About Me

header ads

মুখ্যমন্ত্রীর অনুমান বিভিন্ন প্রকল্পে ত্রিপুরা রাজ্য ৪ হাজার ৮০২ কোটি ৮৮ লক্ষ টাকা পেতে পারে!


ডেস্কও ওয়েব ডেস্কঃ দীর্ঘ প্রায় দুই মাস পর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব প্রায় দুঘন্টার জন্য শুক্রবার মহাকরণে সাংবাদিক সম্মেলনে মিলিত হন। এদিনের সংবাদিক সন্মেলন মুলত ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দ্বারা ঘোষিত ২০ লক্ষ কোটি টাকার বিশেষ প্যাকেজ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কি ধারনা এবং উনার সরকারের কি অনুমান তার উপর ভিত্তি করেই ছিল।
সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন করোনা পরিস্থিতিতে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশের আর্থিক অবস্থার হাল ফেরাতে ২০ লক্ষ কোটি টাকার বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা করেন। রাজ্য সরকার হিসাব করে দেখেছে আনুমানিক ৪ হাজার ৮০২ কোটি ৮৮ লক্ষ টাকা পেতে পারে রাজ্য সরকার বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে। এর কিছুটা সরাসরি সরকার ও কিছুটা ভোক্তাকে দেওয়া হয়েছে। তার জন্য ভোক্তাদের এই বিষয়ে অবগত থাকতে হবে। না হলে এই প্যাকেজের সুফল পাবে না রাজ্যবাসি। ত্রিপুরাতে আসবে না অর্থ। বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে প্যাকেজের আর্থিক সুবিধা পাবে রাজ্য।
রেগা ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ৪০ হাজার কোটি টাকা প্রদান করেছে কেন্দ্র। যেসব কোম্পানিতে ১০০-র নিচে কর্মী রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে EPF-এর জন্য ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা দেবে কেন্দ্র। এতে কর্মচারী ও মালিক পক্ষ উভয়ই লাভবান হবে। আগামি ৬ মাসের জন্য ত্রিপুরা লাভ পাবে ৫ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা। রিয়েলএস্টেটের ক্ষেত্রে সময়সীমা ৬ মাস বর্ধিত করা হয়েছে। বিনা জরিমানায় এই বর্ধিত সময়সীমা ঘোষণা করা হয়েছে। MSME-তে ২০ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। ত্রিপুরাতে প্রায় ১০০ MSME ১০ কোটি টাকার মতো সুবিধা পাবে। এতে চা-বাগান গুলি ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবে বলে জানান। ১০০-র অধিক শ্রমিক যে সমস্ত সংস্থায় আছে তাদের EPF-এর ক্ষেত্রে অনুদান ১২ শতাংশের পরিবর্তে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। ত্রিপুরা ৫২ হাজার ২৪ জন কর্মী এর মাধ্যমে ১ কোটি ৪৬ লক্ষ টাকা লাভবান হবে। ত্রিপুরা রাজ্য বিদ্যুৎ পর্ষদ ৩২২ কোটি টাকা লাভবান হতে পারে।
ঠিকেদারদের ক্ষেত্রে অনুরুপ ভাবে ৬ মাসের সময়সীমা বর্ধিত করা হয়েছে। ছোট ঠিকেদার যাদের বিল বকেয়া আছে তাদের গত ৫ থেকে ৭ বছরের বকেয়া বিল প্রদান নিয়ে পর্যালোচনা চলছে। এই বিষয়ে অর্থ দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে বকেয়া বিল প্রদান করা হবে। স্পেশাল লিকুইডিটি NBFC, HFCS, NBIF-এর ক্ষেত্রে প্যাকেজ মোতাবেক ত্রিপুরা ১৩৫ কোটি টাকা পর্যন্ত সুবিধা পেতে পারে। যে সমস্ত ছোট ছোট সংস্থা ছোট কারবারিদের গ্রামাঞ্চলে ঋণ প্রদানের মাধ্যমে সহায়তা করে তাদের ঋণের ২০ শতাংশ টাকা দেবে কেন্দ্র। বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করার জন্য রাজ্য সরকারের অর্থ দপ্তরের এক কর্মী নিয়োগ করা হবে। স্পেশাল লিকুইডিটি NBFC, HFCS, এবং MFIS-এর মাধ্যমে ৩০ হাজার কোটি টাকা রাখা হয়েছে প্যাকেজে। ত্রিপুরা ৯০ কোটি টাকা পর্যন্ত তার থেকে পেতে পারে। MSME-তে ৯০ লক্ষ কোটি টাকা রাখা হয়েছে। ৫০০ MSME- সেক্টর ১০০ কোটি টাকা পেতে পারে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। গ্লোবাল টেন্ডারের ক্ষেত্রে ২০০ কোটি টাকা পর্যন্ত টেন্ডারের ক্ষেত্রে সুযোগ পাবে ভারতীয় সংস্থা গুলি। এই ক্ষেত্রে রাজ্যের MSME-র মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্য সামগ্রী গুণগত মান বজায় রেখে বিক্রয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আয়কর প্রদানের ক্ষেত্রে রাজ্যের আয়কর দাতারা ফেরত পেয়েছে ৮ দশমিক ৪৩ কোটি টাকা। রাজ্যে আয়কর দাতার সংখ্যা ৩৭ হাজার। আয়কর জমা দেওয়ার পর অর্থ ফেরত পেয়েছে ২ হাজার ৬৬৩ জন। স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে ১৪ কোটি ৮৪ লক্ষ NSI থেকে ৩ কোটি টাকা মিলিয়ে মোট ১৭ কোটি ৮৪ লক্ষ টাকা পেয়েছে রাজ্য সরকার। আগামি ৩ মাস পর্যন্ত যে কোন ব্যাঙ্ক থেকে ATM-এর মাধ্যমে টাকা তোলা যাবে। এতে রাজ্য লাভবান হবে ১ কোটি ৪৫ লক্ষ টাকা। আয়কর জমা দেওয়ার সময়সীমা বৃদ্ধি করে করা হয়েছে ২০২০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। GST-র ক্ষেত্রে জমা দেওয়ার সময়সীমা করা হয়েছে ২০২০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। শুক্রবার মহাকরণে সাংবাদিক সম্মেলন করে এই তথ্য তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব। যদিও এই দুঘণ্টার সাংবাদিক সন্মেলনে কোন বিষয়েই সুস্পষ্ট দিক নির্দেশন ছিলনা বলে বিভিন্ন মহলের অভিমত।
কেন্দ্রীয় তদন্তকারী দল এখনও তাদের রিপোর্ট পেশ করেনি। রিপোর্ট পেশ করার পরই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে একটি চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানানো হবে। বি.এস.এফ-এর আভ্যন্তরীণ বিষয়ে গিয়ে রাজ্য সরকার তদন্ত করতে পারে না। কেন্দ্রীয় গৃহ মন্ত্রককে অবগত করে পরবর্তী বিষয়ে ঠিক করা হবে। এই বিষয়ে জানান মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব।
রাজ্যের মানুষের পরামর্শ নিয়ে সরকার তার সিদ্ধান্ত প্রতিপালন করে চলেছে। মানুষ যা চাইবে সেই নিরিখেই সরকার কাজ করবে। স্বচ্ছতার সঙ্গে সমস্ত বিষয় আগামি দিনেও জনসমক্ষে তুলে ধরা হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব। এইদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন উপমুখ্যমন্ত্রী যীষ্ণু দেববর্মণ ও রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ কুমার।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