About Me

header ads

হাতে টানা সাইকেলেই দিল্লি থেকে দু সপ্তাহে আন্তঃরাজ্য বর্ডারে পৌঁছলেন জুবের!


ডেস্কও ওয়েব ডেস্কঃ জন্ম থেকেই বিকলাঙ্গ। পায়ে সাড় নেই। পোলিও আক্রান্ত সেই জুবেরই অসাধ্যসাধন করলেন লকডাউনে। দিল্লি থেকে দু সপ্তাহে পৌঁছলেন আন্তঃরাজ্য বর্ডারে। হেঁটে কিংবা গাড়িতে নয়, নিজের হাতে টানা সাইকেলেই তিনি প্রস্তুতি নিচ্ছেন গ্রামের বাড়িতে পা রাখার।
অভাবের তাড়নায় কাজ খুঁজতে জুবের পৌঁছে গিয়েছিলেন দিল্লিতে। দু মাস আগে। রাজধানী শহরে কাজও পেয়ে গিয়েছিলেন তিনি। গাজীপুর মান্ডিতে মাছ কেটে দিতেন তিনি দৈনিক ২০০ টাকার হিসাবে। তবে তখন ইতিমধ্যেই লকডাউনের ঘোষণা করে ফেলেছে কেন্দ্রীয় সরকার।
কোনোরকমে প্রথম পর্বের লকডাউন মেটার আগেই জুবের উপলব্ধি করেন তাঁর হাতের জমানো টাকা শেষ। এপ্রিলের ২৩ এ আর অপেক্ষা করেননি। চাল, গুড় আর নুন প্যাকেটে বেঁধে নিজের হাতে টানা সাইকেলে চড়ে বসেন তিনি। গন্তব্য গ্রাম আরারিয়া।
প্রায় দু সপ্তাহ পর গাজীপুর থেকে জুবের হাজির হয়ে যান উত্তরপ্রদেশ এবং বিহার বর্ডারে। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে জুবের আপাতত পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে নাম নথিভুক্ত করার লাইনে দাঁড়িয়ে। কোনো বাস মেলার প্রতীক্ষায় রয়েছেন। বাস না পেলে নিজের বাহনে চেপেই বাকি রাস্তা অতিক্রম করার চেষ্টা করবেন তিনি। জানিয়ে দিয়েছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও আর কোনোদিন ফিরবেন না দিল্লিতে।
উত্তরপ্রদেশ-বিহার বর্ডারে আপাতত লাখো লাখো পরিযায়ী শ্রমিক ভিড় করেছেন। দিল্লি, গুজরাট, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ থেকে আগত শ্রমিকরা অপেক্ষায়। বিহারের ২৫টি জেলার এন্ট্রি গেট এই আন্তঃ রাজ্য বর্ডার। অধিকাংশ শ্রমিকদের গন্তব্য আরারিয়া, কাটিহার, সাহার্ষা, সমস্তিপুর, কিষানগঞ্জ, দুই চম্পারণ। অনেক শ্রমিক জানাচ্ছেন, পায়ে হেঁটেই তাঁরা বর্ডারের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। কেউ কেউ আবার ট্রাকে লিফট নিয়ে এগিয়েছেন। আর্থিকভাবে কিছুটা স্বচ্ছলদের বিশাল অর্থের বিনিময়ে গাড়ি ভাড়া করেছেন।
রাজস্থানের জয়পুর থেকে ফিরছিলেন কাপড় মিস্ত্রি বাটরোট খান। তিনি কিছুটা পায়ে হেঁটে ট্রাকে চেপে সীমান্তে এসেছেন। তিনি ফিরবেন নারপতগঞ্জে। তবে জুবেরের মত নয়, তিনি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই ফের ফিরবেন কাজের জায়গায়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য