About Me

header ads

বহিঃরাজ্যে আটকে পড়া রাজ্যের বাসিন্দাদের জন্য তৎপর রাজ্য সরকার!

ডেস্কও ব্যুরোঃ রাজ্য কার্যকরী কমিটির বৈঠকে লক ডাউন চলাকালিন সময়ে বহিঃরাজ্যে আটকে পড়া রাজ্যের বাসিন্দাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সিদ্ধান্তক্রমে বিভিন্ন রাজ্যের ত্রিপুরা ভবন গুলিতে রিলিফ ক্যাম্প হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে। লক ডাউনের ২১ দিন পর্যন্ত বিনামূল্যে তাদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ত্রিপুরা ভবন গুলিতে যারা আছেন তাদের প্রতিদিন জন প্রতি ১১৮ টাকা করে খাদ্য প্রদান করা হবে। অন্যদিকে ত্রিপুরা ভবনের বাইরে থাকা রাজ্যের বাসিন্দাদের জন্য গুরুত্বপুর্ন সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্যের কার্যকরী কমিটি। ২১ দিন পর্যন্ত তাদের মাথা পিছু খাওয়া বাবদ প্রতিদিন ১৫০ টাকা করে দেওয়া হবে। থাকা বাবদ জন প্রতি প্রতিদিন এক হাজার টাকা করে প্রদান করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এই ক্ষেত্রে তথ্য যাচাইয়ের জন্য একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ তৈরি করা হয়েছে। ইতিমধ্যে জেলা শাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, বহিঃরাজ্যে আটকে পড়াদের একাউন্টে অর্থ প্রদান করার জন্য। শনিবার মহাকরণে সাংবাদিক সম্মেলন করে এই সংবাদ জানান স্বাস্থ্য দপ্তরের সচিব দেবাশিষ বসু।
 
করোনা সম্পর্কিত তথ্য জানান ডাক্তার দীপ দেববর্মা। এখনো পর্যন্ত রাজ্যে  কোয়ারেন্টাইনে রয়েছে ৯ হাজার ৮৬৪ জন। শুক্রবার পর্যন্ত ৪ হাজার ৯৫৪ জন ১৪ দিনের সময়সীমা সম্পন্ন করেছে। ইনস্টিটিউসনাল কোয়ারেন্টাইনে রয়েছে ১২৮ জন। হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছে ৪ হাজার ৭৮৪ জন। মোট কোয়ারেন্টাইনে রয়েছে ৪ হাজার ৯১০ জন। শনিবার ১৯১ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। সকলের নমুনার রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। রাজস্থানের বিকানিরে রাজ্যের দুই বাসিন্দার করোনা পজেটিভ পাওয়ার পর শনিবার ১১ জন বাসিন্দার বাড়িতে স্বাস্থ্য কর্মীদের পাঠানো হয়। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন তারা। নিজামউদ্দিন থেকে মাঝে রাজ্যে এসেছিল কিনা সেই বিষয়টিও পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে অবগত হন স্বাস্থ্য কর্মী ও প্রশাসনের দলটি। তবে ৫ মার্চ দিল্লি যাওয়ার পর ১১ জনের মধ্যে কেউই রাজ্যে ফিরে আসেনি। তারপরও সতর্কতা মূলক ব্যবস্থা হিসাবে তাদের পরিবারের সদস্যদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। প্রতিদিন স্বাস্থ্য কর্মীরা তাদের বাড়িতে গিয়ে স্বাস্থ্য বিষয়ক খোঁজ খবর নেবে। অন্যদিকে মম্বাই থেকে আসা ১০ জনকে চিহ্নিত করা হয়। ১৮ মার্চ তারা রাজ্যে আসেন। এক আত্বীয়ের বাড়িতে তারা ছিলেন। সতর্কতা মূলক ব্যবস্থা হিসাবে আত্বীয়ের বাড়িতে থাকা ৬ জনকেও কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। তাদের নমুনা পাঠানো হয়েছে পরীক্ষার জন্য।
 
রাজ্য কার্যকরী কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বহিঃরাজ্যে অবস্থানরত সরকারী কর্মচারীদের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে না। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে থাকা রাজ্যের বাসিন্দাদেরও এর আওতায় আনা হবে না। বহিঃরাজ্যে বসবাসকারীদের ক্ষেত্রেও একই সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে। হোস্টেল এবং বডিং-এ থাকা আবাসিক যাদের সেই রাজ্যের সরকার দেখাশুনা করছে, তাদের ক্ষেত্রেও এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে না। স্বাস্থ্য সম্পর্কিত কারনে কেউ বহিঃরাজ্যে চিকিৎসারত থাকলে কেবল তারাই এই সুবিধা পাবে। ছাত্র ও বহিঃরাজ্যে অসংগঠিত ক্ষেত্রে কর্মরতরাও এই সুবিধা পাবে বলে জানান স্বাস্থ্য দপ্তরের সচিব দেবাশিষ বসু।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য