About Me

header ads

কাশ্মীরে কর্মরত জওয়ানদেরও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ নেই!

কাশ্মীরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে শুধু সাধারণ মানুষেরাই ভুগছেন এমন নয়, বন্ধ মোবাইল-ফোন-ইন্টারনেটের কারণে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না কেন্দ্রীয় বাহিনীর হাজার হাজার জওয়ান। এই সোমবারে আটদিন হল কাশ্মীর পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন।

শ্রীনগরের জিরো ব্রিজ চেকপয়েন্টে দুজন সিআরপিএফ জওয়ান বললেন, তাঁদের পরিবারের সঙ্গে শেষবার কথা হয়েছিল ৪ অগাস্ট। “এক সপ্তাহ হয়ে গেল। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করার কোনও উপায়ই নেই।”

কয়েকশ মিটার সামনে উত্তরপ্রদেশের একজন সিআরপিএফ একটা বেঞ্চের উপর বসেছিলেন, কথা বলছিলেন স্থানীয় বাচ্চাদের সঙ্গে। “সবরকম চেষ্টা করেছি”, বলছিলেন তিনি। “সবাইকে জিজ্ঞাসা করেছি, বাড়িতো কোনওভাবে একটা ফোন করা যায় কিনা। ভোর পাঁচটার সময়ে বেরিয়ে পড়ি, ক্যাম্পে ফিরতে সন্ধে হয়ে যায়। সারা দিন দাঁড়িয়ে। কোনও ফোন কোথাও কাজ করছে না। ক্যাম্পের সবাই একই অভিযোগ করছে, বাড়ির সঙ্গে কোনওরকম যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।”

স্থানীয় এক পুলিশকর্মীও ছিলেন ওঁর সঙ্গে। তিনি বললেন, তিনি ও তাঁর সহকর্মীরাও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না। “আমরা যারা শহরে থাকি, তারাও বাড়ি ফিরতে পারছি না। বাড়িতে যে কী হচ্ছে কিছুই জানি না।”

কোঠি বাগে দেখা হল ৪২ বছরের এক সিআরপিএফ জওয়ানের সঙ্গে। তিনি তামিলনাড়ু থেকে এসেছেন। গত ৫ অগাস্ট থেকে তিনি পরিবারের কারও সঙ্গে কথা বলতে পারেননি, “আমি রোজ আমার স্ত্রী ও ছেলেমেয়ের সঙ্গে কথা বলি… পরিবারের কী অবস্থা কিছুই বুঝতে পারথি না। ওরা নিশ্চয়ই আমাকে নিয়ে চিন্তা করছে, বিশেষ করে কাশ্মীরে কারফিউয়ের কথা জানার পর। আশা করি খুব দ্রুত যোগাযোগ শুরু হবে, আমি ওদের জানাতে পারব যে আমি নিরাপদে আছি।”

রিগ্যাল চকে সিআরপিএফের এক জওয়ান জানালেন, তিনি কাশ্মীরে এসেছেন এপ্রিল মাসে। “তখন নিয়মিত যোগাযোগ হত পরিবারের সঙ্গে। এখন ফোন কাজ করছে না, ছেলে দুটোকে খুব মিস করছি। এতদিন ওদের ছেড়ে থাকিনি কখনও।”

সরকার স্যাটেলাইট ফোনের ব্যবস্থা করেছিল বটে, কিন্তু দেখা গেছে, সেগুলোও কাজ করছে না। সেলফোন কোম্পানিগুলিকে বলা হয়েছে কিছু নির্দিষ্ট ফোন নাম্বার চালু করার ব্যবস্থা করতে। ফলে সিভিল ও পুলিশ প্রশাসনের উপরতলায়, কেন্দ্রীয় বাহিনীর উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের এবং স্বাস্থ্য, জল ও বিদ্যুতের মত প্রয়োজনীয় পরিষেবার আধিকারিকদের ফোন চালু আছে।

শ্রীনগরে এক পদস্থ পুলিশ আধিকারিক জানালেন সশস্ত্র সীমা বলের যে কর্মীরা তাঁর বাড়ি পাহারা দিচ্ছেন, তাঁরা দরজায় টোকা দিয়ে তাঁর ফোন ব্যবহার করতে দেওয়ার অনুরোধ করেছেন। “একজনের বাড়িতে কিছু সমস্যা ছিল। সে যোগাযোগ করতে চাইছিল। আমি ওকে ফোন দেওয়ার পর, পরপর সবাই আসতে থাকে। বাড়িতে ফোন করেছে ওরা। এখন নিশ্চিন্ত হয়েছে।”

সশস্ত্র সীমা বলের এক কর্মী বললেন, “প্রতিটি পরিবারেই অনেক সমস্যা রয়েছে। আমাদেরও পরিবার রয়েছে।” আসাম থেকে আসা ওই জওয়ান বললেন, “আমরাও কারও না কারও ছেলে, ভাই, বাবা, স্বামী। আমাদের ভালোবাসার মানুষরাও জানতে চায় আমরা কেমন আছি।”

Post a Comment

0 Comments