About Me

header ads

ভোটের মরশুমে অক্ষয় কুমারের মুখোমুখি মোদী!

ভোটের মরশুমে একেবারে অন্য মেজাজে ধরা দিলেন নরেন্দ্র মোদী। আগে থেকে ঠিক ছিল, রাজনীতি ও লোকসভা নির্বাচন নিয়ে কোনও কথা বলবেন না। কিন্তু খিলাড়ি অক্ষয়ের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে সেই রাজনীতির প্রসঙ্গই টেনে আনলেন মোদী। লোকসভার লড়াইয়ে তাঁর অন্যতম প্রধান প্রতিপক্ষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ‘মধুর’ সম্পর্কের কথা যেমন জানালেন নমো, তেমনই আবার নাম না করে রাহুল গান্ধীকে কটাক্ষও করলেন। চাওয়ালা থেকে তাঁর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার গল্পও যেমন শোনালেন, তেমনই কীভাবে নিজের রাগ সামলে রাখেন কিংবা অবসর যাপন করেন, সেসব একান্ত ব্যক্তিগত কথাও অকপট খোলসা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

‘কখনও ভাবিনি প্রধানমন্ত্রী হব’
‘‘কখনও ভেবেছিলেন প্রধানমন্ত্রী হবেন?’’ অক্ষয় কুমারের এই প্রশ্ন শুনে মোদী বললেন, ‘‘কখনও ভাবিনি প্রধানমন্ত্রী হব। কোনও চাকরি পেলে মা খুশি হতেন। আনন্দে সকলকে মিষ্টি বিলোতেন। তাছাড়া আমার বাড়িতে কোনও পরম্পরা নেই। যাঁদের বাড়িতে পরম্পরা রয়েছে, তাঁরাই প্রধানমন্ত্রী হওয়ার কথা ভাবতে পারেন’’। এদিন ‘পরম্পরা’ বলতে মোদী গান্ধী পরিবারের দিকেই আঙুল তুলেছেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

অবসর নেওয়ার পর কী করবেন?
প্রধানমন্ত্রী বললেন, ‘‘কয়েকটা অভ্যেস ছিল আমার যা এখন করা খুব মুশকিল। ভোর ৫টায় উঠে চা খেতে ভালবাসি। সন্ধ্যায় আরেক কাপ চা। খোলা আকাশে বসতে পছন্দ করি, বন্ধ ঘরের মধ্যে না। কখনও দীপাবলি উদযাপন করিনি। ৩-৪ দিন দূরে চলে যেতাম এবং ওই দিনগুলো গোটা দুনিয়ার সঙ্গে কোনও যোগাযোগ রাখতাম না। ওই দিনগুলো আমায় অনেক শক্তি দিয়েছে। যেদিন আমি অবসর নেব, সেদিন আবার ওই পুরনো দিনে ফিরব’’।

‘মমতা কুর্তা-মিষ্টি পাঠান’
‘‘বিরোধী দলের নেতাদের সঙ্গে আপনার সম্পর্ক কেমন? কারও সঙ্গে বন্ধুত্ব রয়েছে’’? খিলাড়ির এহেন প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে হাসতে হাসতে ফুরফুরে মেজাজে মোদী বলেন, ‘‘এখন যদি সব বলি, তাহলে ভোটের সময় আমার হয়রানি হবে, লোকসানও হতে পারে। মমতাদি আজও বছরে একটা-দুটো কুর্তা নিজে পছন্দ করে পাঠান আমায়। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলার সময় বাঙালির মিষ্টি নিয়ে কথা হয়। উনি ঢাকা থেকে আমার জন্য বিশেষ বাঙালি মিষ্টি পাঠান। এটা জানতে পেরে মমতাদিও আমায় বছরে এক-দু’বার বাঙালির মিষ্টি পাঠান’’। মোদী আরও বলেন, ‘‘বিরোধী দলের নেতাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব রয়েছে। আমরা বছরে এক-দু’বার খাওয়া-দাওয়াও করি। অনেক আগের কথা, তখন আমি মুখ্যমন্ত্রী ছিলাম না। কোনও একটা কাজে সংসদে গিয়েছিলাম। গুলাম নবি আজাদের সঙ্গে আড্ডা মারছিলাম। আমাদের একসঙ্গে আড্ডা মারতে দেখে অবাক হয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেছিলেন, আপানার একসঙ্গে আড্ডা মারছেন! এই কথায় গুলাম নবি দারুণ উত্তর দিয়েছিলেন, ”আপনারা বাইরে থেকে যা ভাবেন তা নয়। সকলেই পরিবারের মতো’’।

