About Me

header ads

নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল মানবে না কংগ্রেস: রাহুল গান্ধী।

২৫ বছরের বাম শাসনের অবসানে ২০১৮ সালে ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি’র স্লোগান ছিল, চলো পাল্টাই। এবার কংগ্রেস বলছে ‘‌ চলো ওল্টাই’‌।

আর এই ‘চলো উল্টোই’ শ্লোগানকে সফল করতে আজ আগরতলায় ছুটে এলেন কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি রাহুল গান্ধী। লোকসভা ভোটের মুখে গতকাল ত্রিপুরায় বিজেপিতে বড় ধরনের ভাঙ্গন ধরিয়েছিলো কংগ্রেস । গতকাল বিজেপি দলের সহ-সভাপতি হেভিওয়েট নেতা বলে পরিচিত সুবল ভৌমিক যোগ দিয়েছিলেন কংগ্রেসে। ঠিক এর একদিন পর আজ বুধবার ত্রিপুরা সফরে এলেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী।

গতকাল মঙ্গলবার মণিপুরে শুরু হয়েছিল কংগ্রেস সভাপতির উত্তর-পূর্ব ভারতে লোকসভার নির্বাচনী প্রচার । গতকাল রাহুল গান্ধী মণিপুরে দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। গতকাল দুপুরে আগরতলায় কংগ্রেস ভবনে প্রদেশ বিজেপির সহসভাপতি সুবল ভৌমিক যোগ দিয়েছিলেন কংগ্রেসে। একই সঙ্গে কংগ্রেসে যোগ দিয়েছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী প্রকাশ চন্দ্র দাশ, সিপিএমের কাউন্সিলর দেবাশিস সেনও। 

আজ খুমলুঙে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীকে স্বাগত জানাতে গিয়ে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি প্রদ্যোতকিশোর দেববর্মণ বলেন , রাজ্যে এবার ‘চলো উল্টাই’ হবে। তিনি উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে বলেন আমাদের মাঝখানে আজ উপস্থিত রয়েছেন ভারতের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী রাহুল গান্ধী । রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রী হলে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল প্রত্যাহার করা হবে ।

প্রদ্যুত বলেন ত্রিপুরায় বিজেপি’র প্রায় সব নেতা–মন্ত্রীই কংগ্রেস ছেড়ে ‘সিপিএমকে হারাতে’ বিজেপি–তে যোগ দিয়েছিলেন। এখন অনেকেই ঘরে ফিরতে মরিয়া। তাদের সকলের মোহভঙ্গ হয়েছে । রাজ্যের লোকসভার দুটি আসনে কংগ্রেস দলের প্রার্থীদের জয় সুনিশ্চিত । 

প্রসঙ্গত, ২৫ বছরের কমিউনিস্ট শাসনের অবসানে গত বছর ত্রিপুরায় বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির স্লোগান ছিল, ‘চলো পাল্টাই’। এবার কংগ্রেসের স্লোগান, ‘চলো উল্টাই।’

জনসমাবেশে ভাষণ রাখতে গিয়ে আজ কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে তীব্র আক্রমণ শানালেন । লোকসভা ভোট যতই এগিয়ে আসছে ততই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আক্রমণের ঝাঁঝ বাড়াচ্ছেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী৷
রাফাল চুক্তির নামে ৩০ হাজার কোটি টাকা চুরি হয়েছে। সোজা কথা, চৌকিদার চোর। তিনি বলেন, “ত্রিশ হাজার কোটি টাকা চুরি হয়েছে। মনে রাখবেন, চোর যে পয়সা নিয়েছে, সেটা আসলে আপনাদের, অন্য কারও না। সোজা কথা, চৌকিদার চোর। যা বলার বলুক (বিজেপি), আমি প্রমাণ করে দেব, ভারতের প্রধানমন্ত্রী অনিল আম্বানির বন্ধু এবং তাঁকে দিয়ে চুরি করিয়েছেন। 

রাফাল ‘দুর্নীতি’ নিয়ে মোদীকে বারংবার আক্রমণ করেন রাহুল। ‘প্রত্যয়ী’ রাহুল এ বিষয়ে নিজের পূর্বের অবস্থান থেকে এক চুল না নড়ে বরং যেভাবে আজকে আক্রমণকে আরও উচ্চগ্রামে নিয়ে গেলেন, তাতে রীতিমতো আলোড়িত রাজনৈতিক মহল। আগরতলায় রাহুলের ভাষণে স্পষ্ট লোকসভা নির্বাচনে এই রাফালই হতে চলেছে অন্যতম বড় ইস্যু।

