About Me

header ads

রাজ্যে আরও এক সাংবাদিকের উপর দুষ্কৃতিদের অতর্কিত প্রাণঘাতী হামলা!

ঘটনার বিবরণে জানা যায় বুধবার রাতে রাজধানীর দশমিঘাট এলাকায় দশমী দেখতে যান ত্রিপুরা রাজ্য ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সোসাইটির সম্পাদক সৌরজিৎ পাল। দশমিঘাটের উদ্দেশ্যে যাওয়ার সময় মাঝ রাস্তায় সৌরজিৎ পালের উপর অতর্কিত প্রাণঘাতী হামলা চালায় একদল দুষ্কৃতী। ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় আঘাত করার পাশাপাশি বুকে পিস্তল ঠেকিয়ে প্রান নাশের হুমকি দেওয়া হয়। তখন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন বটতলার ফাঁড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি সহদেব ভৌমিক। ওনার চোখের সামনেই ঘটে সম্পূর্ণ ঘটনা।

ঘটনার পর বটতলা ফাঁড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি সহদেব ভৌমিক অভিযুক্তদের ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সাহায্য করে। দুষ্কৃতীদের হামলায় গুরুতর ভাবে আহত হন সৌরজিৎ পাল। ওনার মাথায় গুরুতর ভাবে আঘাত লাগে। বুকে পিস্তল ঠেকিয়ে দুষ্কৃতীরা সৌরজিৎ পালের সাথে থাকা তিন ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন ও নগদ অর্থ ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরবর্তী সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত জনগণ গুরুতর আহত অবস্থায় সৌরজিৎ পালকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে আইজিএম হাসপাতালে নিয়ে যান। মাথা ফেটে যায় সৌরজিৎ পালের। মাথায় দিতে হয় ছয়টি সেলাই। আহত সৌরজিৎ পাল এক দুষ্কৃতীকে শনাক্ত করতে সক্ষম হন। সেই দুষ্কৃতীর নাম বাপ্পা নন্দি। পিতা দীপক নন্দী। তার বাড়ি রাজধানীর দশমিঘাটের মহাবীর ক্লাব সংলগ্ন এলাকায়। তার নেতৃত্বে অন্যান্যরা এই ঘটনা সংগঠিত করে। যতটুকু খবর এই বাপ্পা নন্দী দশমিঘাট এলাকায় সমাজদ্রোহী হিসাবে পরিচিত। নানা অসামাজিক কাজের সাথে যুক্ত সে। সিমেন্টের ব্যবসার আড়ালে নানা অবৈধ ক্রিয়া কলাপের সাথে যুক্ত সে। এই বাপ্পা নন্দীর সাথে রয়েছে আরও বেশ কয়েকজন যুবক। অভিযুক্ত বাপ্পা নন্দি এবং তার সঙ্গীদের আস্ফালনে দশমীঘাট এলাকার মানুষ একপ্রকার অতিষ্ঠ।

এই ঘটনায় জড়িত অপর অভিযুক্তরা হল অনুপ দেব, বান্টি, পাপন দাস ও সৌরভ ওরফে বাবন মজুমদার।  দশমীঘাট এলাকার পরিবেশ তারা বিষিয়ে তুলেছে। বুধবার রাতের ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত বাপ্পা নন্দী সহ বাকী অভিযুক্তদেরকে  বাচানোর জন্য মরিয়া হয়ে ময়দানে নেমেছেন বটতলা ফাঁড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি সহদেব ভৌমিক। আরও খবর বাপ্পা নন্দীর সিমেন্টের ব্যবসার আড়ালে থাকা অবৈধ ক্রিয়াকলাপের সকল তথ্য বটতলা ফাঁড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি সহদেব ভৌমিকের নিকট রয়েছে। কিন্তু অভিযুক্ত স্বঘোষিত মাফিয়া বাপ্পার সাথে বটতলা ফাঁড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত গুণধর ওসি সহদেব ভৌমিকের সুসম্পর্ক থাকায় তিনি কোন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেন না। দশমীঘাট এলাকায় কান পাতলেই এই বাপ্পার অবৈধ ক্রিয়াকলাপের কথা শুনা যায়।

এদিকে ঘটনার পর অভিযুক্ত বাপ্পি নন্দীর বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হলেও এখনো অধরা অভিযুক্ত। অভিযুক্তকে বাঁচাতে একাংশ পুলিশকর্মী বুধবার রাত থেকে ময়দানে ঝাপিয়ে পড়েছে। যতটুকু খবর অর্থের বিনিময়ে থানা বাবুদের ম্যানেজ করার চেষ্টা চলছে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন মহল থেকে নিন্দার ঝড় উঠেছে।

এই ঘটনার তিব্র নিন্দা জানিয়েছে ত্রিপুরা জার্নালিস্ট ইউনিয়ন, আগরতলা প্রেসক্লাব, ত্রিপুরা রাজ্য ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সোসাইটি সহ সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠন। দাবি জানানো হয়েছে অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তি প্রদানের। এখন দেখার পুলিশ কি ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

Post a Comment

0 Comments