About Me

header ads

সমঝোতা এক্সপ্রেস বিস্ফোরণ কাণ্ডে চার অভিযুক্তই খালাস!

সমঝোতা এক্সপ্রেসে বিস্ফোরণের ঘটনায় চারজন অভিযুক্তকেই মুক্তি দিয়ে দিল এনআইএ-র বিশেষ আদালত। পাঁচকুলায় আদালত পাকিস্তানি সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণের আবেদনও নাকচ করে দিয়েছে। পাকিস্তানের বাসিন্দা রহিলা ওয়াকিল গত ১১ মার্চ তাঁর আইনজীবী মোমিন মালিকের মাধ্যমে এই আবেদন করেছিলেন।

এনআইএ-র কৌঁশুলি আর কে হাণ্ডা বলেছেন, এনআইএ-র বিশেষ আদালত সিদ্ধান্তে এসেছে যে তদন্তকারী সংস্থা কোনও রকম ষড়যন্ত্রের অভিযোগ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং অভিযুক্তদের বেনিফিট অফ ডাউট দেওয়ার কথা বলেছে।

২০০৭ সালের সমঝোতা এক্সপ্রেসে আইইডি বিস্ফোরণে অন্তত ৬৮ জনের মৃত্যু হয়। এঁদের মধ্যে ৪৩ জন পাক নাগরিক। এনআইএ তাদের চার্জশিটে অভিযুক্ত হিসেবে ৮ জনের নাম উল্লেখ করেছিল।

এদের মধ্যে নবকুমার সরকার ওরফে স্বামী অসীমানন্দ, লোকেশ শর্মা, কমল চৌহান এবং রাজিন্দর চৌধরি আদালতের সামনে হাজির হয়। হামলার মূল চক্রী সুনীল জোশী ২০০৭ সালের ডিসেম্বর মাসে নিহত হয়।

অন্য অভিযুক্ত রামচন্দ্র কালসাংরা, সন্দীপ ডাঙ্গে এবং অমিত এখনও পলাতক এবং তাদের অপরাধী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

২০১০ সাল থেকে পাঁচকুলার এনআইএ আদালতে এই মামলা চলছে এবং এই আদালতে ২৯৯ জন সাক্ষীর মধ্যে মোট ২২৪ জন সাক্ষ্যদান করেছেন।

সমঝোতা এক্সপ্রেস, বা আটারি এক্সপ্রেস প্রতি বুধ ও রবিবার ভারতের দিল্লি এবং আটারি থেকে পাকিস্তানের লাহোর পর্যন্ত যাতায়াত করে।


সমঝোতা বিস্ফোরণ মামলা: এনআইএ-র দিকে আঙুল প্রাক্তন তদন্তকারী আইপিএসের!


সমঝোতা এক্সপ্রেস মামলা ফাঁস করেছিলেন প্রাক্তন আইপিএস অফিসার বিকাশ নারায়ণ রাই। বুধবার সমঝোতা বিস্ফোরণ মামলায় সব অভিযুক্ত ছাড়া পেয়ে যাওয়ার পর তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ-র বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন তিনি। বললেন, এই খালাসের ঘটনায় দায়ী এনআইএ।

১৯৭৭ সালের আইপিএস ব্যাটের অফিসার বিকাশ রাই। তাঁর নেতৃত্বেই ইন্দোরের এক বাজার থেকে খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল বিস্ফোরণে ব্যবহৃত ব্যাগ। এদিন তিনি বলেন, যখন থেকে বাদীপক্ষ মামলা শেষ করতে চাইছিল তখন থেকেই অভিযুক্তদের খালাস পাওয়া নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল।

হরিয়ানা পুলিশের আইন শৃঙ্খলা বিভাগের প্রাক্তন ডিজি বেশ কয়েকটি মামলায় এনআইএ-র ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন। এর মধ্যে রয়েছে ২০০৭ সালের আজমীর, মক্কা মসজিদ এবং মালেগাঁও বিস্ফোরণ মামলা। তাঁর বক্তব্য, এ সবকটা মামলা এক সূত্রে বাঁধা, একই গোষ্ঠী এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

মালেগাঁও মামলায় এক সরকারি আইনজীবীর কথা উল্লেখ করলেন নারায়ণ রাই, যে আইনজীবী তাঁর বয়ানে জানিয়েছিলেন, এনআইএ ওই মামলায় তাঁকে নরম হতে বলেছিল। তিনি বলছিলেন সরকারি আইনজীবী রোহিণী সালিয়ানের কথা, ২০১৫ সালে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে দেওয়া সাক্ষাৎকারে যিনি জানিয়েছিলেন মালেগাঁও বিস্ফোরণ মামলায় তাঁকে নরম হতে বলেছে এনআইএ। পরে রোহিণীকে এ মামলা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তার পর এনআইএ সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে লঘু চার্জশিট দাখিল করে এবং মোকা আইনের আওতায় আনা অভিযোগ থেকে নাম সরিয়ে দেয়।

