About Me

header ads

নিখোঁজ হওয়া দুই মাদ্রাসা ছাত্র উদ্ধার এলাকায় স্বস্তির নিশ্বাস!

গত প্রায় ১০ দিন  আগে ত্রিপুরা ও অসম থেকে  দুদিনে চার মাদ্রাসা ছাত্র নিখোজের ঘটনায় গোটা উত্তর জেলায় নানা প্রতিক্রিয়া ছড়িয়ে পড়ে। পরে দুই ছাত্র উদ্ধার হয় । সোমবার  আরেক ছাত্র উদ্ধার হওয়াতে কিছুটা হলেও স্বস্তির নিশ্বাস নিচ্ছে উভয় রাজ্যের পুলিশ। কিন্তু রেলের কামড়া থেকে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার হওয়া ছাত্রের পরিবারকে কে বা কারা ফোন করে আগাম খবর দিল। একই সঙ্গে পুলিশকে এই বিষয়ে অবগত করতে কেনই বা নিষেধ করল এই নিয়ে প্রস্ন দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে গত ১০ দিন পূর্বে দুইদিনে ত্রিপুরা ও অসম থেকে মোট চার মাদ্রাসা ছাত্র নিখোঁজ হয়। ত্রিপুরা থেকে নিখোঁজ হওয়া দুই ছাত্রের নাম রুহেল আহমদ এবং আরিফুল হক । এদের প্রথম জনের বাড়ি  উত্তর জেলার কদমতলা থানাধীন কালাগাঙ্গেরপার গ্ৰামে। এবং অন্যজনের বাড়ি পানিসাগর থানাধীন বিলথৈ গ্রামে। তারা অসমের কাঁঠালতলী আলিয়া মাদ্রাসা থেকে নিখোঁজ হয়। অপরদিকে আবু আহমেদ  এবং জুয়েল আহমেদ নামের আরও দুই মাদ্রাসা ছাত্র নিখোজের খবর পাওয়া গেছে। এদের প্রথম জনের বাড়ি কদমতলা থানাধীন কালাছড়া গ্রামে এবং অন্যজনের বাড়ি কুর্তি মধ্য রাজনগর এলাকায়। তাদের মধ্যে আবু আহমেদ অসমের নিলামবাজারের বাহাদুরপুর আলিয়া মাদ্রাসা থেকে নিখোঁজ হয়। এবং জুয়েল আহমেদ  সোনামোড়া মাদ্রাসা থেকে নিখোজ হয় বলে খবর পাওয়া গেছে। দুইদিনে পৃথক পৃথক ভাবে এই চার মাদ্রাসা ছাত্রের নিখোঁজ হওয়াতে গোটা উত্তর জেলা জুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

এ মর্মে ত্রিপুরা সহ অসমের নিলামবাজার থানা ও বাজারিছড়া থানায় মিসিং ডায়েরি করা হয়। ঘটনার পর উভয় রাজ্যের পুলিশ আদাজল খেয়ে মাঠে নামে। এদিকে গত বুধবার নিখোজ ছাত্রদের মধ্যে দুজনকে পাওয়া যাওয়াতে হাঁফ ছেড়ে বাঁচে অসমের বাজারিছড়ার কাঁঠালতলি পুলিশ। কাঁঠালতলি থেকে যে দুজন ছাত্র নিখোজ হয় আসলে তারা নিজেরাই মাদ্রাসা কামাই করে  ধর্মনগর রেল ষ্টেশনে এক রাত কাটিয়ে বাড়ি ফিরলে তাদের অভিবাবকরা হাঁফ ছেড়ে বাঁচেন। পরে তাদেরকে পুলিশ ফাঁড়িতে ডেকে নিয়ে জিঙ্গাসাবাদ করার পর তাদের পরিবারের হাতে সমঝে দেওয়া হয়। এদিকে সোমবার  চুরাইবাড়ি থানাধীন নদীয়াপুর রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন ট্রেনের কামরার ভিতর থেকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার হয় আবু আহমেদ নামের ওপর নিখোঁজ ছাত্র। আবু আহমেদের ঘর কদমতলা থানাধীন উত্তর হুরুয়ার ২ নং ওয়ার্ডে। আবু আহমেদ অসমের নিলাম বাজারের বাহাদুরপুর মাহমুদিয়া হাফিজী আলিয়া মাদ্রাসা থেকে ১১ দিন পূর্বে নিখোঁজ হয়। নিখোঁজ হওয়ার পর আবু আহমেদের বাবা লাল মিয়া ও তার আত্মীয়-স্বজনরা নিলাম বাজারের মাদ্রাসায় খোঁজখবর নেন। মিসিং ডায়েরি করেন নিলামবাজার থানা সহ কদমতলা থানাকে অবগত করেন।

অবশেষে রবিবার একটি নম্বর থেকে অপরিচিত এক ব্যক্তি আবু আহমেদ এর মায়ের মোবাইলে ফোন করে জানায়  যে আবু আহমেদকে অজ্ঞান অবস্থায় শিলচর আগরতলা দূরপাল্লার ট্রেনে পাঠিয়ে দেবে। তাছাড়া ওই অপরিচিত ব্যক্তি আরো জানায় যদি এই কথাগুলি ও মোবাইল নাম্বার পুলিশ বা কাউকে জানানো হয় তাহলে আবু আহমেদকে আর তারা পাবে না। সেই ভয়ে আবু আহমেদ এর মা-বাবা পুলিশ ও স্থানীয় কাউকে জানায়নি। ওই ব্যক্তির কথামতো এদিন নদীয়াপুর রেল স্টেশনে শিলচর আগরতলা দূরপাল্লার ট্রেনের অপেক্ষায় বসে থাকেন আবু আহমেদের মা-বাবা ও পরিজনরা। ট্রেন আসা মাত্র ট্রেনে খোঁজাখুঁজি করে দেখতে পান রেলের একটি কামরার অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে রয়েছে আবু আহমেদ। সাথে সাথে তাকে নিয়ে আসা হয় কদমতলা গ্রামীণ হাসপাতাল। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক আবু আহমেদ এর অবস্থা গুরুতর দেখে ধর্মনগর জেলা হাসপাতালে রেফার করেন। সম্পূর্ণ এখনো ধোঁয়াশার মধ্যে রয়েছে পরিবার।  জানানো হয় কদমতলা থানাকেও।

কদমতলা থানার পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছে। তবে পরপর রাজ্য বহি রাজ্য থেকে ৪ মাদ্রাসা ছাত্র নিখোঁজ ও তিন ছাত্রের পৃথক পৃথক ভাবে উদ্ধারের ঘটনায় জনমনে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে। তবে অন্য একজনকে এখন পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া যায়নি। রাজ্য ও বহি রাজ্যের পুলিশ তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।

Post a Comment

0 Comments