About Me

header ads

ত্রিপুরার উপজাতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সক্রিয় এনএলএফটি জঙ্গি!

কখনও লিফলেট, কখনও সরাসরি হুমকি চেয়ে টাকা আদায়ের চেষ্টা৷ যদিও সশস্ত্র সংগঠনটির কাছে এটা হল চাঁদা৷ পুরনো পথেই আবার সক্রিয় হতে চলেছে বিচ্ছিন্নতাবাদী নিষিদ্ধ গোষ্ঠী এনএলএফটি (National Liberation Front of Tripura)৷ ত্রিপুরায় একের পর নাশকতা ও গণহত্যা ঘটিয়ে সংগঠনটি কুখ্যাত৷
 
আসন্ন উপজাতি স্বশাসিত এলাকার নির্বাচনের আগে তাদের উপস্থিতি নিয়ে তথ্য পাচ্ছেন গোয়েন্দারা। উত্তর পূর্বাঞ্চল ভারতের এক সময়ের ত্রাস তথা ত্রিপুরার প্রথম সারির সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ন্যাশনাল লিবারেশন৷

গোয়েন্দা রিপোর্ট, ২০২০ সালে ত্রিপুরার উপজাতি এলাকা যা এডিসি (Tripura Tribal Areas Autonomous District Council) নামে পরিচিত, সেখানকার নির্বাচনে ফের শক্তি জাহির করতে নামছে এনএলএফটি৷ ইতিমধ্যেই একাধিক এলাকা থেকে এসেছে টাকা সংগ্রহের নামে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ। যদিও রিপোর্টে বলা হয়েছে, প্রতি এডিসি নির্বাচনেই বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলি সক্রিয় হয়। এবারও সেই পরিস্থিতি৷

রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, বাম জমানায় বিশেষ করে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারের টানা দু দশকের শাসনে রাজ্যে কোমর ভেঙে গিয়েছিল এনএলএফটি, এটিটিএফ (অল ত্রিপুরা টাইগার ফোর্স)-এর মতো গণহত্যায় জড়িত সংগঠনগুলির।

সর্বশেষ ত্রিপুরা এডিসি নির্বাচনে বিপুল জয় পায় বামফ্রন্ট। পরে বিধানসভা নির্বাচনে সেই জয় মিশে যায় মাটিতে। উপজাতি এলাকাতেই ধস নেমেছে সিপিএমের শক্তিতে। উঠে এসেছে আইপিএফটি (Indigenous People’s Front of Tripura)৷ সংগঠনটি রাজ্যে ক্ষমতায় থাকা বিজেপির সঙ্গে জোট করেছে৷ তবে এডিসি নির্বাচনে লোকসভার মতোই আলাদা লড়বে তারা৷

এডিসি ভোটের বিভিন্ন পক্ষ:
চতুর্মুখী লড়াই দেখা যাবে উপজাতি স্বশাসিত এলাকা এডিসি নির্বাচনে৷ সবাই এডিসি দখলে মরিয়া৷
১. শাসক বিজেপি৷
২. বিজেপি সরকারেরই শরিক দল আইপিএফটি৷
৩. গত বিধানসভার নিরিখে প্রধান বিরোধী সিপিএম৷
৪. লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যে দ্বিতীয় শক্তি হওয়া কংগ্রেস৷

সূত্রের খবর, কংগ্রেসের সঙ্গেই জোট করে অপর উপজাতি সংগঠন আইএনপিটি লড়াই করবে৷ সংগঠনটির শীর্ষ তথা প্রাক্তন ও প্রবীণ বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা বিজয় রাঙ্খলের এমনই ইচ্ছে৷

