About Me

header ads

সবথেকে বড় জরুরি অবস্থার মুখোমুখি ভারত: রঘুরাম রাজন!


ডেস্কও ব্যুরোঃ দেশে ক্রমশই গাঢ় হচ্ছে করোনার প্রকোপ। লকডাউন দেশে সোমবার সকালেই আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়াল চার হাজারেরও বেশি। সেই আবহে এবার মুখ খুললেন রিজার্ভ ব্যাঙ্কের প্রাক্তন গভর্নর রঘুরাম রাজন। দেশের এই সঙ্কটজনক অবস্থায় কীভাবে দরিদ্র সম্প্রদায়কে রক্ষা করা যায় তার জন্য দক্ষতা এবং ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সঙ্গে কেন্দ্র সরকারের উচিত আলোচনা করা এমন কথাও জানান রাজন। সেই প্রেক্ষিতেই তিনি বলেন যে এই মুহুর্তে এই করোনা অতিমারীর ফলে স্বাধীনতার পর সবথেকে বড় জরুরি অবস্থার মুখোমুখি ভারত
দেশের শীর্ষ ব্যাঙ্কের প্রাক্তন গর্ভনর অবশ্য মোদী সরকারের কার্যকলাপ নিয়েও মুখ খুলেছেন। তাঁর মত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সব কাজ করতে শুরু করলে এই সঙ্কট থেকে বেরনোর সময় আরও দীর্ঘায়িত হবে। রাজন তাঁর ব্লগ পারহ্যাপস ইন্ডিয়াস গ্রেটেস্ট চ্যালেঞ্জ ইন রিসেন্ট টাইমস এ লেখেন যে এখন এমন একটা মুহুর্ত যখন অনেক কাজ করা বাকি। করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে গেলে ভারতের শক্তির উৎসগুলিকে অগ্রাধিকার দিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে, এমন কথাও নিজের ব্লগে লেখেন তিনি।
তবে কোভিড-১৯ সংক্রমণ রুখতে ২১ দিনের লকডাউনের ফলে আর্থিকভাবে ঝিমিয়ে পড়েছে দেশের অর্থনীতি। কীভাবে এর থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব সেই প্রশ্নের উত্তরে রঘুরাম রাজন জানিয়েছেন যে লকডাউনের শেষে কীভাবে এগোবে ভারত সেই পরিকল্পনা অবিলম্বে করে ফেলা উচিত। রাজন বলেন, ভারতের অবস্থা আমেরিকা বা ইউরোপের দেশগুলির মতো নয় যে জিডিপিতে ১০ শতাংশের বেশি আমরা ব্যয় করতে পারি। এমনিতেই বিশাল ঘাটতির মধ্যে রয়েছি আমরা। আগামীতে আমাদের ব্যয় করতে হবে আরও বেশি। তবে বেশ কিছু ছোট ও মাঝারি শিল্প ইতিমধ্যেই ধুঁকছে, সে প্রসঙ্গে আরবিআই-এর প্রাক্তন গভর্নর বলেন, আমাদের আর্থিক সংস্থান সীমিত। সেই সংস্থান দিয়ে সকলকে বাঁচানো সম্ভব হবে না। তবে বড় সংস্থাগুলি কীভাবে চ্যানেলের মাধ্যমে ছোট সংস্থাগুলিকে আর্থিক সাহায্য দিতে পারে সে ব্যাপারে উপায় জানিয়েছিলেন তিনি। পাশাপাশি ব্যাঙ্ক, বীমা সংস্থাগুলি কীভাবে মিউচুয়াল ফান্ড, রেপো লেনদেনের মাধ্যমে ঋণ দেবে সে ব্যাপারেও তিনি বেশ কিছু পরামর্শও দেন।
প্রাক্তন আরবিআই গভর্নর আরও লিখেছেন যে কেন্দ্রের উচিত দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত শ্রেণি যাতে বেঁচে থাকতে পারে নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, ““রাষ্ট্র ও কেন্দ্রকে বেশ কিছু ক্ষেত্রে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। খাদ্য, স্বাস্থ্য, আশ্রয়ের ক্ষেত্র নিয়ে ভাবতে হবে। তা না করলে কী হবে তা পরিযায়ী শ্রমিক আন্দোলনেই দেখেছি আমরা। আর যদি তাঁরা বাঁচতেই না পারেন তাহলে লকডাউন পরবর্তীতে কাজ করতেও তাঁরা অস্বীকার করতেই পারেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