About Me

header ads

ত্রিপুরায় ১৩ হাজারের বেশী মানুষ আশ্রিত ত্রাণ শিবিরে!

প্রকৃতির রোষানলে রাজধানী আগরতলা শহর সহ গোটা ত্রিপুরা৷ তেরো হাজারের বেশী মানুষ ত্রাণ শিবিরে আশ্রিত। মাঝারি ও অবিশ্রান্ত বৃষ্টি হচ্ছে গত ৪ দিন ধরে৷ সোমবার সকালের বৃষ্টিতে রাজধানী আগরতলা শহর জলে ডুবুডুবু অবস্থায় পরিণত হয়েছে৷ স্তব্ধ হয়ে পড়েছে স্কুল, কলেজ, অফিস, আদালত৷ ব্যহত স্বাভাবিক জনজীবন। শহরের রাস্তাঘাট জলের তলায় ডুবে রয়েছে৷ বানভাসী অবস্থা থেকে কোনভাবেই রেহাই পাচ্ছে না মানুষ৷
 
হালকা মাঝারি বৃষ্টিতেই রাজধানী আগরতলা শহরে জল জমে রাস্তাঘাট জলের তলায় ডুবে যাচ্ছে৷ ছড়া নালা গড়িয়ে জল ঢুকেছে মানুষের বাড়ি ঘরে, দোকানপাটে আবার কোথাও কোথাও সরকারি অফিসেও৷ রাজধানী আগরতলা শহরের বেশিরভাগ রাস্তা ঘণ্টার পর ঘণ্টা জলের তলায় নিমজ্জিত৷ তাতে রীতিমতো দিশেহারা সাধারণ মানুষ৷ সুকল কলেজ পড়ুয়া ছাত্রছাত্রীরা শিক্ষাঙ্গণে যেতে জটিল সমস্যার সম্মুখীন৷ প্রাইভেট টিচারের বাড়িতেও যেতে পারছে না অনেকেই৷ অফিস কামাই করতে হচ্ছে অনেককেই৷ জরুরি কাজে বাড়ি থেকে বের হয়ে অনেককে আটকে পড়তে হয়েছে বানভাসী আগরতলা শহরের কোন না কোন জায়গায়৷

এ অবস্থা থেকে উত্তোরণের পথ খুঁজে পাওয়া যে সহজ নয় ইতিমধ্যে তা বুঝতে সক্ষম হয়েছেন আগরতলা শহর ও শহরতলীর জনগণ৷ এজন্য অনেকেই বিগত সরকারের অপরিকল্পনা মাফিক রাস্তাঘাট ও জল নিষ্কাশনী কভার্ড ড্রেন তৈরি করাকেই দায়ী করেছেন৷ এছাড়াও রয়েছে একাংশের স্বার্থান্বেষী জনগণের সরকারি জমি দখল করে নেয়ার প্রবণতা৷ অনেক জায়গাতেই জল নিষ্কাশনী ড্রেন দখল করে রেখেছে ওইসব স্বার্থান্বেষীরা৷

এছাড়াও ড্রেনগুলিতে আবর্জনা ফেলে দিয়ে ড্রেন ভর্তি করে রাখার প্রবণতা জল নিষ্কাশনের ক্ষেত্রে মারাত্মক বাধার সৃষ্টি করছে৷ বর্তমান সরকার এসব বিষয় খতিয়ে দেখে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বলেছে৷ কিন্তু রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সেই নির্দেশ কতটা কার্যকর করা সম্ভব হবে তা নিয়েও জনমনে প্রশ্ণ দেখা দিয়েছে৷ এখন দেখার বিষয় বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব আগরতলা শহরকে এবং রাজ্যকে মডেল রাজ্যে পরিণত করার যে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছেন সেক্ষেত্রে আগরতলা শহরকে জঞ্ঝালমুক্ত করা এবং আগরতলাবাসীকে বানভাসী অবস্থা থেকে মুক্ত করা কতখানি সম্ভব হয়৷ জনগণ সেদিকেই তাকিয়ে আছেন৷

