About Me

header ads

মহাকাশে মহাযজ্ঞ; দেশবাসীর উদ্দেশে ‘মিশন শক্তি’-র ঘোষণা

ভারত এবার (মহা) জগতসভায় শ্রেষ্ঠ আসন লবে…। সেরকমই অন্তত মনে হচ্ছে নরেন্দ্র মোদীর বুধবার দুপুরের ঘোষণায়। এ দিন জাতির উদ্দেশে জানালেন দেশের প্রথম সফল স্যাটেলাইট বিরোধী অস্ত্রের পরীক্ষার কথা। নরেন্দ্র মোদী জানালেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চিন এবং রাশিয়ার পরে ভারত চতুর্থ দেশ, যারা সফল ভাবে এই ‘মিশন শক্তি’ পরীক্ষা করল।

মাত্র তিন মিনিটের মধ্যে বিজ্ঞানীরা ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছেন মহাকাশের বেশ কিছু কৃত্রিম স্যাটেলাইট। ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ৩০০ কিলোমিটারের মধ্যে কোনও কৃত্রিম উপগ্রহ থাকলে তা গুঁড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে ভারতের কাছে। ‘মিশন শক্তি’ সফল হওয়ায় সুনিশ্চিত করা গিয়েছে তা। ঘোষণা করার সময় প্রধানমন্ত্রী বললেন, “এটি আমাদের কাছে খুবই গর্বের মুহূর্ত”।

কক্ষপথে থাকা অন্য উপগ্রহের কার্যক্ষমতা নষ্ট করতে অথবা কৃত্রিম উপগ্রহ ধ্বংস করার লক্ষ্যেই এই পরীক্ষা। এখনও পর্যন্ত অ্যাসাট (অ্যান্টি স্যাটেলাইট ওয়েপন) ক্ষমতাসম্পন্ন চতুর্থ দেশ ভারত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১৯৫৮ সালে এই প্রযুক্তি প্রথম আবিষ্কার করেছিল। তারপর ১৯৬৪ সালে ততকালীন সোভিয়েত রাশিয়ার কাছে এই প্রযুক্তি আসে। চিন এই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে ২০০৭ সাল থেকে। ২০০৭ সালে চিনের এই পরীক্ষা আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র সমালোচিত হয়েছিল। চিনকে আশ্বস্ত করতে হয়েছিল, মহাকাশে সশস্ত্র কোনও যুদ্ধ ঘটাবে না তারা।
 
“অ্যাস্যাট মিসাইল ভারতের মহাজাগতিক কর্মকাণ্ডকে আরও শক্তিশালী করবে। সারা পৃথিবীকে আমি আশ্বস্ত করছি, এই ক্ষমতা আমরা দেশের নিরাপত্তা ব্যতীত অন্য কোনও কারণে কোনও দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহার করব না। এই পরীক্ষাটি আন্তর্জাতিক চুক্তি লঙ্ঘনকারীও নয়”, জানিয়েছেন মোদী।
 
তিনি আরও বললেন, “আজকে আমাদের নিজেদেরই একাধিক ক্ষেত্র, যেমন কৃষি, বিপর্যয় মোকাবিলা, যোগাযোগ আবহাওয়া প্রভৃতি ক্ষেত্রে বহু কৃত্রিম উপগ্রহ কাজ করে চলেছে”।

ডিআরডিও থেকে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ এই ঘোষণা করা হয়েছিল ভারত এমন এক প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে, যার সাহায্যে শত্রুপক্ষের স্যাটেলাইটকে ধ্বংস করে ফেলা সম্ভব।