About Me

header ads

মেয়ের মোবাইলের চাহিদা মেটাতে না পেরে আত্মঘাতী বাবা!


ডেস্কও ওয়েব ডেস্কঃ অনলাইনে ক্লাস , দশম শ্রেণীর ছাত্রীর মোবাইলের চাহিদা মেটাতে না পেরে পারিবারিক অশান্তিতে আত্মঘাতী বাবা।
ঘটনার বিবরনে জানাযায়, টানা লকডাউনে স্কুল-কলেজ বন্ধ। বাড়িতে বসেই মোবাইলের মাধ্যমে অনলাইনে ক্লাস। দশম শ্রেণীতে পড়ে মেয়ে। সুতরাং অনলাইনে ক্লাস করার জন্য এন্ড্রয়েড মোবাইল একান্ত প্রয়োজন। কিন্তু নিত্য অভাবের সংসার। দুই মেয়ে, এক ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে দিনমজুরের কাজ করে কোন রকমে সংসার চালিয়ে যাচ্ছিলেন সুকুমার ভৌমিক, বয়স ৪৫। বাড়ি বিশালগড় মহাকুমার মধুপুর থানাধীন পুরাথল রাজনগর কলোনি এলাকায়। পরিবারের বড় মেয়ে  দশম শ্রেণীতে পড়ে। অনেকদিন ধরেই বাবার ওপর প্রচণ্ড চাপ দিচ্ছে দশম শ্রেণীর ছাত্রীটি। অনলাইনে ক্লাস করতে অতিসত্বর এন্ড্রয়েড মোবাইল চাই। নিত্য অভাবের সংসারে লকডাউন এর ফলে দিনমজুর বাবা সংসার চালাতেই হিমশিম খাচ্ছেন। তার ওপর আবার মেয়ের এন্ড্রয়েড মোবাইলের  চাহিদা। অনেক কষ্ট করে কোন রকমে দিনমজুর বাবা একটা সাধারন মানের মোবাইল কিনে দিয়েছেন মেয়েকে। আর তাতেই মেয়ের রাগ। মা ও মেয়ে মিলে বাবার সঙ্গে শুরু হয় ঝগড়া। প্রচন্ড রাগে - অভিমানে বাবা কিনে আনা নতুন মোবাইল সেটটি সবার সামনেই আছাড় দিয়ে ভেঙ্গে ফেলেন। মোবাইল ভেঙ্গে ফেলার পর থেকেই কারো সাথে কোন কথাবার্তা বলেননি। পরিবারের লোকজনও অভিমানে কোন কথা বলেননি।
অবশেষে মঙ্গলবার রাতে নিজের বসত করে না ঘুমিয়ে একা একা ভাঙ্গা একটি ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন। পারিবারিক অশান্তি তো চলছিলই। কিন্তু ইচ্ছা থাকলেও উপায় নেই। অবশেষে পারিবারিক অশান্তির জেরে আত্মঘাতী হয়ে চিরতরে বিদায় নেয় হতভাগা বাবা। বুধবার সকাল ছয়টার দিকে মধুপুর থানায় ফোন করে জানানো হয় এই দিনমজুরের আত্মঘাতীর খবর। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে দেখেন বাড়িতেই একটি ভাঙ্গাচোরা  ঘরে ফাঁসিতে ঝুলূ রয়েছেন হতভাগা পিতা সুকুমার ভৌমিক। সেখান থেকে মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়ে দেওয়া হয় হাসপাতালে। অস্বাভাবিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে আসে সমগ্র এলাকা জুড়ে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য