আগরতলা শহর ও শহরতলী এলাকায় বন্যা দুর্গতদের জন্য ৪৫টি ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে৷ ত্রাণ শিবিরগুলিতে ১৩ হাজার বিপন্ন মানুষ অবস্থান করছেন৷ শিবিরগুলিতে পর্যাপ্ত খাবার, পানীয় জল ও ওষুধপত্রের ব্যবস্থা করা হয়েছে৷ সোমবার সদরের এসডিএম সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান৷ তিনি বলেন, রবিবার সকাল থেকে আগরতলা শহর ও শহরতলী এলাকার বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে৷ বন্যা দুর্গত এলাকায় মানুষজনদেরকে উদ্ধারের জন্য এনডিআরএফ, টিএসআর এবং স্বেচ্ছাসেবী বাহিনীর সদস্যরা কাজে হাত লাগান৷ শিবিরগুলিতে আশ্রিতদের জন্য পর্যাপ্ত ত্রাণের ব্যবস্থাও করা হয়৷ যেসব লোক শিবিরে আসতে পারেননি সেইসব জলবন্দি মানুষজনের বাড়িঘরে শুকনো খাবার পৌঁছে দেওয়া হয়েছে৷ বন্যার কবলে পড়ে যাতে কেউ অনাহারে কিংবা বিনা চিকিৎসায় না থাকেন সেদিকে প্রশাসন সতর্ক দৃষ্টি রেখে চলেছে৷ এসডিএম জানান রাতের দিকেই বন্যার জল কমতে থাকায় সকালের দিকে অনেকেই বাড়িঘরে ফিরে গিয়েছেন৷

তবে সকাল থেকে আবার বৃষ্টি নামায় নদীর জল বাড়তে শুরু করে৷ ফলে দুর্গতদের অনেকেই পুনরায় ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন৷ প্রশাসন তাদের সব ধরনের সাহায্য সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছে বলে তিনি জানান৷ তিনি বলেন, ত্রাণ শিবিরগুলি পরিদর্শন করেছেন রাজ্যের মুখ্যসচিব, পশ্চিম জেলার জেলাশাসক, অতিরিক্ত জেলাশাসক এবং এসডিএম নিজে৷ ত্রাণ শিবিরগুলিতে পর্যাপ্ত ত্রাণের ব্যবস্থা রয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখেছেন মুখ্যসচিব এবং জেলাশাসক৷ কোথাও যাতে কোন ধরনের ঘাটতি দেখা না দেয় সেজন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে৷ এসডিএম এবং অতিরিক্ত জেলাশাসক সবকটি ত্রাণ শিবির পরিদর্শন করে বাস্তব পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেছেন৷

বন্যা দুর্গতদের জন্য যে ত্রাণের ব্যবস্থা করা হয়েছে তাতে দুর্গতরাও খুশি বলে দাবি করেছেন এসডিএম৷ বন্যার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির জন্য সরকার ও প্রশাসনের তরফে পর্যাপ্ত আর্থিক সাহায্যের চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি৷ এদিকে সোমবার সকাল থেকে মূশলধারে বৃষ্টিপাত হওয়ায় হাওড়া সহ অন্যান্য নদীগুলিতে পুনরায় জলস্ফীতি দেখা দেয়৷ ফলে বন্যা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করার আশঙ্কা রয়েছে৷

রবিবার রাত থেকে জল নামতে শুরু করলেও পাহাড়ি এলাকায় পুনরায় প্রবল বৃষ্টিপাত হওয়ায় হাওড়া নদী বিপজ্জনক আকার ধারণ করেছে৷ পুনরায় বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে৷ স্বাভাবিক কারণে মানুষ আরও অসহায় হয়ে পড়েছেন৷ বিভিন্ন এলাকার পরিশ্রুত পানীয় জলের সঙ্কট দেখা দিয়েছে৷ শুধু নিম্নাঞ্চলই নয় রাজধানী আগরতলা শহরও সোমবার সকালের প্রবল বর্ষণের ফলে ভয়াবহ বন্যার সম্মুখীন হয়৷ শহর এলাকার সবকটি রাস্তা জলের তলায় ডুবে যায়৷ এর ফলে সকাল থেকেই জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে৷

Post a Comment

0 Comments