About Me

header ads

কাল বৈশাখীর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার গুলিকে দেওয়া হবে ক্ষতিপূরণঃ মুখ্যমন্ত্রী!


ডেস্কও ব্যুরোঃ দুর্যোগ পরিস্থিতি ও করোনাকে মোকাবেলা করে ত্রিপুরা এগিয়ে যাবে। কাল বৈশাখীর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার গুলিকে SDRF-থেকে দেওয়া হবে ক্ষতিপূরণ। প্রশাসনিক আধিকারিকরা কাজ শুরু করে দিয়েছে। সহসাই ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সাহায্য প্রদান করা হবে। কাল বৈশাখীর ঝড়ের ফলে সিপাহী জলা জেলা ও কল্যাণপুর ব্লকের অধিন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে বৃহস্পতিবার এই কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব।
এক দিকে করোনার জেরে রাজ্য জুড়ে চলছে লক ডাউন, তার উপর প্রকৃতির নির্মম পরিহাস। করোনার হাত থেকে রক্ষা পেতে এক প্রকার গৃহবন্ধী মানুষ। আর কাল বৈশাখীর ঝর গৃহ বন্ধী মানুষকে গৃহ ছাড়া করে ছাড়ল। কাল বৈশাখীর ঝর আর তার সাথে শিলা বৃষ্টি। অসহায় করে দিয়েছে একাংশ মানুষকে। বিগত কয়েক বছরের মধ্যে এই ধরনের শিলা বৃষ্টি হয়তো রাজ্যের মানুষ প্রত্যক্ষ করেনি।
বুধবার সন্ধ্যায় ভারি শিলা বৃষ্টির ফলে মাথায় হাত বহু মানুষের। লক ডাউনের কারনে বেশির ভাগ মানুষ এই সময়ের মধ্যে নিজ বাড়িতে সময় কাটাচ্ছে। এরই মধ্যে বুধবার সন্ধ্যার প্রাক মুহূর্তে প্রবল বেগে ধেয়ে আসে কাল বৈশাখীর ঝর। বেশকিছুটা সময় এই ঝড়ের সাথে চলে শিলা বৃষ্টি। জার জেরে সিপাহিজলা জেলার বিভিন্ন এলাকা সহ কল্যাণপুর ব্লক এলাকার ব্যাপক ক্ষতি হয়। কাল বৈশাখীর ঝড়ের ফলে মুহূর্তের মধ্যে উপরে পরে বড় বড় গাছ। বসত ঘরের উপর ভেঙ্গে পড়েছে গাছ। এই সকল এলাকায় বিদ্যুৎ পরিষেবা মুখ থুবরে পরে। ভারি শিলা বৃষ্টির ফলে বহু মানুষের বসত ঘরের ছাউনি ছিদ্র হয়ে যায়। আবার ঝড়ের দাপটে বহু মানুষের বসত ঘরের ছাউনি উরে যায়। বাধ্য হয়ে অসহায় মানুষ আশ্রয় নেয় বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে।
বুধবার রাতেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী প্রশাসনিক আধিকারিকদের নির্দেশ দেন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য। বৃহস্পতিবার খোদ মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা গুলি পরিদর্শনে যান। এইদিন মুখ্যমন্ত্রী প্রথমে যান বিশালগড়  মহকুমার বৈদ্যার দিঘি এলাকায় সেখানে গিয়ে ঘরে দেখেন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা। সাথে ছিলেন সাংসদ প্রতিমা ভৌমিক, খাদি বোর্ডের চেয়ারম্যান রাজীব ভট্টাচার্য, জেলা শাসক, সহ অন্যান্য প্রশাসনিক আধিকারিকরা। সেখান থেকে তিনি যান পাতালিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায়, তারপর ভাঁটিলারমা এলাকা পরিদর্শন করেন। তারপর যান নবশান্তিগঞ্জ এলাকায়। কথা বলেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের লোকজনদের সাথে।
সেখান থেকে মুখ্যমন্ত্রী সহ অন্যান্যরা যান টাকারজলা এলাকায়। সেখানেও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন শেষে শরণার্থী শিবিরে গিয়ে কথা বলেন খতিগ্রস্তদের সাথে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার গুলিকে প্রাথমিক ভাবে আর্থিক সাহায্য হিসাবে ৫ হাজার টাকার চেক তুলে দেন। তারপর মুখ্যমন্ত্রী চলে যান কল্যাণপুর ব্লকের অধিন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন শেষে শরণার্থী শিবিরে গিয়ে ক্ষতি গ্রস্ত লোকজনদের সাথে কথা বলেন।
মুখ্যমন্ত্রী সংবাদ প্রতিনিধিদের জানান বুধবার সন্ধ্যায় কাল বৈশাখীর ঝড়ের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে সিপাহিজলা জেলার টাকারজলা ও গোলাঘাটি এলাকার। তার সাথে কল্যাণপুর ব্লক এলাকার কিছু অংশের ক্ষতি হয়েছে। একদিকে লক ডাউন, তার উপর কাল বৈশাখীর ঝড়ের ফলে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে কৃষি ও রাবার বাগানের। শিলা বৃষ্টির ফলে মানুষের বসত ঘরের টিনের ছাউনির ক্ষতি হয়েছে। এখনো পর্যন্ত প্রায় ৫৫০ টি পরিবার শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে। বুধবারের কাল বৈশাখীর ঝড়ের ফলে কোটি টাকার সম্পত্তির ক্ষতি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান কাল বৈশাখীর ঝর যে এলাকা দিয়ে গিয়েছে সেই এলাকার সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। বিধায়ক ও প্রশাসনিক আধিকারিকরা বুধবার রাত থেকে কাজে লেগে গেছে। যাদের ক্ষতি হয়েছে তাদের SDRF-থেকে সাহায্য করা হবে। দুই দিনের মধ্যে সকল ধরনের ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। এই সময়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা কিছুটা সমস্যা। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী আশা ব্যক্ত করেন এই দুর্যোগ পরিস্থিতি ও করোনাকে মোকাবেলা করে ত্রিপুরা এগিয়ে যাবে।
কল্যাণপুর ব্লকের অন্তর্গত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনকালে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেবের সাথে ছিলেন বিধায়ক পিনাকী দাস চৌধুরী, ত্রিপুরা ক্রীড়া পর্ষদের সচিব অমিত রক্ষিত সহ প্রশাসনিক আধিকারিকরা। তবে এইদিন দুঃসময়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেবকে কাছে পেয়ে যথেষ্ট খুশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য