About Me

header ads

বাংলাদেশে রক্তাক্ত ছেলেধরা গুজবের জেরে সতর্কতা ত্রিপুরায়!

তিনদিকে ঘেরা বাংলাদেশ। ফলে প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ ত্রিপুরাবাসীর। আর বাংলাদেশে ক্রমাগত ছেলেধরা গুজব ও গণপিটুনিতে খুন চলছে। এই ঘটনা যাতে ফের রাজ্যে একই পরিস্থিতি তৈরি করতে না পারে তার জন্য সতর্ক পুলিশ ও সরকার। বিধানসভা নির্বাচনে ত্রিপুরায় বাম সরকারের পতন হয়। নতুন বিজেপি-আইপিএফটি জোট সরকার ক্ষমতায় এসেছে। পরিবর্তনের ত্রিপুরায় তারপরেই ছেলেধরা গুজব ছড়ায় বেশি। সেই সঙ্গে শুরু হয় গণপিটুনির পর্ব।

রাজ্য পুলিশের এআইজি (আইন-শৃঙ্খলা) সুব্রত মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন- ছেলেধরা গুজবে রাজ্যে আগেও আইন হাতে তুলে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। খুনও হয়েছে। যেহেতু বাংলাদেশে এই গুজব বিরাট আকারে ছড়িয়েছে তাই আমরা বিশেষ নজর রাখছি। বাংলাদেশের বিভিন্ন ফেসবুক পোস্ট থেকে ত্রিপুরায় নতুন করে গুজব ছড়াতে না পারে সেই দিকটি লক্ষ্য রাখা হয়েছে।

ত্রিপুরায় গত দু বছরে এই ছেলেধরা গুজবের কারণে অন্তত ৫টি গণপ্রহারে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল। কখনও বিশালগড়ে মহিলারা আক্রান্ত হয়েছিলেন। কখনও ধলাই জেলায় যুবককে গণপ্রহারে খুন করা হয়। একইভাবে সিধাইতে ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়। রাজধানী আগরতলাতেও ছেলেধরা গুজবে লাঞ্ছিত হন একজন। সাব্রুমে এক শিল্পীকে ছেলেধরা চিহ্নিত করে পিটিয়ে মারারা ঘটনায় বিতর্ক চরমে ওঠে।

এই পরিস্থিতি যাতে আর না হয় তার জন্য সোশ্যাল সাইটে চলছে নজরদারি। বাংলাদেশে বিখ্যাত পদ্মা সেতু তৈরি হচ্ছে। এই বিরাট প্রকল্প নিয়ে শেখ হাসিনার সরকার যথেষ্ট আশাবাদী। কিন্তু সেতুর স্তম্ভ তৈরিতে মানুষের মাথা বিশেষ করে লাখ লাখ শিশুর মাথা লাগবে বলে ভুয়ো ফেসবুক পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে। এর পরেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন অভিভাবকরা। গুজবের সেই ফেসবুক পোস্টগুলিতে বলা হয়, ছেলেধরা এসে শিশুদের তুলে নিয়ে যাবে। এই গুজবের কারণে ঢাকায় রেণু নামে এক মহিলাকে প্রকাশ্যেই পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে।

একাধিক ফেসবুক পোস্টের ছবিতে কাটা মাথা সহ বীভৎস ছবি প্রকাশ হচ্ছে। সেই ছবি ত্রিপুরাতেও ছড়িয়ে পড়ছে। রাজ্য পুলিশের তরফে চলছে সেই পোস্ট ধরে ধরে পরিস্থিতি পর্যালোচনা। অভিযোগ, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারের আমলে জন নিরাপত্তা ছিল। কিন্তু নতুন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব ক্ষমতায় বসার পর থেকে ক্রমে অবনতি হয়েছে রাজ্যের জননিরাপত্তা। তাই এমন ঘটনা ঘটছে। বিরোধী সিপিএম ও কংগ্রেসের অভিযোগ, শুধু ছেলেধরা গুজব নয়, নির্বাচনের রাজনীতিকে রক্তাক্ত করেছে এই সরকার। রাজ্যের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ক্রমে দুর্বল হয়েছে।

Post a Comment

0 Comments