About Me

header ads

সাব্রুমের জঙ্গল থেকে দেশি পিস্তল, গুলি উদ্ধার!

চুরি যাওয়া বাইক উদ্ধারে গিয়ে মিলল দেশি পিস্তল, গুলি। ত্রিপুরার জঙ্গল থেকে উদ্ধার হয়েছে এসব।

শনিবার দক্ষিণ ত্রিপুরার শান্তিরবাজার মহকুমার এস ডি পি ও-র নেতৃত্বে জোলাইবাড়ি থানার পুলিশ চুরি যাওয়া বাইক উদ্ধারের জন্য অভিযান চালায়। সাব্রুম মহকুমার শাঁখবাড়ি এলাকার এক জঙ্গলের মধ্যে অবস্থিত জন্মজয় ত্রিপুরার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে উদ্ধার হয় ৯এমএম দেশি পিস্তল, ১৬ রাউন্ড গুলি, বাংলাদেশি ৩৮০ টাকা, ১৬৭০ ভারতীয় টাকা, ৩ টি বাংলাদেশি সিম কার্ড, ৫ টা মোবাইল, ভোজালি ২ টি, মোটর পাম্প। আটক করা হয় ৩ যুবককে।

ধৃত তিন যুবকের নাম অমিত ত্রিপুরা, জুয়েল ত্রিপুরা ও বাহাদুর ত্রিপুরা। এই অভিযানের আঁচ পেয়ে বাকিরা পালিয়ে যায় বলে অনুমান করেছিল পুলিশ। তারপর ধৃতদের মনুবাজার থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। বর্তমানে ধৃতরা পুলিশ রিমান্ডে রয়েছে। পুলিশ রিমান্ডে ধৃতরা স্বীকার করে যে অমিত ত্রিপুরা হল বিশালগড় জেল থেকে পলাতক স্বর্ণ ত্রিপুরা। অমিত ত্রিপুরা নামেই সে পরিচিত। আর বাহাদুর ত্রিপুরা বাংলাদেশের বাসিন্দা। পেশায় সে একজন ইঞ্জিনিয়ার। তাকে বাংলাদেশ থেকে রাজ্যে নিয়ে আসে স্বর্ণ ত্রিপুরা।

তারপর তারা আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি ও বিক্রির ব্যবসা শুরু করে গোপনে। তাদের এই স্বীকারোক্তি অনুযায়ী সোমবার ধৃত বাহাদুর ত্রিপুরাকে নিয়ে স্বর্ণ ত্রিপুরা ও জন্মজয় ত্রিপুরার শাঁখবাড়িস্থিত বাড়িতে অভিযান চালায় সাব্রুম মহকুমার পুলিশ। স্বর্ণ ত্রিপুরার বাড়ি ও বাড়ির পাশের জঙ্গল থেকে উদ্ধার হয় তিনটি ৯এমএম দেশি পিস্তল, এসএলআর এর ২৩ রাউন্ড গুলি।

এসএলআরের বুলেট হেড ৬ টি, বন্দুক বানানোর ওয়েলডিং মেশিন ১ টি, বন্দুক বানানোর টুলবক্স ১ টি, বেরেল ৮ টি সহ ওয়েলডিং পার্টস ও অন্যান্য সামগ্রী। তবে এখনো পলাতক জন্মজয় ত্রিপুরা। তাকে আটক করার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে আরও তথ্য বের করার চেষ্টা চলছে। সবচেয়ে বড় বিষয় সাব্রুম মহকুমার অন্তর্গত শান্তিরবাজার মহকুমা সংলগ্ন শাঁখবাড়ি এলাকাটি আগে থেকেই দুষ্কৃতীদের ঘাঁটি হিসাবে পরিচিত ছিল। এই এলাকা থেকে বেশ কয়েকবছর পূর্বে অপহরণ হয়েছিল এক পুলিশ কর্মী। পরে তার মৃতদেহ উদ্ধার হয়। আরও বড় বিষয় হচ্ছে এই এলাকার অদূরে রয়েছে টিএসআর নবম বাহিনীর সদর দফতর। তারপরও এলাকায় কি করে আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি ও বিক্রয়ের ব্যবসা চালিয়ে আসছিল ধৃতরা, এই নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে জনমনে। পাশাপাশি দক্ষিণ জেলা জুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে।