About Me

header ads

১০৯ ঘন্টা কুয়োয় আটক থাকার পর মৃত শিশু, প্রতিবাদে সোচ্চার গ্রাম!

শেষমেশ বাঁচানো গেল না দু’বছরের ফতেবীর সিংকে। ১০৯ ঘন্টা ধরে কুয়োয় আটকে থাকার পর ছোট্ট ফতেবীরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাকে মৃত ঘোষণা করেন ডাক্তাররা। মঙ্গলবার এই ঘটনার প্রতিবাদে পাঞ্জাবে সাঙ্গরুর জেলার সুনাম-ভাটিন্ডা হাইওয়ে অবরোধ করলেন ভগবানপুরা গ্রামের বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, ফতেবীরকে অনেক দেরিতে উদ্ধারের উদ্যোগ নেয় রাজ্য সরকার এবং জেলা প্রশাসন।

শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে প্রশাসনের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলা হয়েছে উদ্ধারের পদ্ধতি নিয়ে। ফতেবীরকে টেনে তোলেন মাঙ্গোয়াল গ্রামের বাসিন্দা গুরিন্দর সিং, যিনি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “আমি ‘মোটর ডিগিং’-এর কাজ করি, এবং প্রথম দিনেই খবর পেয়ে এখানে চলে আসি। তখনই অফার দিই যে একঘন্টার মধ্যে বাচ্চাটাকে তুলে আনব, কিন্তু আমাকে তা করার অনুমতি দেওয়া হয় নি। শেষ পর্যন্ত মঙ্গলবার সকালে আমাকে অনুমতি দেওয়া হলো, ১৫ মিনিটের মধ্যে তুলে আনলাম।”

কিন্তু এও শোনা যাচ্ছে, শিশুটির কোমরে দড়ি বেঁধে তাতে একটি হুক আটকে টেনে তোলা হয়েছে তাকে, যার ফলে তার কিছুটা শারীরিক ক্ষতি হয়ে থাকতে পারে। ফতেবীরের কাকা জানান, “আমাদের টাকার অভাব নেই, নিজেরাই টাকা দিয়ে লোক ভাড়া করে ওকে তুলে আনতে পারতাম, কিন্তু আমরা প্রশাসনকে বিশ্বাস করেছিলাম। অত্যন্ত নির্মম পদ্ধতি নেই তারা, এবং আমাদের পাঁচদিন ধরে অন্ধকারে রাখা হয়েছে। আমরা ঘটনার তদন্ত দাবি করছি, এবং চাইব, সাঙ্গরুরের ডিসি এবং এসএসপি-র বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হোক।”

বৃহস্পতিবার বিকেল চারটে নাগাদ তার বাবার ক্ষেতে একটি অব্যবহৃত খোলা কুয়োয় পড়ে যায় ফতেবীর। ১৯৯৯ সালের পর থেকে আর ব্যবহার হয় নি এই কুয়ো। তার পরিবারের অভিযোগ, ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিলিফ ফোর্স ডেরা সিরসা-র গ্রীন ফোর্সের সঙ্গে কাজ করতে অস্বীকার করায় উদ্ধারকার্যে দেরি হয়।

অন্যদিকে শিরোমণি আকালি দল গ্রামবাসীদের অনুরোধ জানিয়েছে, তাঁরা যেন তাঁদের হোয়াটসঅ্যাপ প্রোফাইল ছবি পাল্টে কালো পতাকার ছবি দেন, যার ওপর লেখা রয়েছে ‘রোশ – আরআইপি ফতেবীর, পাঞ্জাব সরকার মুর্দাবাদ’।

মঙ্গলবার সকাল দশটা নাগাদ একটি টুইট করে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিং বলেন, “ছোট্ট ফতেবীরের মর্মান্তিক মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। ওয়াহেগুরু যেন তার পরিবারকে এই বিরাট ক্ষতি সামলে ওঠার শক্তি দেন। সমস্ত ডিসি-র কাছে এই ধরনের খোলা কুয়ো সম্পর্কিত রিপোর্ট চেয়েছি, যাতে ভবিষ্যতে এই ধরনের ভয়াবহ দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।”

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য