About Me

header ads

তৃতীয় পর্যায়ঃ ‘আত্মনির্ভর ভারত’ প্রকল্পের তৃতীয় ধাপে কৃষি, পশুপালন ও মৎস্যচাষ নিয়ে প্যাকেজ ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী!


ডেস্কও ওয়েব ডেস্কঃ প্রথম দিন ছিল ক্ষুদ্র, মাঝারি ও অতিক্ষুদ্র শিল্পের জন্য প্যাকেজ। বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনের প্যাকেজে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল পরিযায়ী শ্রমিক, গরিব কৃষক, ফুটপাতের দোকানদার হকারদের। 'আত্মনির্ভর ভারত' প্রকল্পের আজ শুক্রবার তৃতীয় কিস্তি প্রকাশ করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। আজ অর্থমন্ত্রীর নজরে মূলত কৃষি, পশুপালন ও মৎস্যচাষ। 
সরাসরি কৃষিক্ষেত্র বা কৃষক নয়। বরং ঘুরপথে কৃষিক্ষেত্রের পরিকাঠামো, বাণিজ্য, ফসল কেনা-সহ নানা খাতে পুনরুজ্জীবন প্যাকেজের ঘোষণা করলেন নির্মলা সীতারামন। প্রচলিত কৃষিকাজ ছাড়াও পশুপালন, মৎস্যচাষ, মৌমাছি পালনের মতো প্রায় সব ক্ষেত্রেই প্যাকেজের ঘোষণা হয়েছে। জোর দেওয়া হয়েছে ভেষজ ও ঔষধী পণ্য উৎপাদনেও। এ ছাড়াও কৃষিক্ষেত্রকে মাথায় রেখে একাধিক সংস্কারের মতো পদক্ষেপের ঘোষণাও 'আত্মনির্ভর ভারত' প্রকল্পের তৃতীয় কিস্তিতে ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী।

