About Me

header ads

কঠোর পরিশ্রম করেও এই বিজেপি নেতারা মন্ত্রিসভা থেকে বাদ!

তাঁরা এলেন, দেখলেন, জয় করে চলে গেলেন, কিন্তু তাঁদের জয়ের নেপথ্যের কারিগররা পিছনেই পড়ে রইলেন। এমনই সব কথা উঠে আসছে বিজেপির অন্দর থেকে। লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির বিপুল ভোটে জয়লাভের পিছনে দলের নেতাদের ভূমিকা দলে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে বলেই শোনা যায়। তবে এত আনন্দের মাঝেও কিন্তু কিঞ্চিৎ হতাশার সুর শোনা গেল দলের অন্দরে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, উদযাপনের পিছনে যে সব দলীয় কর্মীরা সংগঠন গড়ে তোলার কাজ করেছেন, অমিত শাহের কৌশল বাস্তবায়ন করেছেন, মন্ত্রীসভায় সেই অর্থে কোনও সুযোগ না পাওয়ায় সেই সব দলীয় কর্মীরা কিছুটা হতাশ।

নরেন্দ্র মোদীর নয়া মন্ত্রীসভায় পুরনো আমলা, তিনজন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং তিনজন রাজ্য বিজেপি প্রধান সুযোগ পেলেও, সর্বভারতীয় সম্পাদকেদের ঠাঁই হল না।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে বিজেপি পেয়েছিল ২৮২টি আসন, ২০১৯ এর লোকসভা নির্বাচনে সেই আসন সংখ্যা ৩০৩। শুধু তাই নয়, দেশের ২০টি রাজ্যেও শক্তিবৃদ্ধি হয়েছে বিজেপির। মনে করা হচ্ছে, মোদী সরকারের জনকল্যাণ খাতে ব্যবহৃত অর্থও এই জয়ের অন্যতম হাতিয়ার ছিল। তবে ২০১৪ সাল থেকে বিজেপির সহ সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং সচিবেরা কঠোরভাবে দলের জন্য পরিশ্রম করে গেছে এবং আজ বিজেপি দলের এই সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছেন তাঁরাই। এমনকি বিজেপি দলের মুখপাত্ররাও দলের ভাবমূর্তি বজায় রাখতে এবং সারা দেশে ‘মোদী ব্র্যান্ড’কে প্রতিষ্ঠা করতে সদাসর্বদা ব্যস্ত ছিলেন। কিন্তু সরকার গঠনে তাঁদের নাম না থাকায় বেশ কিছু হেভিওয়েট নেতাদের গলায় খানিক হতাশার সুর শোনা গেল। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বিজেপির সর্বভারতীয় উপ সভাপতি বিনয় সহস্রবুদ্ধে, প্রভাত ঝা, ও পি মাথুর। দলের সাধারন সম্পাদক সরোজ পান্ডে, ভুপেন্দর যাদব এবং অনিল জৈন রাজ্যসভার মন্ত্রী হলেও কেন্দ্রীয় পদে থাকার সুযোগ পান নি। তেমনই সুযোগ পান নি বিজেপির মিডিয়া প্রধান অনিল বালুনি এবং দলের মুখপাত্র জিভিএল রাও।

মোদীর নয়া মন্ত্রীসভায় আছেন রাজ্যসভার তিন সাংসদ – অমিত শাহ, রবিশংকর প্রসাদ এবং স্মৃতি ইরানি। লোকসভায় নির্বাচিত হওয়ার পর রাজ্যসভা থেকে পদত্যাগ করেন তাঁরা। দলের তরফ থেকে মনে করা হচ্ছে, এই শূন্যপদে নির্বাচিত হতে পারেন বিজেপির সর্বভারতীয় দলের নেতারা। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নাম কৈলাশ বিজয়বর্গীয় এবং অরুণ সিং। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির লড়াইয়ের জমি শক্ত করতে এবং ৪২টির মধ্যেও ১৮টি আসন নিয়ে বাংলায় গেরুয়া ঝড় তুলতে সাহায্য করেছিলেন বিজয়বর্গীয়। লোকসভা ভোটে তিনি নিজের জায়গা ইন্দোর থেকে না দাঁড়িয়ে বাংলায় পদ্ম শিবিরকে শক্ত করতে লড়াই চালিয়েছিলেন।

