About Me

header ads

চিকিৎসা গাফিলতির কারনে নবজাতকের মৃত্যু আইজিএম হাসপাতালে!


ডেস্কও ওয়েব ডেস্কঃ রাজধানী লাগোয়া ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা সুভাষ চক্রবর্তী। শনিবার রাত দুটো নাগাদ সুভাষ চক্রবর্তী ওনার সন্তান সম্ভবা স্ত্রীকে নিয়ে আসেন আইজিএম হাসপাতালে। অভিযোগ হাসপাতালের নার্স বহু তালবাহানার পর চিকিৎসককে ডেকে আনেন। তারপর আরো একদফা চলে তালবাহানা। অবশেষে ওনার সন্তান সম্ভবা স্ত্রীকে হাসপাতালের প্রসুতি বিভাগে ভর্তি করা হয়। তারপর হাসপাতালের বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা তাদের সকলকে হাসপাতালের বাইরে বের করে দেয়।
রবিবার সকালে সুভাষ চক্রবর্তীর স্ত্রী রেখা চক্রবর্তী এক পুত্র সন্তানের জন্ম দেন। সুভাষ চক্রবর্তীর অভিযোগ ওনার স্ত্রী সন্তান জন্ম দেওয়ার দীর্ঘ সময় পর ওনাদেরকে জানানো হয়।  কিন্তু ওনারা যখন পুনরায় হাসপাতালে প্রবেশ করেন তখন জানতে পারেন ওনার পুত্র সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। সুভাষ চক্রবর্তীর আরও অভিযোগ তার আগে বহুবার তিনি হাসপাতালে স্ত্রীর কাছে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু হাসপাতালের বেসরকারী নিরাপত্তারক্ষীরা ওনাকে প্রবেশ করতে দেয়নি। হাসপাতালের চার বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষী বারে বারে ওনাদেরকে বাধা দান করেছে।
শিশু সন্তানের মৃত্যুর বিষয়ে জানার পর সুভাষ চক্রবর্তী ও তার পরিবারের লোকজন উত্তেজিত হয়ে পড়ে। সুভাষ চক্রবর্তীর অভিযোগ হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ও বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষীদের জন্য ওনার পুত্র সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। তাই তাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করবেন বলেও জানান তিনি।এদিকে এক মহিলা জানান রাতের বেলা যখন রেখা চক্রবর্তীকে আইজিএম হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে তখন প্রসব ব্যথায় ছটফট করছিল রেখা চক্রবর্তী। কিন্তু হাসপাতালে এক নার্স রেখা চক্রবর্তীর সকল রিপোর্ট দেখার পর স্পষ্ট জানিয়ে দেয় আপনারা যেহেতু আগে জিবি হাসপাতালে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েছেন, তাই এখন রেখা চক্রবর্তীকে জিবি হাসপাতালে নিয়ে যান। অনেক তালবাহানার পর চিকিৎসককে ডাকা হয়। চিকিৎসক এসে রেখা চক্রবর্তীকে একটি ইনজেকশন দেয়। তারপর সকলকে হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়া হয়।
সকাল ৯টা নাগাদ একজন মহিলাকে হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগে যাওয়ার জন্য বলা হয়। তখন তিনি পুনরায় হাসপাতালে যান এবং প্রসূতি বিভাগে গিয়ে কোনো শিশু দেখতে পাননি। পরক্ষণে চিকিৎসক জানায় সদ্যজাত শিশুটি পরিপূর্ণ হয়নি। তাই তাকে বাঁচানো যাবে না। কিন্তু জন্মের পর শিশুকে আইসিইউতে নেওয়া হয়েছে কিনা সেই বিষয়েও কিছু বলা হয়নি। পরবর্তী সময়ে ওনারা জানতে পারেন যে সদ্যোজাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে।  তিনি আরো জানান হাসপাতালে চিকিৎসকদের গাফিলতি দেখে রাতেই ওনারা সন্তান সম্ভবা রেখা চক্রবর্তীকে বেসরকারি নার্সিংহোমে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু হাসপাতালে বেসরকারি নিরাপত্তা রক্ষীরা তাদেরকে চিকিৎসকের সাথে কথা বলতে দেয়নি।
তবে এই দিনের শিশুমৃত্যুর ঘটনা ফের একবার আইজিএম হাসপাতালে চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। এমনিতেই আইজিএম হাসপাতালের বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষীদের বিরুদ্ধে ভুরিভুরি অভিযোগ। মৃত শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে হাসপাতালে চার বেসরকারি নিরাপত্তা রক্ষী ও কর্তব্যরত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করার কথা জানানো হয়। অভিজ্ঞ মহলের মতে স্বাস্থ্য দপ্তর এই সকল বিষয়ের প্রতি নজর দেওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় সাধারণ মানুষ আইজিএম হাসপাতাল সহ সরকারি হাসপাতাল গুলির প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য