About Me

header ads

দ্বিতীয় মোদী সরকারের বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী!


ডেস্কও ওয়েব ডেস্কঃ  ২০১৯ সালে নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিপুল জয়ের পর এক বছর পূর্ণ হয়েছে। এই এক বছরে নরেন্দ্র মোদি কি করেছেন এবং  কি করবেন তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন ওঠে। ভারতবর্ষের স্বাধীনতার পর কোন প্রধানমন্ত্রী জনতার প্রতি যদি জবাব দিয়ে থাকেন  তিনি হচ্ছেন নরেন্দ্র মোদী। নরেন্দ্র মোদির যে যে প্রকল্প গুলো নিয়েছিলেন ভারতবাসীর উন্নয়নের স্বার্থে সেগুলির মধ্যে অনেক গুলি প্রকল্প সমাপ্ত হয়ে গেছে। ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর স্বচ্ছ ভারত অভিযান শুরু  করেছিলেন। অনেকগুলি বড় প্রকল্পের মধ্যে একটি ছিল স্বচ্ছ ভারত অভিযান। ছোট শিশু থেকে বৃদ্ধ সকলেই তা অনুভব করেছে।
বর্তমানে সমগ্র বিশ্বজুড়ে যখন করোনার প্রকোপ চলছে। সেই জায়গায় ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি যে  স্বচ্ছ ভারত অভিযান শুরু করেছিলেন তা বড় দিক।  স্বচ্ছতা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার থাকার ফলে করোণা থেকে অনেকটা রক্ষা পাওয়া যায়। প্রধানমন্ত্রী স্বচ্ছ ভারত অভিযানের স্লোগান দেওয়ার পরে সকলে নিজ নিজ বাড়ি ঘর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার কাজ শুরু করে দেয়। এটা ভারতবাসীর জন্য একটা বড় মাইলস্টোন হয়েছে। সোমবার নিজ সরকারী বাসভবনে সাংবাদিক সম্মেলন করে এই কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব।রাম  মন্দির,বাবরি মসজিদ, জাতি দাঙ্গার ফলে ভারতবর্ষের বহু মানুষের প্রাণ গিয়েছে। কেউ কোনদিন কল্পনাও করেনি সুপ্রিম কোর্ট রায় দেবে আর দেশের প্রধানমন্ত্রীর সকলের প্রতি আহ্বান জানাবে সেই রায় মেনে নেওয়ার জন্য। সেটাও এই ভারতবর্ষে হয়েছে। রাম মন্দির হোক আর ধারা ৩৭০ হোক। এক দেশ এক আইন হওয়া উচিত এটা ছোট থেকেই শুনতেন। অনেকে বলছিলেন কাশ্মীর থেকে যদি ৩৭০ ধারা তুলে দেওয়া হয়, আর্টিকেল ৩৫এ তুলে দেওয়া হয়, তাহলে আন্তর্জাতিক স্তরে যুদ্ধ হয়ে যাবে। এমন কিছুই হয়নি। কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা বিলুপ্ত  হয়ে গেছে। আর্টিকেল ৩৫এ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। পৃথক পৃথক দুটি কেন্দ্রশাসিত রাজ্য তৈরি হয়েছে। কিন্তু তার কোন প্রভাব ভারতবর্ষে যেমন পারেনি তেমনি বিদেশেও পড়েনি। সমগ্র ভারতবাসী তাকে স্বাগত জানিয়েছে। রাজ্যসভা এবং লোকসভাতে তা প্রমানিত হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
গরিবদের জন্য স্বাস্থ্যের ব্যবস্থা করতে হবে এই দাবিতে অনেকে মায়া কান্না করেছে। দীর্ঘ বছর এরাই ক্ষমতায় ছিল। কিন্তু কোন শ্রমিকের স্বার্থে কোন পদক্ষেপ নেয়নি।  সমগ্র বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে  বড় হেলথ স্কিম নরেন্দ্র মোদি দেশের মধ্যে লাগু করেছেন। আগে সকলে ভাবতো ইউরোপিয়ান দেশের জন্ম হলে সরকার স্বাস্থ্য এর সকল ব্যবস্থা করবে। ভারতবর্ষের সেটা হতে পারে তা  কখনো কেউ কল্পনাও করেনি। আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প চালুর ফলে, দেশের প্রায় এক কোটি পরিবার  লাভবান হচ্ছে। ত্রিপুরাতেও মানুষ বড় মাত্রায় লাভবান হয়েছে। ত্রিপুরার ৭৫% মানুষের কাছে  আয়ুষ্মান ভারত এর কার্ড রয়েছে। ৫ লক্ষ টাকার হেলথ ইন্স্যুরেন্স পাচ্ছে দেশের মানুষ। তিন তালাক