About Me

header ads

নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল ২০১৬ : জেনে নিন কি রয়েছে এই বিলে?

গত ৮ জানুয়ারি, ২০১৯ লোকসভায় পাশ হয়ে গেল নাগরিকত্ব বিল। লোকসভায় ভোটাভুটির মাধ্যমে এই বিল পাশ হয়। গতকাল লোকসভায় এই বিল পাশ হওয়ার পর এই বিল পাশ হওয়ার জন্য যাবে রাজ্যসভায়। নাগরিকত্ব বিল সম্পর্কে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেন, “সমগ্র দেশের কথা ভেবেই বিল। বিশেষ করে উত্তর-পূর্ব ভারত ও আসামের কথা ভাবা হয়েছে এই বিলে।”
লোকসভায় এই বিল পাস হওয়ার সাথে সাথেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জ্বলছে আগুন। কিন্তু এই বিল নিয়ে কেন বিরোধীদের এত ক্ষোভ? চলুন দেখে নেওয়া যাক এই বিলের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য বিষয়।
  • হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি, শিখ এবং খ্রিস্টান এমন অমুসলিম সম্প্রদায়ের এই বিলের আওতায় রাখা হয়েছে।
  • এই বিল যখন আইনে পরিণত হবে তখন প্রতিবেশী দেশগুলির থেকে ধর্মীয় হিংসার শিকার হয়ে কেউ ভারতে এলে শরণার্থী হিসেবে ঠাঁই পাবেন। মিলবে নাগরিকত্ব।
  • এই বিল আইনে পরিণত হলে বাংলাদেশের বেশিরভাগ হিন্দুরা আসাম এবং উত্তর-পূর্ব ভারতে রাজ্যগুলিতে ভীর করবেন বলে মত বিভিন্ন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।
  • ১৯৭১ সালের মার্চের পর এলেও বাংলাদেশের হিন্দুরা ভারতে এলেও শরণার্থী তকমা পেয়ে নাগরিকত্ব লাভ করবেন।
  • নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল (২০১৬) আইনে পরিণত হলে পরিবর্তন হয়ে যাবে ১৯৫৫ সালের ভারতীয় নাগরিকত্ব আইন।
  • প্রতিবেশী দেশগুলিতে ধর্মীয় হিংসার শিকার হয়ে কেউ ভারতে এলে আশ্রয় দেবে ভারত। হতে হবে ২০১৪ সালের ৩১শে ডিসেম্বরের আগে।
  • হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন, শিখ এবং পার্সি ধর্মাবলম্বী মানুষেরা এই আইনের সুবিধা ভোগ করবেন। এই আইনের আওতায় পড়বে না মুসলমান ধর্মালম্বীরা।
বাংলাদেশ, আফগানিস্তানের এবং পাকিস্তানের অমুসলিম শরণার্থীদের ক্ষেত্রে ভারতে নাগরিকত্ব পেতে এই বিল আইনে পরিণত হলে সম্পূর্ণ সাহায্য মিলবে।
এই বিল পাশ হওয়ার সাথে সাথে উত্তর পূর্ব ভারতের রাজনৈতিক দলগুলি কড়া বিরোধিতা করে। বিল পাশের সাথে সাথে আসামের এনডিএ-এর শরিক দল অসম গণ পরিষদ এনডিএ ত্যাগ করেছে বলে জানা গিয়েছে। এই রাজ্যের বেশিরভাগ রাজনৈতিক দলের বক্তব্য এই বিল আইনে পরিণত হলে বাংলাদেশ থেকে বহু শরণার্থী আসাম এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের বেশকিছু রাজ্যে এসে তারা ভারতীয় নাগরিকত্ব লাভ করবে।