About Me

header ads

বিরোধীরা বাণ মারছে বলেই কি অসময়ে মারা যাচ্ছেন বিজেপি নেতারা?

বিরোধীরা বিজেপি নেতাদের ক্ষতি করার জন্য বাণ মারছে। সোমবার এ কথা বলেছেন ভোপালের বিজেপি সাংসদ প্রজ্ঞা ঠাকুর। বিজেপি রাজ্য দফতরে প্রয়াত অরুণ জেটলি ও মধ্য প্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বাবুলাল গৌরের স্মৃতির উদ্দেশে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, বিরোধীরা মারক শক্তি ব্যবহার করছে।

“এক সাধু আমাকে বলেছেন এখন খারাপ সময় চলছে। বিরোধীরা মারক শক্তি ব্যবহার করছে বিজেপির একনিষ্ঠ ও কঠোর পরিশ্রমীদের ক্ষতি করার জন্য। উনি আমাকে সাধনা কমাতে বারণ করেছেন। বলেছেন আমিও ওদের টার্গেট। আমার ঠিক মনে নেই উনি আর কী কী বলেছিলেন, কারণ আমি ওঁর কথার গুরুত্ব দিইনি। কিন্তু আমাদের সুষমা (স্বরাজ) জি, বাবুলাল (গৌর) জি এবং একদম সম্প্রতি (অরুণ) জেটলিজি মারা যাওয়ার পর মনে হচ্ছে ওঁপর কথা সত্যিও হতে পারে।” সংবাদসংস্থা এএনআই প্রজ্ঞা ঠাকুরকে উদ্ধৃত করেছে।

মারক শক্তিকে এক ধরনের জাদুক্ষমতা বলে বিশ্বাস করেন কেউ কেউ।  এর মাধ্যমে কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ক্ষতি করা যায় বলে ওই বিশ্বাসীরা মনে করেন। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি গত ২৪ অগাস্ট ও সুষমা স্বরাজ গত ৬ অগাস্ট মারা গিয়েছেন।
বিজেপির এই সাংসদ বলেছেন, “কিন্তু এখন যখন দেখছি সুষমাজি বাবুলালজি জেটলিজির মত নেতারা একের পর এক কষ্ট পেয়ে মারা যাচ্ছেন, তখন আমি ভাবতে বাধ্য হচ্ছি, মহারাজ ঠিক বলেছিলেন না! এটা তো সত্যি যে আমাদের নেতারা অসময়ে আমাদের ছেড়ে যাচ্ছেন।”
 
প্রজ্ঞা ঠাকুরের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে ভোপালের সাংসদকে এক হাত নিয়েছে কংগ্রেস। বিজেপিকে তারা পরামর্শ দিয়েছে অরুণ জেটলি, সুষমা স্বরাজ, মনোহর পরিক্কর ও বাবলাল গৌরের মৃত্যু নিয়ে ফাজলামো করার জন্য তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হোক।

মধ্য প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী কমল নাথের মিডিয়া কো অর্ডিনেটর নরেন্দ্র সালুজা বলেছেন, “কখনও উনি মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন এটিএস প্রধান হেমন্ত কারকারের শহিদ হওয়া নিয়ে মজা ওড়ান, বলেন ওঁর অভিশাপে কারকারের মৃত্যু হয়েছে, কখনও মহাত্মা গান্ধীর হত্যাকারী নাথুরাম গডসেকে দেশপ্রেমিক বলেন।” তিনি বলেন, এসব অর্থহীন মন্তব্য করার জন্য বিজেপির উচিত ওঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা। কংগ্রেসের মিডিয়া সেলের প্রধান শোভা ওঝা বলেছেন, এ ধরনের মন্তব্য আপত্তিকর। তিনি বলেছেন বিজেপির এই সাংসদের মস্তিষ্কবিকৃতি হয়েছে এবং তাঁর এখনই চিকিৎসা প্রয়োজন।
মালেগাঁও বিস্ফোরণ কাণ্ডে অভিযুক্ত প্রজ্ঞা ঠাকুর মাঝে মাঝেই বিতর্কিত মন্তব্য করে থাকেন। গত মাসেই তিনি বলেছিলেন শৌচাগার ও নালা পরিষ্কার করার জন্য তিনি সাংসদ হননি।

তিনি বলেছিলেন, “আমি নালা সাফ করার জন্য নির্বাচিত হইনি। আপনাদের বাথরুম পরিষ্কার করার জন্য তো আমি একেবারেই নয়। আমি যে কাজের জন্য নির্বাচিত হয়েছি সে কাজ ইমানদারির সঙ্গে করব।”

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য