এদিন নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল সহ একাধিক বিষয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার গোটা উত্তরপূর্বে আগুন জ্বালিয়েছে। ভালবাসা দিয়ে উত্তরপূর্ব জয় করবে কংগ্রেস। 

বিজেপি এবং আরএসএসের ঘৃণা বিরুদ্ধে ভালবাসা দিয়ে লড়বে কংগ্রেস। ২০১৯-এর সাধারণ নির্বাচন মতাদর্শের লড়াই হতে চলেছে। বিজেপি চাইছে বিভাজনের রাজনীতি করে দেশকে ভাগ করতে। দেশকে ঐক্যবদ্ধ রাখার জন্য লড়াই করছে কংগ্রেস। বিজেপির কাছে দেশ একটা পণ্য। কিন্তু কংগ্রেসের কাছে দেশ হচ্ছে জনগণের স্রোত।

প্রধানমন্ত্রী কৃষকদের ঋণ মকুব না করে শিল্পপতিদের ঋণ মকুব করেছেন। ধনীদের উপকৃত করছে বিজেপি। অন্যদিকে কংগ্রেস সবার ন্যায় বিচারের পক্ষে। কৃষক আত্মহত্যা করলে বা নোটবন্দির ফলে ব্যাঙ্কে লাইনে দাঁড়ানোর মানুষের জন্য চিন্তিত নয় বিজেপি।” 

শুধু ত্রিপুরাতেই নয়, গোটা উত্তর-পূর্ব ভারতের ৮ রাজ্যেই কংগ্রেস ভালো ফল করবে বলে দাবি রাহুল গান্ধীর। জনসভায় তিনি বলেন, ‘আমার হৃদয়ে উত্তর-পূর্ব ভারতের জন্য রয়েছে আলাদা ভালোবাসা। এখানকার সমস্যা বোঝে একমাত্র কংগ্রেস। তাই ক্ষমতায় এলে নাগরিকত্ব সংশোধন বিল বাতিল করা হবে।’ সব মিলিয়ে উত্তর-পূর্ব ভারতে নিজেদের ভালো ফল করতে মরিয়া কংগ্রেস, এটা আজ রাহুলের আক্রমণাত্মক ভাষণ থেকেই স্পষ্ট বোঝা গেছে । জনসভায় রাহুলের সভামঞ্চে উপস্থিত ছিলেন সর্বভারতীয় সম্পাদক ভূপেন বোরা , প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সমীর রঞ্জন বর্মণ , প্রাক্তন দুই প্রদেশ সভাপতি গোপাল রায় ও বীরজিত সিনহা , গতকাল বিজেপি ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দেওয়া হেভিওয়েট নেতা সুবল ভৌমিক সহ আরো অনেকে।

আজকে রাহুল গান্ধীর জনসভাকে ঘিরে রাজ্যে প্রদেশ কংগ্রেস দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা গেছে। রাহুল গান্ধী রাজধানী আগরতলা থেকে কিছুটা দূরে পশ্চিম জেলার খুমলুং এলাকায় জনসভায় বক্তব্য রাখেন। তাই আগরতলা বিমানবন্দর থেকে শুরু করে আগরতলা শহর এবং খুমুলুং এলাকার সড়কের দু’দিকে কংগ্রেস দলের পতাকা, রাহুল গান্ধী ও ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি প্রদ্যুৎ কিশোর দেব বর্মণের ছবি সম্বলিত পোস্টার-ব্যানার দিয়ে সাজানো হয়েছিলো । অপরদিকে খুমলুং’র সভাস্থলের নিরাপত্তার দায়িত্বে বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী এসপিজি মোতায়েন করা হয়েছিল। এর বাইরে ছিলো ত্রিপুরা পুলিশ এবং টিএসআর বাহিনী। সবমিলিয়ে লোকসভা নির্বাচনের আগে ত্রিপুরায় আজকের রাহুল গান্ধীর জনসভা ১০০ শতাংশ সফল বলে মন্তব্য রাজ্যের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ।