্ষককে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছিল। শিক্ষকরা এখন বিকল্প কর্মসংস্থান দাবি করছেন। রাজ্য ক্ষমতায় আসার আগে বিজেপি আশ্বাস দিয়েছিল যে তাঁরা মানবিক ভিত্তিতে শিক্ষকদের সমস্যা সমাধান করবে। কিন্তু এখনও শিক্ষকরা বিকল্প কোনো চাকরি পাননি। এদিকে, রতনলালের কোন কথায় আশ্বাস দিতে পারেনি তাঁদের!

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য