About Me

header ads

ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীর নাগরিকত্বকে কেন্দ্র করে বিতর্ক!

বিপ্লব দেবের জন্ম কি ভারতে, নাকি বাংলাদেশ? ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী কি ভারতীয়, নাকি বাংলাদেশী। লোকসভা নির্বাচন চলাকালীন বিল্পব দেবের নাগরিকত্বকে কেন্দ্র করে বিতর্কের দানা বেঁধেছে। সৈকত পল নামের জনৈক ফেসবুক ব্যবহারকারী বিল্পব দেবের একটি ছবি পোস্ট করে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীকে বাংলাদেশী বলে দাবি করেছেন। ইন্ডিয়া টুডের অ্যান্টি ফেক নিউজ ওয়ার রুম তদন্ত করে দেখেছে বিপ্লব দেব বাংলাদেশী নন, তাঁর জন্ম ভারতে। ত্রিপুরার গোমাটি জেলার উদয়পুরে।

১৬ এপ্রিল সৈকত পাল ‘টি.সি.সি.এফ’ নামের একটি ফেসবুক পেজে এই পোস্টটি করেন যা ইতিমধ্যে চারশোরও বেশিবার শেয়ার হয়ে গিয়েছে।

সম্প্রতি, তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে প্রচার করার জন্য বাংলাদেশী অভিনেতা ফিরদৌস আহমাদের ভিসা খারিজ করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র দপ্তর। সৈকত পলের পোস্টে ফিরদৌসের একটি ছবি ব্যবহার করে লেখা হয়েছে, “বিজেপির প্রশ্ন – বাংলাদেশী অভিনেতা কি ভাবে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিতে পারে? ফিরদৌসের ছবিটির তলায় বিপ্লব দেবের ছবিতে লেখা হয়েছে, “কিন্তু যে প্রশ্নের উত্তর বিজেপি দেয় না…. একটা বাংলাদেশী কার্টুন কি ভাবে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী হয়।”

আমরা এর পরে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীর নাগরিকত্ব নিয়ে ইন্টারনেটে খোঁজ শুরু করি। দেখা যায়, ২০১৮ সালে, অসমের নাগরিক পঞ্জীকরণের সময়ে এই বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল। সেই সময়, টাইমস অফ ইন্ডিয়াতে প্রকাশিত একটি খবরে দাবি করা হয়েছিল, উইকিপিডিয়ায় মাত্র তিনদিনের মধ্যে মোট ৩৭বার বিপ্লব দেবের জন্মস্থান পরিবর্তন করা হয়েছে। কখনও বলা হচ্ছিল, বিল্পব দেব ত্রিপুরার গোমাটি জেলায় জন্মগ্রহণ করেছেন। আবার, কখনও বলা হয়েছে, বিপ্লবের দেবের জন্ম বাংলাদেশের চাঁদপুরে। এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে বিপ্লব দেবের মিডিয়া পরমার্শদাতা সঞ্জয় মিশ্র তাদের জানিয়েছেন, “বিপ্লব দেব ১৯৭১ সালের ২৫ নভেম্বর ত্রিপুরার গোমাটি জেলায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন।”

সঞ্জয় মিশ্রের এই সংক্রান্ত একটি সাখ্যাৎকার ইউটিউবেও রয়েছে:

২০১৮ সালের মার্চ মাসে বিপ্লব দেব ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার ঠিক পরেই ইকোনমিক টাইমস সংবাদসংস্থা পিটিআইয়ের একটি খবর প্রকাশ করে। সেই খবরেও বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের ২৫ নভেম্বর ত্রিপুরার গোমাটি জেলার রাজধর নগর গ্রামে এক মধ্যবিত্ত পরিবারে বিপ্লব দেবের জন্ম হয়েছিল। তাঁর বাবা হারাধন দেব সেই অঞ্চলের জনসঙ্ঘের নেতা ছিলেন।

২০১৮ সালের মার্চ মাসে ইন্ডিয়া টুডের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের চাঁদপুরের কাছুয়া উপজেলাতে বিপ্লব কুমার দেবের রক্তের সম্পর্ক রয়েছে। তাঁর বাবা ও মা মীনা রানী দেব একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতে চলে এসেছিলেন। যদিও এই প্রতিবেদনে বিপ্লব দেবের জন্মস্থানের কোনও উল্লেখ নেই।
 
তবে শুধুমাত্র ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নয়, বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমও বিপ্লব দেবের জন্ম বৃত্তান্ত নিয়ে অনুসন্ধান করেছে।

২০১৮ সালের মার্চ মাসের আরও একটি প্রতিবেদনে ঢাকা ট্রিবিউন দাবি করেছে, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময়ে বিপ্লব দেবের হারাধন দেব বাংলাদেশ ত্যাগ করার সময় বিপ্লব দেবের মা গর্ভবতী ছিলেন। কিন্তু বিপ্লব দেবের জন্ম হয় ত্রিপুরায়। এই প্রতিবেদনে ঢাকা ট্রিবিউনের প্রতিবেদক বিপ্লব দেবের কাকা প্রাণধন দেবের সঙ্গে কথা বলেন।

সুতারং, ভারত ও বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রথম শ্রেণীর পত্রিকার প্রতিবেদন থেকে স্পষ্ঠ যে বিপ্লব দেবের জন্ম ভারতে, বাংলাদেশে নয়।