নারায়ণ রাই জানালেন তিনি মামলার রায় পড়েননি। তিনি বলেন, “কী ভাবে মক্কা মসজিদ, আজমীর এবং সমঝোতা মামলায় সব অভিযুক্তরা ছাড়া পেয়ে গেল সে ব্যাপারে এনআইএ-র কাছে ব্যাখ্যা থাকা উচিত। এনআইএ যে প্রমাণ সংগ্রহ করেছিল এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যা সাক্ষ্য এসেছিল, তা থেকে স্পষ্ট যে তথ্য প্রমাণ এবং সাক্ষ্য তা আদালতে দাঁড়ায়নি এবং এনআইএ-র কাহিনি গ্রহণযোগ্য হয়নি।” তিনি আরও বলেন, “যদি এনআইএ-র কাছে অন্য কোনও তথ্যপ্রমাণ থেকে থাকে তাহলে তা আদালতকে জানানো উচিত। আমার মনে হয় তা করা হয়নি। এসব থেকে এনআইএ-র ভূমিকা প্রমাণিত হয়। স্পষ্টতই ওরা তদন্তটা ঘেঁটে ফেলেছে। যদি তোমরা খালাসের বিরুদ্ধে আবেদন না করো, তাহলে তোমরা তোমাদের মামলা সম্পর্কে নিশ্চিত নও। আর যদি তোমরা তোমাদের মামলা নিয়ে নিশ্চিত না হও, তাহলে তোমরা সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট ফাইল করছ না কেন?”

“বছরের পর বছর ধরে মামলা চলেছে। তদন্তকারী সংস্থার অবস্থান বদল ঘটেনি। এনআইএ এখনও মনে করে যারা গ্রেফতার হয়েছে এবং যাদের বিরুদ্ধে চার্জ আনা হয়েছে তারাই অভিযুক্ত। এনআইএ তদন্তের ধারাতেও কোনও পরিবর্তন আনা হয়নি। যদিও সরকার বদলেছে, বদলেছে এনআইএ-র ডিজিও।”

সমঝোতা বিস্ফোরণ মামলায় পাক মহিলার আবেদন খারিজ আদালতে!


বুধবার সমঝোতা এক্সপ্রেস বিস্ফোরণ মামলায় সব অভিযুক্তকে খালাস দেওয়ার আগে বিশেষ এনআইএ আদালত এক পাক নাগরিকের আবেদন খারিজ করে দিয়েছিল। ওই আবেদনে এই মামলায় পাকিস্তানি সাক্ষীদের তলব করার কথা বলা হয়েছিল। এক স্থানীয় আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে এই আবেদন করা হয়। আদালতের বক্তব্য, “এটা জনপ্রিয়তা কুড়োনোর চেষ্টা ছাড়া আর কিছু নয়… এবং ব্যাপারটার মধ্যে প্রক্রিয়া পিছিয়ে দেওয়ার চেষ্টাও রয়েছে।”

গত ১১ মার্চ আদালত যখন রায় প্রদান করবে বলে মনে করা হচ্ছিল, সেসময়ে আইনজীবী মোমিন মল্লিক একটি আবেদন দাখিল করেন। তিনি আবেদন করেন বিস্ফোরণে নিহত মুহম্মদ ভকিলের কন্যা, পাক পঞ্জাবের অন্তর্গত হাফিজাবাদের বাসিন্দা রাহিলা ভকিলের হয়ে। এ ব্য়াপারে এনআইএ এব অভিযুক্তদের মতামত জানতে চায় আদালত। এনআইএ জানায় এর আগে তিন বার পাক হাইকমিশনের মাধ্যমে ১৩ জন পাকিস্তানী সাক্ষীকে তলব করা হয়েছে, কিন্তু কেউই আদালতে হাজিরা দেননি। একই সঙ্গে এনআইএ জানায় রাহিলা ওয়াকিলের আবেদনের বিশ্বাসযোগ্যতাও নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে, কারণ যেসব সাক্ষীর নাম আগে উল্লিখিত হয়েছে, সে তালিকায় রাহিলার নাম নেই, এমনকি হরিয়ানা পুলিশ সহ তদন্তকারী সংস্থাগুলি তাঁর সাক্ষ্যও গ্রহণ করেনি।

আদালত তার রায়ে বলেছে “আবেদনে তথাকথিত আবেদনকারী রাহিলা ভকিলের স্বাক্ষর নেই, এবং এনআইএ যে ১৩ জন পাকিস্তানি সাক্ষীর কথা উল্লেখ করেছে, তাতেও নাম নেই তাঁর।” আদালত বলেছে “ঘটনার সময়ে রাহিলা পাকিস্তানে ছিলেন। সাক্ষীদের মধ্যে, আব্দুল জাভেদ, হুকমদিন, মহম্মদ আসিফ, ইমরান খান ট্রেনে উপস্থিত ছিলেন না এবং এঁদের কেবল মাত্র মৃতদেহ চিহ্নিতকরণ ছাড়া অন্য কোনও বিষয়ে যুক্ত নন।”

“আব্দুল কৈয়াম, কামরুদ্দিন, অশোক কুমার, রমেশ কুমার, মহম্মদ নাদিম, এবং মহম্মদ শাকিল- এই সাক্ষীরা ট্রেনে ছিলেন এবং জানিয়েছেন যে, তাঁরা কী ভাবে এ ঘটনা ঘটেছে সে ব্যাপারে কিছু জানেন না।”

আদালত বলেছে, “সুতরাং, শুনানির সাপেক্ষে, এই বিবৃতির বিচারবিভাগীয় নোটিস গৃহীত হল… বাদী পক্ষের মামলায় এ বিষয়টি অতিরিক্ত কোনও সাহায্য করবে না। আদালতের মতে, রাহিলা ভকিলের তরফ থেকে আবেদন মহৎ কাজে সাহায্যের নামে জনপ্রিয়তা কুড়োনোর চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয় এবং নথি থেকে স্পষ্ট দেখা যাবে যে এ আবেদনের বিশ্বাসযোগ্যতা নেই এবং এটা গোটা প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করার চেষ্টা মাত্র, যার কারণ একমাত্র সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিই জানেন।”