নিয়ে সংখ্যালঘু তোষণের রাজনীতি হয়েছিল। তার পরাজয় উত্তরপ্রদেশে লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনে হয়েছে। তিন তালাক নিয়ে কেউ কথা  বলতে রাজি ছিল না। কারণ ভোট চলে যাবে তাই। কিন্তু দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সকলকে  এক জায়গায় এনে বলছেন সবকা সাথ সবকা বিকাশ। তারপরে নাম ২০১৯ এর নির্বাচনে দেখা  গিয়েছে তিন তালাকের জন্য যে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নরেন্দ্র মোদী নিয়েছেন তা ভোলার নয়। করোনা সংক্রমণের মধ্যেও ইতিহাস তৈরি করেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ত্রিপুরাও এর থেকে বাদ যায়নি। সামজিক দূরত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু সেটা সঠিক ভাবে সব রাজ্যে পৌঁছেছে কিনা তা তুলে ধরনে মুখ্যমন্ত্রী।
চেন্নাই থেকে ট্রেনে করে রাজ্যে আসাদের মধ্যে বড় সংখ্যায় করোনা সংক্রমণের বিষয়টি সামনে এসেছে। কোন রাজ্য দূরত্ব রাখলে অন্য রাজ্য প্রভাবিত হবে। এটাই হচ্ছে ত্রিপুরায়। শুন্যে চলে যাওয়া ত্রিপুরায় এখন আক্রান্তের সংখ্যা ৩১৬ তে পৌঁছে গেছে। যারা রাজ্যে এসেছেন তারা চেন্নাইতে সিভিল সোসাইটিতে ছিল। সেখানে কেন এই পরিসংখ্যান আসেনি এই নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব।আন লক ওয়ানে বেশ কিছু নিয়ম সিথিল করা হয়েছে। সেই ক্ষেত্রে নৈশ কালীন কার্ফুর সময় সীমা কমানো হয়েছে। একই সঙ্গে আন্ত রাজ্য বাস পরিষেবা চালুর বিষয়টিও রয়েছে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী জানান এখুনি আন্ত রাজ্য বাস পরিষেবা চালু হবে না রাজ্যে। জরুরী কারণ ছাড়া আন্ত রাজ্য বাস পরিষেবা চালু করা হবে না। এখন বাইরে থেকে রাজ্যের বাসিন্দারা আসছে। তাদের জন্য আগে ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সীমিত ব্যবস্থা রয়েছে রাজ্যের। যারা বহিঃ রাজ্য থেকে আসছে তাদের সম্পূর্ণ পরীক্ষা করা হবে। এই প্রচেষ্টা চলছে । আরো একটি পরীক্ষার মেশিন রাজ্যে আসবে।  পরীক্ষার মাত্রা বাড়ানো হবে। তবে যারা বহিঃ রাজ্য থেকে এসেছে তাদের সকলের পরীক্ষা করা হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব।
কেন্দ্রীয় তদন্তকারী দলের রিপোর্ট জমা পড়েছে। তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে পাঠানো হয়েছে। এই বিষয়ে তারা পরবর্তী সীমান্ত নেবে। তবে রিপোর্টে যা উঠে এসেছে সেই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন সামজিক দূরত্ব এবং কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থা তারা মানেনি। তাদের ট্র্যাভেল হিষ্ট্রি ছিল। বাইরে থেকে এসেছে। ফেব্রুয়ারি মার্চে বাইরে থেকে এসেছে। কিন্তু তাদের কোয়ারেন্টাইন করা হয়নি। যাদের ট্র্যাভেল হিষ্ট্রি ছিল তাদের নমুনা সংগ্রহ করা গেলে মার্চেই বিষয়টি সামনে আসত। ১৩৮ ও ৮৬ নাম্বার বাহিনী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সংক্রমিত হয়েছে। আগাম ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে এই সংক্রমণ ঠেকানো যেত বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব।কমিউনিটিতে ট্রান্সফার হওয়া সম্ভব নয়। কেননা গ্রামীন মানুষ অনেক সচেতন । সেই ক্ষেত্রে সোসাইটিতে সংক্রমণ হওয়া সম্ভব নয় বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব। একই সঙ্গে সকলকে আরোগ্য সেতু অ্যাপ ব্যবহার করার জন্য বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য