এই রাজনৈতিক সমীকরণের মধ্যেই উঠে আসছে সশস্ত্র সংগঠন এনএলএফটি সক্রিয় বিষয়৷ সূত্রের খবর, নিষিদ্ধ সংগঠনটির প্রথম দিকের সুপ্রিম কমান্ডার বিশ্বমোহন দেববর্মা গোষ্ঠী নিজেদের অস্তিত্ব জানাতে মরিয়া৷ তারা এডিসি নির্বাচনকে টার্গেট করেছে৷ এই গোষ্ঠীর বেশ কিছু নেতার নির্দেশে শুরু হয়েছে উপজাতি পাহাড়ি এলাকার সর্বত্র চাঁদা আদায়ের কাজ৷ ছড়াচ্ছে অপহরণের আতঙ্ক৷

গোয়েন্দা বিভাগের আশঙ্কা, প্রাথমিক পর্যায়ে তোলা আদায় করে সংগঠনের কোষাগার একটু ভরিয়ে নিতে চায় ন্যাশনাল লিবারেশনের জঙ্গিরা৷ তার পরের ধাপে নাশকতার পরিকল্পনা৷

রাজ্যে পরিবর্তনের পর থেকে বিভিন্ন সময়ে উপজাতি এলাকা জুড়ে সরকারি পরিষেবা থমকে পড়ে বলে অভিযোগ উঠেছে৷ সেই সঙ্গে ছড়াচ্ছে ক্ষোভ৷ পানীয় জল ও বিদ্যুতের যোগান, কর্মসংস্থান নিয়ে ক্ষুব্ধ উপজাতি এলাকায় বারে বারে অবরোধ হওয়ায় জটিল পরিস্থিতি৷ আশঙ্কা, উপজাতি ক্ষোভকে পুঁজি করেই নতুন করে সক্রিয় হতে চাইছে এনএলএফটি জঙ্গিরা৷

এক নজরে এনএলএফটি:
১. ১৯৯০ সালে তৈরি হয় সংগঠনটি৷
২. মূলত ত্রিপুরায় উপজাতি এলাকার খ্রিষ্টান ধর্মকে জোর করে প্রতিষ্ঠা ও পৃথক এলাকার দাবিতে সশস্ত্র পথে সামিল৷
৩. সংগঠনের তৎকালীন প্রধান বিশ্বমোহন দেববর্মা ও দ্বিতীয় সর্বচ্চো নেতা নয়নবাসি জামাতিয়া আন্ডার গ্রাউন্ড থেকে নাশকতা পরিচালনা করত৷
৩. পরে দশরথ দেব ও মানিক সরকারের বাম জমানায় এনএলএফটি নিজের অস্তিত্ব গুটিয়ে নেয়৷
৪. শীর্ষ জঙ্গি নেতা বিশ্বমোহন দেববর্মা গোপনে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকায় আশ্রয় নেয়৷ বাংলাদেশের গোপন আস্তানায় বদল হয় সংগঠনের সুপ্রিম নেতার৷ ক্ষমতা নেয় অপর জঙ্গি সুধীর দেববর্মা৷

সম্প্রতি সুধীর দেববর্মার নেতৃত্বে ৫০ জনের বেশি সশস্ত্র এনএলএফটি জঙ্গি আত্মসমর্পণ করে৷ তাদের মূল স্রোতে ফিরে আসার বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব৷

কিন্তু গোয়েন্দা রিপোর্টে বলা হয়েছে, মূল স্রোতে ফেরার নাম করলেও আত্মসমর্পণকারী জঙ্গিরাই তাদের পুরনো নেতা বিশ্বমোহন গোষ্ঠীর সঙ্গে হাত মিলিয়ে সন্ত্রাস ছড়াতে তৎপর৷ এডিসি নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে ততই তাদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাবে৷

ত্রিপুরায় বাম শাসনের পর পঞ্চায়েত নির্বাচনে ৯০ শতাংশের বেশি আসন দখল করেছে বিজেপি৷ উঠেছে বিস্তর রিগিং অভিযোগ৷ রাজনৈতিক সংঘর্ষে রক্তাক্ত হয়েছে ত্রিপুরা৷ এই সংঘর্ষ ক্রমে জঙ্গি কর্মকাণ্ডকে পথ করে দিচ্ছে বলেই মনে করা হচ্ছে৷

Post a Comment

0 Comments