‘এখনও মা টাকা পাঠান’
মায়ের কথা বলতে গিয়ে মোদী বললেন, ‘‘যদি আমি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর বাড়ি ছাড়তাম, তাহলে হয়তো মাকে খুব মিস করতাম। কিন্তু আমি অনেক ছোটোবেলায় ঘর ছেড়েছি…আজ যখন মাকে ফোন করি, তখন মা বলেন, কেন আমি কথা বলে আমার সময় নষ্ট করছি। আজ আমি খুব ব্যস্ত, ওর জন্য একদম সময় নেই’’। এখনও মা তাঁর ছেলেকে টাকা পাঠান। হ্যাঁ, এখনও মোদীকে টাকা পাঠান তাঁর মা হীরাবেন মোদী। এ প্রসঙ্গে মোদী বলেন, ‘‘মা এখনও আমায় টাকা পাঠায়। এখনও মা আমার থেকে টাকা নেয় না। মায়ের দরকারই নেই আমার টাকার। তার মানে এই নয় যে মায়ের প্রতি আমার ভালবাসা নেই। এই গোটা দেশ আমার কাছে পরিবার।’’।

‘এখন সিনেমা দেখার সময় পাই না’
প্রধানমন্ত্রী সিনেমা দেখেন? মোদী বললেন, ‘‘গ্রামে আগে সিনেমা দেখতাম। গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন অমিতাভ বচ্চনের পা দেখেছি। অনুপম খেরের ‘অ্যা ওয়েনেসডে’ দেখেছি। কিন্তু এখন একেবারে সময় পাই না সিনেমা দেখার’’।

‘ছোটবেলায় লাইব্রেরিতে যেতাম’
কেমন ছিল মোদীর ছেলেবেলা? প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘শৈশবে গ্রন্থাগারে যেতাম। বড় বড় মানুষদের সম্পর্কে পড়তাম। ইউনিফর্মধারীদের শ্রদ্ধা দেখাতাম। এরপর গুজরাতের একটি সেনা স্কুল নিয়ে পড়াশোনা করি। আমার এলাকায় একজন স্কুলের প্রিন্সিপাল ছিলেন। ওঁর সঙ্গে দেখা করেছিলাম। উনি খুব ভালবাসতেন আমায়। জীবন সম্পর্কে অনেক কিছু বুঝিয়েছিলেন। এরপর হিমালয়ে গিয়েছিলাম। যখন তরুণ ছিলাম, তখন মনে অনেক প্রশ্ন ভিড় করে থাকত। নিজে নিজেই উত্তর খোঁজার চেষ্টা করতাম।’’

‘টিম গেম খেলতে ভালবাসি’
স্পোর্টস ভালবাসেন মোদী? অক্ষয়কে নমো বললেন, ‘‘টিম গেম খেলতে ভালবাসি। টিম গেমের মাধ্যমে অনেক কিছু শেখা যায়। ডাঙ্গুলিও খেলেছি। আমার বাড়ির সব পোশাক সাফাই করতাম আমি। সে কারণে পুকুরে যেতাম। পুকুরে সাঁতার কাটতাম। সাঁতার কাটতাম বলেই আমার চেহারা এখনও সুঠাম’’।

‘চা বিক্রি করে অনেক কিছু শিখেছি’
আমি যখন চা বিক্রি করতাম, তখন বহু মানুষের সঙ্গে মিশেছি। মানুষের আচার-আচরণ সম্পর্কে জেনেছি। আমার গ্রামের পাশ দিয়ে মালবাহী গাড়ি যেত। যাঁরা গরু, মোষ নিয়ে যেতেন, তাঁরা ৩-৪ দিন স্টেশনে থাকতেন। তাঁদের চা দিতাম। ওঁদের কথা শুনতাম। এভাবেই ভাল করে হিন্দি বলতে শিখেছি।

রেগে গেলে কী করেন?
যদি এমন কিছু ঘটে, যা আমার পছন্দ না, তখন আমি একা বসে থাকি। কাগজে সবটা লিখি। আমি যা করেছি, তা লিখি, কেন করেছি সেটা লিখি। তারপর কাগজটা ছুড়ে ফেলে দিই। আর তারপর পড়ি না। এভাবেই আমি রাগ কমাই।

‘মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর আমার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট দেখভাল করতেন কর্মীরা’
যখন মুখ্যমন্ত্রী হলাম, আমার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট দেখভাল করতেন আমার কর্মীরা…একজন শীর্ষ আধিকারিক বলেছিলেন যে, সব টাকা এভাবে ছেড়ে দেওয়া ভাল না। তাই ২১ লক্ষ টাকা পিওন ও সচিবালয়ের গাড়িচালকদের মেয়েদের পড়াশোনার জন্য দিলাম।

‘তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টা ঘুমোই’
আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু বারাক ওবামা আমায় জিজ্ঞেস করেন, কেন এত কম ঘুমোই? আমি বলেছি, এটা আমার কাজের প্রতি ভালবাসা। কিন্তু কম ঘুমোনো ঠিক নয়। আমি তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টা ঘুমোই। ভাল ঘুমোই’’।