নির্মলা সীতারামনের বক্তব্য:
কৃষকদের যাতে কেউ শোষণ করতে না পারে, তাও দেখা হবে নতুন এই আইনে
তার জন্য আইন আনার দিকে এগোবে সরকার
উৎপাদন থেকে ফসল কেটে বিক্রি করা পর্যন্ত কৃষকদের নিশ্চয়তা দেওয়া হবে
সেটা দূর করতে আইনি পদক্ষেপ করা হবে
ফসল কাটার সময় থেকেই কৃষকরা অনিশ্চয়তায় ভোগেন
প্রথম ধাপ: ১ লক্ষ কোটির প্যাকেজ কৃষির পরিকাঠামো উন্নয়নে দেওয়া হবে
সমুদ্রে মাছ ধরা এবং মৎস্য পালন সংক্রান্ত অন্যান্য সব কিছুর অনুমতি দেওয়া হয়েছে 
গত দু'মাসে ২৪২টি হ্যাচারির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে
বিদেশের অনেক অর্ডার সময়মতো পাঠাতে পারেননি কৃষকরা
লকডাউনের সময় দুধের চাহিদা কম থাকায় পশুপালকদের বিপুল ক্ষতি হয়েছে 
ফসল বিমা যোজনার টাকা কৃষকদের দেওয়া হয়েছে
লকডাউনের সময় ৭৪ হাজার ৩০০ কোটি টাকার ফসল কেনা হয়েছে 
লকডাউনের সময় আগেও অনেক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে
লকডাউনের মধ্যেও বিপুল পরিমানে সরকারি ভাবে চাষিদের থেকে শস্য কেনা হয়েছে
বাকি তিনটি সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে
আজ ১১টি পদক্ষেপ ঘোষণা করব, তার মধ্যে ৮টিই কৃষি সংক্রান্ত পরিকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত
খরা, বন্যার মোকাবিলা করেও ভারতকে সমৃদ্ধশালী করেছেন কৃষকরা
ডাল, আখ ও অন্যান্য ফসল উৎপাদনেও বিশ্বে গুরুত্বপূর্ণ স্থান রয়েছে ভারতের
ভারত বিশ্বে দুধ উৎপাদনে প্রথম
এ বছর প্রতিকূল অবস্থার মধ্যেও রবিশস্য ঘরে তুলেছেন কৃষকরা
আজ তৃতীয় দফায় কৃষিক্ষেত্র নিয়ে
দ্বিতীয় ধাপ: খাদ্য প্রক্রিয়াকরণে ১০ হাজার কোটি টাকার পুনরুজ্জীবন প্যাকেজ ঘোষণা করা হবে 
খুব শীঘ্রই এই তহবিল গঠন করে কাজ শুরু করা হবে
এর ফলে কৃষক ও কৃষি সমবায় সমিতিগুলি লাভবান হবে
এর মধ্যে কোল্ড স্টোরেজ, ফসল কাটার পর সংরক্ষণ, পরিবহণ-সহ যাবতীয় বিষয়ে এই টাকা খরচ করা হবে
তৃতীয় পদক্ষেপ: মৎস্যচাষে ২০ হাজার কোটি টাকার পুনরুজ্জীবনে দেওয়া হবে
কাশ্মীরে কেশর আছে, অন্ধ্রপ্রদেশে লঙ্কা আছে
উদাহরণ হিসেবে বলা যায় বিহারে গঠিত হবে মাখন ক্লাস্টার
বিভিন্ন রাজ্যে খাদ্য সংক্রান্ত ক্লাস্টার তৈরি হবে
প্রায় ২ লক্ষ মাইক্রো ফুড এন্টারপ্রাইজেস এর সুবিধা হবে
ছোট ছোট খাদ্যপ্রক্রিয়াকরণ সংস্থাগুলিকে সাহায্য করা হবে
প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন 'ভোকাল ফর লোকাল'
চতুর্থ ধাপ: ৫৩ কোটি গবাদিপশুকে টিকাকরণ করা হবে
বাকি ৯ হাজার কোটি খরচ হবে অন্তর্দেশীয় মৎস্য চাষে
এর মধ্যে ১১ হাজার কোটি টাকা সামুদ্রিক মৎস্য শিকার সেই সংক্রান্ত কাজে খরচ হবে
প্রধানমন্ত্রী 'মৎস্য সম্প্রদায় যোজনা'র মাধ্যমে ২০ হাজার কোটি টাকার পুনরুজ্জীবনে দেওয়া হবে
পঞ্চম ধাপ: ১৫ হাজার কোটি টাকার পুনরুজ্জীবন প্যাকেজ ডেয়ারি শিল্পের জন্য
১৩৩৪৩ কোটি টাকা খরচ হবে এই খাতে
গবাদিপশুর পায়ে ও মুখের রোগ নিরাময় করতে এই টিকা দেওয়া হবে
ষষ্ঠ ধাপ: ৪ হাজার কোটির প্যাকেজ দেওয়া হবে ভেষজ ও ঔষধী উদ্ভিদ উৎপাদনে
দুগ্ধজাত সামগ্রী রফতানিতে ইনসেনটিভ দেওয়া হবে
ডেয়ারি শিল্প তৈরি করলে ইনসেনটিভ মিলবে
ডেয়ারি শিল্পের উন্নয়নে এই টাকা খরচ হবে
ডেয়ারি শিল্পে বেসরকারি বিনিয়োগে উৎসাহ দেওয়া হবে
সপ্তম ধাপ: এ বার মৌমাছি পালন ক্ষেত্রের জন্য, ৫০০ কোটি টাকা এই খাতে বরাদ্দ করা হবে 
মোট ১০ লক্ষ হেক্টর জমিতে এই চাষ করা হবে
গঙ্গার ধার বরাবর ৮০০ হেক্টর জমি বাছাই করে সেখানে এই সব ভেষজ ও ঔষধী উদ্ভিদের চাষ করা হবে 
অষ্টম ধাপ: এই ধাপে কৃষিপণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রে, এর জন্য ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হবে
'লোকাল সে গ্লোবাল'-এর ক্ষেত্রেও এই প্যাকেজ কাজ করবে
অন্যান্য খাতের তুলনায় বরাদ্দ কম হলেও কৃষকদের বড় সুবিধা হবে
গ্রামীণ এলাকায় ২ লক্ষ মৌমাছি পালক কৃষক এতে উপকৃত হবেন এবং তাঁদের আয় বাড়বে
এটা খুব ছোট বিষয় কিন্তু খুব গুরুত্বপূর্ণ
নবম ধাপ: এই ধাপে সরকারি সংস্কার
দশম ধাপ: কেন্দ্রীয় একটি আইন আনা হবে, যাতে কৃষকদের ফসল বিক্রিতে নিয়ন্ত্রণ না থাকে
জরুরি পরিস্থিতি ছাড়া ঊর্ধ্বসীমা কার্যকর করা হবে না
বাধ্য হয়ে যাতে কম দামে ফসল বিক্রি না করতে হয়, তার জন্যই এই ব্যবস্থা
এতে কৃষকদের আয় বাড়ার সম্ভাবনা থাকবে
এ বার থেকে খাদ্যসামগ্রী মজুতের ঊর্ধ্বসীমা তুলে দেওয়া হবে
এসেনশিয়াল কমোডিটিজ অ্যাক্ট বা অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন সংশোধন করা হবে
একাদশ ধাপ: কৃষকদের ফসলের দামের নিশ্চয়তা দেওয়া হবে
এই সংস্কারের ফলে কৃষকরা আরও শক্তিশালী হবেন
আন্তঃরাজ্য বিক্রিতেও অনুমতি দেওয়া হবে
কৃষক তাঁর ফসল যেখানে খুশি বিক্রি করতে পারেন
শুধুমাত্র লাইসেন্সধারী এজেন্টদের কাছেই ফসল বিক্রি করতে হবে, এই গণ্ডি রাখা হবে না।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য