About Me

header ads

বেঙ্গালুরু থেকে রাজ্যে এসে পৌছালো বিশেষ ট্রেন!


ডেস্কও ওয়েব ডেস্কঃ করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে দেশজুড়ে লাগু রয়েছে লকডাউন। এই লক ডাউনের কারণে বহি রাজ্যে আটকে পড়ে রাজ্যের ছাত্র-ছাত্রী, তাদের অভিভাবক সহ বহু সাধারন নাগরিক। বহি রাজ্যে আটকে পড়া রাজ্যের ছাত্র-ছাত্রী, তাদের অভিভাবক ও রাজ্যের বাসিন্দাদের রাজ্যের ফিরিয়ে আনার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করে সরকার।
সেই মোতাবেক 10 মে বেঙ্গালুরু থেকে 1 হাজার 160 জন রাজ্যের বাসিন্দাকে নিয়ে বিশেষ ট্রেন রাজ্যের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। বুধবার ট্রেনটি আগরতলা রেল স্টেশনে এসে পৌঁছায়। তার আগে সরকারি নির্দেশিকা মেনে আগরতলা রেল স্টেশনে সকল ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এই বিশেষ ট্রেনটি প্রথমে বেঙ্গালুরু থেকে বদরপুর আসে। বদরপুর থেকে ট্রেনটি রাজ্যের উদ্দেশ্যে রওনা হয়।
ট্রেনটি এইদিন চুড়াইবাড়ি প্রবেশ করতেই ট্রেনের অভ্যন্তরে থাকা রাজ্যের বাসিন্দাদের মধ্যে খুশির জোয়ার বইতে থাকে। অবশেষে এই দিন বিকালে আগরতলা রেল স্টেশনে এসে পৌঁছায় এই বিশেষ ট্রেনটি। ট্রেনের এক সহ চালক জানান এই ট্রেনে দুজন চালক, দুইজন সহ চালক ও একজন গার্ড ছিল। বদরপুর থেকে ওনারা ট্রেনটিকে আগরতলা রেল স্টেশনে নিয়ে এসেছেন। অন্যান্য সময় যেভাবে ট্রেনকে নিয়ে আসা হয় তার থেকে এদিনের ট্রেন নিয়ে আসার অভিজ্ঞতা একটু ভিন্ন। কারণ হিসেবে তিনি জানান এই ট্রেনটি মাঝে কোথাও দাঁড় করানো হয়নি।
প্রশাসনের পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী এদিন বিশেষ ট্রেন বাধারঘাট রেলস্টেশনে পৌঁছাতেই আরক্ষা কর্মীরা ট্রেনটিকে ঘেড়াও করে নেয়। তারপর একটি একটি করে কামরা থেকে যাত্রীদের নামিয়ে আনা হয়। বাধারঘাট রেলস্টেশনে স্বাস্থ্য দফতরের কর্মীরা থার্মাল স্ক্রিনিংয়ের ব্যবস্থা করে। পৃথক পৃথক দশটি জায়গায় থার্মাল স্কিনিং করা হয়। ট্রেন থেকে নেমে আসার ক্ষেত্রে যাত্রীরা যেন সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখে তার জন্য রেলস্টেশনে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে রেখা টেনে দেওয়া হয়। সেই মোতাবেক যাত্রীরা রেল থেকে নেমে আসে এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা তাদের থার্মাল স্ক্রীনিং করে। একই সাথে সকল যাত্রীর হাতে স্ট্যাম্প মেরে দেওয়া হয়। যাদের কোন ধরনের উপসর্গ রয়েছে তাদের নমুনা সংগ্রহ করা হয়।
পশ্চিম জেলার মেডিকেল অফিসার জানান প্রশাসনিক নির্দেশিকা মেনে সবকিছু করা হচ্ছে। সকল যাত্রীদের আপাতত হোম কোয়ারান্টাইনে পাঠানো হবে বলে জানান তিনি।এদিন আগরতলা রেল স্টেশনে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম জেলার জেলাশাসক ডক্টর সন্দীপ এন মাহাত্মে, সদর মহাকুমার মহকুমা শাসক অসীম সাহা সহ অন্যান্য প্রশাসনিক আধিকারিকরা। সদর মহকুমার মহকুমা শাসক অসীম সাহা জানান ট্রেনটি বেঙ্গালুরু থেকে ১০ মে রাজ্যের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। ট্রেনে করে যারা এদিন রাজ্যে এসেছে সকলের থার্মাল স্ক্রিনিং করা হচ্ছে প্রশাসনিক নির্দেশিকা মেনে। আগরতলা রেল স্টেশনে ট্রেনটি এসে পৌছানোর সাথে সাথে সকল যাত্রীদের হাতে টিফিন ও জলের বোতল তুলে দেওয়া হয়েছে। এই বিশেষ ট্রেনে করে যারা যারা এসেছে তারা নিজ নিজ জেলায় বা বাড়িতে পৌছাতে যেন অসুবিধা না হয় তার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে গাড়ির ব্যবস্থা রয়েছে বলেও জানান সদর মহকুমা শাসক অসিম সাহা।
এদিন আগরতলা রেল স্টেশনের বাইরে সকাল থেকেই ভিড় জমাতে থাকে বহু অভিভাবক। কারন দীর্ঘদিন পর তাদের ছেলেমেয়েরা বহি রাজ্য থেকে বিশেষ ট্রেনে করে রাজ্যে ফিরে আসছে। তবে এইদিন আগরতলা রেল স্টেশনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। অভিভাবকদের এদিন স্টেশন চত্বরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। সে যাই হোক লকডাউন এর ফলে বহিঃরাজ্যে আটকে পড়া রাজ্যের ছাত্র-ছাত্রী,তাদের অভিভাবক অভিভাবিকা সহ সাধারণ নাগরিকরা রাজ্যে ফিরে আসতে পেরে যথেষ্ট খুশি তারা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