About Me

header ads

কড়া উপনির্বাচন লড়াইয়ে বাধারঘাট কেন্দ্র!

তিনিও মিমি। তিনিও হঠাৎ করেই নির্বাচনী লড়াইয়ে। আর প্রতিদ্বন্দ্বী হলেন বুল্টি। তাঁর নামেও সিনেমার ছোঁয়া। বাঙালির মস্ত আবেগের ছবি সাহেব সিনেমার অন্যতম এক চরিত্র।

এই মিমি-বুল্টি লড়াইয়ের ঝাঁঝ দেখা যাচ্ছে ত্রিপুরার রাজনৈতিক মহলে। রাজ্যের অন্যতম বাধারঘাট কেন্দ্রের উপনির্বাচন। লড়াইয়ে রয়েছেন ক্ষমতাসীন বিজেপির মিমি মজুমদার। সিপিএমের বুল্টি বিশ্বাস। কংগ্রেসের রতন দাস।

প্রায় দু দশকের বেশি টানা ক্ষমতায় থাকার পর রাজত্ব হারানো সিপিএমের কাছে লড়াইটা কঠিন। আর ‘চলো পাল্টাই’ স্লোগানে ত্রিপুরায় গেরুয়া ঝড়ে মুড়ি-মুড়কি খাওয়ার মতো জিতে আসা বিজেপির চিন্তা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ভিশন ডকুমেন্ট পূরণ না করতে পারার অভিযোগ।

বাধারঘাট কেন্দ্রের উপনির্বাচন ঘিরে একটা যদি-কিন্তুর সমীকরণ ঘোরাফেরা করছে শাসক ও বিরোধীদের মধ্যে। শাসক বিজেপি-আইপিএফটি জোট বনাম বিরোধী বামফ্রন্টের সরাসরি লড়াই। আর রয়েছে কংগ্রেস। গত লোকসভা নির্বাচনে তারা ভোট প্রাপ্তির হারে বামেদের চিন্তায় ফেলে দিয়েছে।

উপনির্বাচন ২৩ তারিখ। বিজেপি প্রার্থী মিমি মজুমদারের হয়ে প্রচারে ঝাঁপিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার অংশ নিয়েছেন সিপিএম প্রার্থী বুল্টি বিশ্বাসের হয়ে। প্রদেশ কংগ্রেসের হেভিওয়েট নেতা তথা বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সহসভাপতি সুবল ভৌমিকও তাঁর প্রার্থী রতন দাসের হয়ে প্রচার করেছেন।


লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম আলোচিত কেন্দ্র ছিল যাদবপুর। সেখান থেকে নির্বাচিত হয়েছেন অভিনেত্রী মিমি। তাঁর সঙ্গে লড়াইয়ে ছিলেন সিপিএমের বহুল প্রচারিত মুখ তথা দুঁদে আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য।

তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা, এই বর্ষীয়ান বাম নেতা বিকাশরঞ্জন আবার ত্রিপুরার প্রাক্তন অ্যাডভোকেট জেনারেল। ত্রিপুরায় বিশেষ পরিচিত। রাজ্য সিপিএমের মুখপত্র ডেইলি দেশের কথা নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হয়। পত্রিকা প্রকাশ বন্ধ করা হয় সরকারি নির্দেশে। সেই মামলায় অবলীলায় জিতে ফের নিজের আইনি ক্যারিশ্মা দেখিয়েছিলেন বিকাশবাবু। কিন্তু যাদবপুরের মতো কেন্দ্রে তিনি জিততে পারেননি। প্রবল বাম বিরোধী হাওয়ায় পশ্চিমবাংলা থেকে লোকসভায় একটিও আসন পায়নি বামপন্থীরা। ত্রিপুরাতেও একই ছবি।

আর ত্রিপুরায় বাম সরকার পাল্টানোর পর থেকেই একের পর এক নির্বাচনে ধরাশায়ী হয়ে লোকসভার দুটি আসনেই হারতে হয়েছে সিপিএমকে। তবে বিরোধী বাম ও কংগ্রেসের দাবি ছিল ব্যাপক রিগিং ও হামলা করেছে বিজেপি। নির্বাচন কমিশনও সেই দাবি মেনে নিয়ে বিভিন্ন বুথে পুনরায় নির্বাচন করায়।

পরবর্তী ত্রিস্তর গ্রাম পঞ্চায়েত নির্বাচনেও ওঠে রিগিংয়ের অভিযোগ। বামদের রক্তক্ষরণ চলছেই। ৯০ শতাংশের বেশি আসন দখল করেছে বিজেপি। কিন্তু গত কয়েক মাসের পরিস্থিতি অন্যরকম। বিশেষ করে সরকারের তরফে হাসপাতালে নিখরচায় চিকিৎসা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটানো, সপ্তম পে কমিশন লাগু করা নিয়ে প্রবল বিতর্ক ও ঢালাও চাকরির প্রতিশ্রুতি সবই গিয়েছে বিজেপির বিরুদ্ধে। বিরোধী সিপিএমের দাবি, যে ভিশন ডকুমেন্ট প্রকাশ করে বিজেপি বিরাট চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তা পূরণ হয়নি। এই দাবিগুলি সামনে রেখে সম্প্রতি আগরতলায় ছাত্র-যুব সমাবেশ করে ডিওয়াইএফআই ও বাম উপজাতি যুব সংগঠন। বিরাট সমাবেশে চমকে যান বিজেপি নেতৃত্ব। সূত্রের খবর, বাম সমাবেশ যে চিন্তা ধরিয়েছে তা স্বীকার করেছেন বিজেপি নেতারা।

এই প্ররিপ্রেক্ষিতেই বাধারঘাট কেন্দ্রে উপনির্বাচন। কেন্দ্রটির নিজস্ব রাজনৈতিক বৈচিত্র আছে।
১. ১৯৭৭ সাল থেকে চারবার (১৯৭৭, ১০৮৩, ১৯৯৩, ২০০৩) বামেরা জয়ী এই কেন্দ্রে।
২. বারে বারে লড়াই দিয়েছিলেন কংগ্রেসের দিলীপ সরকার। ১৯৮৮, ১৯৯৮, ২০০৮, ২০১৩, তে তিনি বিধায়ক হন।
৩. সর্বশেষ ২০১৮ নির্বাচনে বিজেপিতে যোগ দিয়ে বিধায়ক হন। তাঁর প্রয়াণের পরেই উপনির্বাচন হতে চলেছে।

কেন্দ্র হিসেবে বাম বিরোধী মনোভাব রয়েছে বাধারঘাটে। আর রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক টালমাটাল পরিস্থিতির সুযোগ তিনি মরিয়া বিরোধীরা।

Post a Comment

0 Comments