About Me

header ads

প্রাইমারি সেক্টর গুলির উপর রাজ্যের অর্থনীতি নির্ভরশীলঃ মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব!


ডেস্কও ওয়েব ডেস্কঃ লক ডাউনের পর রাজ্যের অর্থনীতিকে ধরে রাখার জন্য প্রাইমারি সেক্টর গুলির উপর জোর দেওয়ার জন্য রাজ্য বাসীর প্রতি আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব। রবিবার রাজ্যবাসীর উদ্দেশ্যে এক বার্তায় এই কথা বলেন তিনি।
৩রা মে পর্যন্ত লকডাউন লাগু রয়েছে। কিন্তু তার মধ্যে নতুন নতুন কিছু নিয়মাবলী এসেছে। জীবনশৈলীতে পরিবর্তন আসছে। লকডাউন থেকে বেরিয়ে কিভাবে জীবনচর্চা স্বাভাবিক ভাবে করা যায় সেই বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশিকা রাজ্য সরকারের কাছে এসে পৌঁছেছে। গলি কিংবা গ্রামীণ এলাকায় বাড়ির সামনে থাকা দোকানগুলো খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। গ্রামীণ এলাকার বাজার গুলি খোলার অনুমতি কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার মিলিতভাবে দিয়েছে। কিন্তু বাজারগুলিতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কঠোর ভাবে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে। সরকারের পাশাপাশি জনগণের দায়িত্ব রয়েছে। জনগণের দ্বারাই সরকার পরিচালিত হয়। সরকার তার বাইরে কোন কিছুই নয়।
রবিবার রাজ্যবাসীর উদ্দেশ্যে এক বার্তায় এই কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব। গ্রামীণ এলাকার বাজার গুলি খোলার পর বাজারগুলিতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য যে নিয়মাবলী রয়েছে তা সঠিকভাবে পালনের জন্য বাজার ব্যবসায়ী কমিটির প্রতি আহ্বান জানান রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব। পুলিশ নির্ভরশীল না হয়ে ভলান্টিয়ার নির্ভরশীল ব্যবস্থা তৈরী করার আহ্বান জানান তিনি। ভলান্টিয়ার নির্ভরশীল ব্যবস্থা হবে স্থায়ী ব্যবস্থা। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে বাজারগুলোকে পরিচালন করার জন্য বাজার কমিটি গুলিকে ভলান্টিয়ার নিয়োগ করার পরামর্শ দেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রত্যেকটি বাজারে থার্মাল স্ক্যানিংয়ের ব্যবস্থা করবে রাজ্য  সরকার। যেসকল বাজারে থার্মাল স্ক্যানিং এর ব্যবস্থা নেই সেই সকল বাজার কমিটির কাছে মুখ্যমন্ত্রী আহ্বান জানান বাজার কমিটি গুলি যেন পার্শ্ববর্তী প্রশাসনিক আধিকারিক এর সাথে যোগাযোগ করে বাজারে থার্মাল ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করেন।
লকডাউন থেকে বেরিয়ে আসার পর কিভাবে ত্রিপুরা রাজ্য চলবে। তা ঠিক করতে হবে। সময় পেরিয়ে গেলে ত্রিপুরার অর্থনীতিকে ধরে রাখা যাবে না। ত্রিপুরা সরকারের সবচেয়ে বেশি লাভ হয় রাবার শিল্প থেকে।রাবার শিল্প থেকে ত্রিপুরা সরকারের বাৎসরিক প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা আয় হয়। বিভিন্ন রাজ্যের রাবারের শিল্প গুলি বন্ধ হয়ে থাকার ফলে রাবারের  চাহিদা নেই। যার ফলে বিগত দুই থেকে আড়াই মাসে ত্রিপুরা সরকারের প্রায় আড়াইশো কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। তাই এই সময়ের মধ্যে রাবার শিল্পের বিকল্প চিন্তা ভাবনা করতে হবে। তার   জন্য রাজ্যবাসীর সহযোগিতা চান মুখ্যমন্ত্রী। প্রাইমারি সেক্টর গুলোর উপর গুরুত্বারোপ করতে হবে। এই প্রাইমারি  সেক্টর এর মধ্যে রয়েছে পোল্ট্রি ফার্ম। ডিম ক্রয় করার জন্য রাজ্য সরকারের প্রচুর টাকা বহি রাজ্য চলে যায়।  সেই টাকা আটকাতে হবে। দুগ্ধশিল্পে ত্রিপুরা থেকে প্রায় ১,১০০ কোটি টাকা বহি রাজ্য চলে যায়। গাভী পালনের মধ্য দিয়ে এই টাকার থেকে কম করে ৩০০ কোটি টাকা আটকানো সম্ভব। যেখানে কমলালেবু চাষ হয় সেখানে কিভাবে দ্বিগুণ কমলালেবু চাষ করা যায় সে বিষয়ে কৃষি দপ্তরের সাথে আলোচনা করে সেই দিশাতে কাজ করার আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী। ফল চাষীদের কে সাহায্য করার জন্য দপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
লকডাউন এর ফলে ত্রিপুরাতে শাক সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তার প্রতি রাজ্য সরকারের নজর রয়েছে। এখন আলোচনা বা সমালোচনার সময় নয়। এখন কিভাবে এই দুর্যোগ থেকে  বেরিয়ে আসা যায় তার জন্য রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকার মিলে কাজ করছে। ত্রিপুরার অর্থনীতি যেন কোনোভাবেই নিচের দিকে না যায়, তার জন্য লকডাউন থেকে বেরিয়ে আসার পর সকলকে প্রাইমারি সেক্টর গুলির উপর জোড় দেওয়ার আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্য সরকার যে মডেল ত্রিপুরা তৈরি করার কথা বলেছিল তার থেকে এক পাও পিছু হাঁটবে না। তার জন্য রাজ্যবাসীকে রাজ্য সরকারের সাথে থাকার আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব।  তিনি আশা ব্যক্ত করেন রাজ্যবাসী রাজ্য  সরকারের পাশে থাকবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য