তেমনই ওড়িশায় অরুণ সিংয়ের নেতৃত্বে বিজেপি ২১টি আসনের মধ্যে ৮টি আসনে জয়লাভ করে তাঁদের লড়াই জারি রাখে। জয়ের এই লড়াইয়ে বিজেপির অপর সৈনিকের নাম রাম মাধব। যাঁর নেতৃত্বে উত্তর ভারত, জম্মু কাশ্মীরে সরকার গঠন করতে পেরেছিল ভারতীয় জনতা পার্টি। অপরদিকে দক্ষিণের ভার নিয়েছিলেন পি মুরলীধর রাও। তাঁর নেতৃত্বে নির্বাচনের আগে ১৫ লক্ষ দলের কর্মী-সমর্থকেরা প্রশিক্ষণ কর্মসূচী নেন এবং ২৮টির মধ্যে ২৫টি আসন নিয়ে কর্ণাটকে বিপুল ভোটে জয়ী হয় বিজেপি।

বিজেপির রাজ্যসভার সদস্য এবং দলের সাধারণ সম্পাদক ভূপেন্দর যাদব ছিলেন বিহার এবং গুজরাতের দায়িত্বে। তাঁর নেতৃত্বে বিজেপির ফলাফল দৃষ্টান্তস্বরূপ। অন্যদিকে দেশের মধ্যভাগ অর্থাৎ মধ্যপ্রদেশে বিজেপির দায়িত্বভার সামাল দিয়েছেন সহস্রবুদ্ধে এবং ২৯টি আসনের মধ্যে ২৮টিতেই জয়লাভ করে বিজেপি। মহারাষ্ট্রের দায়িত্ব সামলানো সরোজ পান্ডের নেতৃত্বে এবং শিবসেনার সঙ্গে মিলিতভাবে বিজেপি ৪৮টি আসনের মধ্যে ৪১টি আসনে জয়লাভ করে। তেমনই উল্লেখযোগ্য ফলাফল আসে ছত্তিশগড় থেকে। গত ডিসেম্বরে বিধানসভার ভোটে হেরে গেলেও এবারের লোকসভা নির্বাচনে অনিল জৈনের তত্ত্বাবধানে ১১টি আসনের মধ্যে ৯টি আসনে জয়লাভ করে বিজেপি। রাজস্থানে অবিনাশ রাই খান্নার নেতৃত্বে ২৫টির মধ্যে ২৪টি আসন জেতে বিজেপি, দিল্লী উত্তরাখণ্ডেও প্রায় একই ফলাফল। কিন্তু এই অবিশ্বাস্য জয়ের নেপথ্যের কারিগরদের জায়গা হয়নি মন্ত্রীসভায়। সেখানেই প্রশ্ন তুলছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

মোদীর নয়া মন্ত্রীসভায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রীপদে জায়গা পেয়েছেন মণিপুরের বিজেপি প্রধান প্রহ্লাদ প্যাটেল এবং অন্ধ্রপ্রদেশের ভি মুরলীধরন। মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়েছেন বিজেপির বর্ষীয়ান নেতা জে পি নড্ডা। তবে মনে করা হচ্ছে দলে অমিত শাহের পদে বিজেপি প্রধান হিসেবে আসতে পারেন নড্ডা। নিজেদের মন্ত্রিসভায় দেখতে না পাওয়া নিয়ে কোনও ক্ষোভ প্রকাশ করেন নি তাঁরা, বরং মন্ত্রিসভায় থাকার উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে কাজ করেন নি, তেমনটাই জানিয়েছেন এই নেতারা। এও বলেছেন, “আমরা দলের অনুগত সৈন্য, আমরা নিজেদের সাংগঠনিক কর্মসূচী নিয়েই সন্তুষ্ট। এই নীতিই বিজেপিকে অন্যান্য সব দলের থেকে স্বতন্ত্র করে তুলেছে।”